English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সংস্কৃতির উজ্জ্বল মুখ

  • মীর হুযাইফা আল মামদূহ   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

২০১১ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও রাগীব রহমানের মনে বিজ্ঞানের প্রতি ভালোলাগা কাজ করেনি! মুখস্থ করে ভালো রেজাল্ট করেছিলেন বলে অস্বস্তিতে ভুগেছেন তিনি। গণমাধ্যমে কাজ করার স্বপ্ন দেখায় ভেবেছিলেন, কলেজ পর্যায়ে আর্টসে ভর্তি হবেন। কিন্তু রেজাল্ট ভালো হওয়ায় বিষয় পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তে পরিবার কিংবা শিক্ষককেউ-ই তাঁকে সম্মতি জানাননি। তাই উচ্চ মাধ্যমিকেও বিজ্ঞান নিয়েই পড়তে হয়েছে তাঁকে। এইচএসসির ফল এ প্লাস। তবে এবার ঠিক করলেন, স্বপ্নের সঙ্গে আর আপস নয়! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটে ভর্তির লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিলেন। ইচ্ছা ছিল থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজে পড়বেন। অবশেষে অনেক ভেবে-চিন্তে ভর্তি হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। শুরু থেকেই ক্লাস করতে ভালো লাগল তাঁর। যেকোনো মূল্যে প্রথম হতে হবে কিংবা খুব ভালো ফল করতে হবেএমন ভাবনা অবশ্য মাথায় ছিল না। মনের আনন্দ নিয়েই পড়েছেন। তবু দেখলেন, প্রথম সেমিস্টারে প্রথম হয়ে গেছেন। এবার ভাবলেন, এই ফল ধরে রাখতে হবে। রাখা গেলও। অনার্সের আট সেমিস্টারের শুধু একটিতে দ্বিতীয় হয়েছিলেন, বাকিগুলোতে তিনিই সবার সেরা। অনার্স শেষ করলেন ৩.৭৪ সিজিপিএ নিয়ে। ভালো ফলের জন্য রাগীব বিভাগীয় বৃত্তি পেয়েছেন বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে রয়েছে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া স্মারক বৃত্তি, হাবীবুল্লাহ বাহার স্মৃতি বৃত্তি, সিতারা পারভীন পুরস্কার এবং নভেরা দীপিতা বৃত্তি। আগামী বছর প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাবেনসেটি অনেকটাই নিশ্চিত। শুধু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভালো ফল করেই তৃপ্ত হতে নারাজ রাগীব। মিডিয়ায় কাজ করার আগ্রহ জিইয়ে রেখেছেন। নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সেই প্রচেষ্টায়। তাই প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েই প্রাঙ্গণে মোর নাট্যদলে যোগ দিয়েছেন তিনি। সেখানে একটি কর্মশালায় ভালো ফল করে পেয়ে গেছেন সদস্যপদও। বেশ কয়েক মাস সেই নাট্যদলে কাজ করে তারপর অংশ নিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার পরিচালিত থিয়েটার স্কুলের এক বছরের এক কর্মশালায়। এরপর বেশ কিছু টেলিভিশন নাটক, বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে জাহির করেছেন নিজের প্রতিভা। অন্যদিকে বন্ধুরা মিলে প্রতিষ্ঠা করেছেন নাটবল্টু প্রডাকশন নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা।

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্লাটফর্ম খুঁজছিলেন রাগীব। এমন সময় শুনতে পারলেন, এখানে গঠিত হতে যাচ্ছে এমনই একটি সংগঠন। ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ-এর শুরুতেই সদস্য হয়ে যান তিনি। তারপর থেকে তাঁর চিন্তাচেতনার অনেকটাই জুড়ে আছে এই সংগঠন। এরই মধ্যে এটির ব্যানারে করেছেন বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। এ মাধ্যমে মূলত আবৃত্তি আর অভিনয়ই রাগীবের কাজের জায়গা। মঞ্চ নির্দেশনায়ও সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠছেন তিনি। নিজ সংগঠনের প্রায় সব পরিবেশনারই নির্দেশকের দায়িত্ব সামলিয়েছেন। এমনকি আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক উৎসবে তাঁর হাত ধরেই বেশ কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ। সম্প্রতি এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও এসেছে তাঁর কাঁধে। এর আগে ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক। অন্যদিকে মিলিটারি ইনস্টিউশন অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি আয়োজিত আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বদেশের গৌরবময় লাল-সবুজ পতাকা বিদেশের আকাশেও বেশ কয়েকবার উড়িয়েছেন রাগীব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে গত বছর সেপ্টেম্বরে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমে যোগ দিতে চীনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সে দেশের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আয়োজনে তাঁর আবৃত্তি ও অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করেছে। একই বছরের অক্টোবরে ভারতের অপি জিন্দাল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এশীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একক অভিনয় প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়ার গৌরবও রয়েছে তাঁর। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হয়ে, কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর কথা আমরা কে না জানি? সেই অসহায় মেয়েটির বাবা চরিত্রে সেদিন রাগীব যে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন, সেটিকেই নিজ জীবনের সেরা অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

গত মাসে শ্রীলঙ্কার মোনারাগালা অঞ্চলের রিলিজিয়াস ইয়ুথ সার্ভিস আয়োজিত ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক আন্ত ধর্মীয় সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন রাগীব। সেখানে তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড আবৃত্তি করেন। রাগীব এখন মাস্টার্সের ছাত্র। ভালো ফল করার পাশাপাশি, ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ভাবনা আছে তাঁর। ছবি : রাফিজ ইমতিয়াজ

ক্যাম্পাস- এর আরো খবর