English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কিশোরগঞ্জে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বাস সেবা

  • শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ   
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে পুরনো বাসগুলো কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এসব লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাসে উঠে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বেশির ভাগ বাসের কাগজপত্র ঠিক নেই। বাসের জানালার কাচগুলো ভাঙা। কোনোটির রং উঠে গেছে, কোনোটির সিট ভালো নেই। আবার কোনো কোনো বাসের ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতির অবস্থা বেহাল। সড়কে চলতে গিয়ে এসব বাস প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে। পরে বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে গড়ে ওঠা গ্যারেজগুলোতে তড়িঘড়ি করে কোনোমতে মেরামত করে চালানো হচ্ছে। এতে সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

শহরের বত্রিশ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর বেশির ভাগই ভাঙাচোরা। এ বিষয়ে স্ট্যান্ডের সুপারভাইজার বলেন, আগে এখান থেকে প্রতিদিন ৩০টি বাস চলাচল করত; কিন্তু এখন চলছে ৯টি। কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে বাকিগুলো বের করা হচ্ছে না। এখন যাত্রীরা দুই-তিন ঘণ্টা বসে না থেকে বিকল্প উপায়ে সিএনজি, অটোরিকশা দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। কেউবা ট্রেনে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে অনন্যা ক্লাসিকের টিকিট মাস্টার মো. হাবিব বলেন, অনেক বাসের কাগজপত্র হালনাগাদ করতে হবে। এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে। শুধু বাসের কাগজ নয়, চালকের লাইসেন্সও ঠিক করতে হচ্ছে। অনেক চালক হালকা যানবাহনের লাইসেন্স দিয়ে বাস চালাত। এখন ভারী যানবাহনের লাইসেন্স করতে হচ্ছে। এ কারণে চালকও পাওয়া যাচ্ছে না।

একই অবস্থা দেখা যায়, চামড়াবন্দর বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে শাহপরান নামে একটি বাস সার্ভিস চালু ছিল। তাদের সব বাসেরই কাগজপত্রের সমস্যা রয়েছে। বাসগুলোও অনেক পুরনো। এসব বাসের কাগজপত্র ঠিকঠাক করা ও বাসগুলো মেরামতের জন্য গ্যারেজে পাঠানো হয়েছে। ফলে ক্যান্টনমেন্ট বাস সার্ভিসের বাস ভাড়া করে তাদের সার্ভিসটি চালু রাখা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম সরকার বলেন, জেলার বেশির ভাগ বাসই ফিটনেসবিহীন। অনেক বাসের কাগজপত্রও ঠিক নেই। বাস মালিক বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও এ বিষয়ে তেমন একটা অগ্রগতি হচ্ছে না।

সড়কে নৈরাজ্য- এর আরো খবর