English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

অবৈধ ৩৫ হাজার যানে গতি শ্লথ

জটের নগরী বগুড়া

  • লিমন বাসার, বগুড়া   
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নিবন্ধনহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পায়ে চালিত রিকশা মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার অবৈধ যান চলছে বগুড়া শহরে। আর এসব যানই বগুড়া শহরকে পরিণত করেছে যানজটের নগরীতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু বগুড়া শহরে ব্যাটারিচালিত প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ অটোরিকশা, নিবন্ধনহীন ১০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও আরো প্রায় ২০ হাজার ব্যাটারিচালিত ও পায়ে ঠেলা রিকশা চলছে বগুড়া শহরে। অবৈধ এই ৩৫ হাজার যান বগুড়া শহরকে পরিণত করেছে যানজটের নগরীতে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে এসব অবৈধ যানকে দায়ী করে বলেন, আমাদের রাস্তাঘাটের অবস্থা অনুসারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার যান শহরে চলতে পারবে। সেখানে পাঁচ গুণ বেশি যানবাহন চলছে। এসব যানের অধিকাংশ একাধিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় থাকে না। তিনি জানান, শহরের অভ্যন্তরে এবং প্রাণকেন্দ্র থেকে সিএনজি স্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তর করা যায়নি। এ কারণে সাতমাথা মোড়, বড়গোলা, দত্তবাড়ী, গোহাইল রোড, স্টেশন রোড, শেরপুর রোড এবং ফতেহ আলী বাজার এলাকায় বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়। মেয়র আরো বলেন, যানজট নিরসনে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয় না।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা চাঁদা নিয়ে অবৈধ যান চলাচলের সুযোগ করে দেন। ফলে দিন দিন এসব অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। বগুড়া পৌরসভার তথ্য মতে, তাদের কাছে নিবন্ধিত সাড়ে পাঁচ হাজার রিকশার বাইরে চলাচল করে আরো ২০ হাজার। বগুড়া বিআরটিএর কাছে নিবন্ধন রয়েছে পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশার। সেখানে সড়কে চলছে শহর ও শহরের বাইরে মিলে ২০ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা। ক্ষমতাসীন দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করে শহরের এসব অবৈধ যানের বিভিন্ন সমিতিগুলো। এরাই পৌরসভা ও পুলিশের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না।

নিবন্ধিত একটি সিএনজি অটোরিকশার চালক বলেন, সাতমাথা ও চারমাথা মোড় এবং মেডিক্যাল মোড় পর্যন্ত অন্তত চার জায়গায় প্রতিদিন ৫০ টাকা করে ফি দিতে হয়। টাকা কারা নেন? জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, বুঝতেছেন না, ভাই? টাকা নিবে ঠিকই। কিন্তু বিপদে পড়লে কোনো সহযোগিতা করবে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরে চলা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও একটি বাসস্ট্যান্ডসহ সাতটি সিএনজি স্ট্যান্ডকে শহর থেকে উচ্ছেদ করে আলাদা জায়গায় বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কখনোই সেটি কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে দত্তবাড়ীর সিএনজি স্ট্যান্ডকে আজিজুল হক কলেজের পুরনো ভবনের উত্তরে নেওয়ার কথা। সাতমাথা পার্ক রোডের স্ট্যান্ডকে সেউজগাড়ি পানির ট্যাংকের পশ্চিমে, বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের স্ট্যান্ডকে রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে, শেরপুর রোডের স্ট্যান্ডকে মায়া মোটরসের পূর্বে, চেলোপাড়া স্ট্যান্ডকে নারুলী শাফি ক্লিনিক এবং চন্দনবাইশা রোড ও চেলোপাড়া বাসস্ট্যান্ডকে কাজিবাড়ী মোড়ে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সাতমাথা মোড়ের যানজট নিরসনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পরিচালিত ইন্টারসেকশন ডিভাইডার নকশা বাস্তবায়নের জন্যও উদ্যোগ নেওয়ার কথা।

এদিকে গতকাল সোমবার সকালে হঠাৎ করে সাতমাথায় অবৈধ যানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভূঁইয়া। তিনি পথে নামলে বগুড়ার সদর থানা, ফাঁড়ি, ট্রাফিক ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা পথে নামেন। মাত্র আড়াই ঘণ্টার অভিযানে আটক করা হয় দেড় শতাধিক ব্যাটারি রিকশা, ২০টি মোটরসাইকেল ও ২০টি ইজি বাইক। এ সময় মামলা করা হয় দেড় শতাধিক। এসপি বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন এবং অবৈধ যানবাহনগুলোকে সতর্ক করতে আমি সড়কে নেমেছি।

বগুড়া ট্রাফিক ফাঁড়ির পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, গত ১৫ দিনে শুধু বগুড়া শহরে ১৫৬২টি অবৈধ যানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে নম্বর ও কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল রয়েছে ৮০০, অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে ৮১টি।

সড়কে নৈরাজ্য- এর আরো খবর