English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ব্রাজিলের রাজনীতি

লুলার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা বাতিল

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে পিটি

  • কালের কণ্ঠ ডেস্ক   
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা দুর্নীতির দায়ে সাজা ভোগ করতে থাকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা চলছে, সেটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন নির্বাচনী আদালত। গত শনিবার বিশেষ অধিবেশনে এ আদালত লুলার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা বাতিল করে দেন। আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবে বলে জানিয়েছে তাঁর দল ও আইনজীবীরা।

উচ্চপর্যায়ের সাত সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী আদালত শনিবার লুলার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা বাতিল করে দেন। আদালতের সাত বিচারকের ছয়জনই তাঁর প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার বিরুদ্ধে রায় দেন।

নির্বাচনী আদালতের এ রায়ের পর ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি) যুদ্ধ করে হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের নেতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে। এ ব্যাপারে দেওয়া বিবৃতিতে দলটি বলে, আইন ও ব্রাজিল স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে লুলার যে অধিকার আছে, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আদালতের কাছে সব রকম আবেদন জানাব। শুধু আইনি পন্থায় নয়, আমরা লুলার পক্ষে রাস্তায় লড়ব, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, বিবৃতিতে এমন ঘোষণাও দেয় পিটি। এ ছাড়া লুলার আইনজীবীরা নির্বাচনী আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি বলছে, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত লুলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা যাবে না, কারণ সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর করা আপিলের বিচার চলছে। কমিটির সদস্য অলিভিয়ের দি ফ্রুভিলের মতে, জেলে থাকা সত্ত্বেও লুলাকে নির্বাচনী প্রচার চালাতে বাধা দেওয়া যাবে না।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির এ নির্দেশনা মানার ব্যাপারে ব্রাজিলের কৌশলগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দেশটির সরকার জাতিসংঘের এ নির্দেশনাকে সুপারিশ অ্যাখ্যা দিয়ে বলছে, এটা মানার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ব্রাজিলের নেই।

সাবেক ইউনিয়ন নেতা লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে লাতিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশটি চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি অর্জন করে, যার জেরে ৮৭ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রেসিডেন্সি ছাড়তে পেরেছিলেন এই পিটি নেতা।

ব্রাজিলের দুইবারের এ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে করা প্রথম আপিলে গত জানুয়ারিতে হেরে যান ৭২ বছর বয়সী এ নেতা। বর্তমানে তিনি ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছেন, নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ ঠেকাতে এ রকম একটি মামলা দিয়ে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি মামলা চলছে।

দুর্নীতির দায়ে লুলা সাজা ভোগ করছেন বটে, তবে এখনো তিনি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। নির্বাচনী জরিপ বলছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থী জেয়ার বলসোনারোর চেয়ে লুলার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ। কিন্তু জনপ্রিয়তায় একেবারে তলানিতে আছেন আরেক নেতা ফার্নান্দো হাদ্দাদ। লুলা যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তবে এই হাদ্দাদের প্রতিই তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

দেশে দেশে- এর আরো খবর