English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আপনার শিশু

শিশুর বুদ্ধি বিকাশে

  • মেরীনা চৌধুরী    
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

বাচ্চার বেড়ে ওঠার পরিবেশ প্রতিকূল হলেও বিপর্যস্ত হতে পারে মানসিক বিকাশ। জিনবাহিত বুদ্ধিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয় পরিবেশ দিয়ে। বুদ্ধির বিকাশ নির্ভর করে শেখার পরিবেশ, পদ্ধতি আর আবেগের ওপর। এই বিকাশ নির্ভর করে চর্চার ওপরও। চাই যথাযথ খাবার, প্রয়োজনে ব্যায়াম ও উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলও

অনেকেরই ধারণা, প্রত্যেক মানুষ বুদ্ধির কোটা নিয়ে জন্মায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধি যা বাড়ার বাড়ে, বেশি কিছু করার নেই। এটি ভুল ধারণা। বুদ্ধি বাড়ানোর নানা উপায় আছে, যা প্রয়োগ করে বুদ্ধি বাড়ানো যেতে পারে।

মানুষের পরিণত মগজের যা ওজন তার প্রায় ৮০ শতাংশ তৈরি হয়ে যায় জীবনের প্রথম তিন বছরে। মায়ের পেটে বা জন্মানোর পর প্রথম বছরগুলোতে পুষ্টির, বিশেষ করে প্রোটিনের অভাব ঘটলে বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশ আটকে যায়।

বাচ্চার বেড়ে ওঠার পরিবেশ প্রতিকূল হলেও বিপর্যস্ত হতে পারে মানসিক বিকাশ। জিনবাহিত বুদ্ধিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয় পরিবেশ দিয়ে। বুদ্ধির বিকাশ নির্ভর করে শেখার পরিবেশ, পদ্ধতি আর আবেগের ওপর। এই বিকাশ নির্ভর করে চর্চার ওপরও। চাই যথাযথ খাবার, প্রয়োজনে ব্যায়াম এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলও।

শিশুর বুদ্ধি বাড়াতে

শিশুকে যথাসম্ভব প্রকৃতির সান্নিধ্যে রাখুন। ঘাস, প্রজাপতি, ফড়িং, ফুল, ফল, পাখি, গাছ, পাতা বা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে অনেক কিছু শেখে শিশু।

চাপ না দিয়ে লেখাপড়া শেখান হাসতে-খেলতে, মজা করে।

শুধু পড়াশোনা নয়, বাচ্চা যেন রোজ খেলার সুযোগও পায়।

বাচ্চার পুষ্টির দিকে নজর রাখুন। তার মানে এই নয় যে জোর করে বেশি খাওয়াবেন।

বাচ্চার বড় হওয়ার পথে নজর রাখুন, সাহায্য করুন, তবে কোনো কিছু জোর করে শেখাতে বা চাপাতে যাবেন না।

স্কুলে শিক্ষকের পড়ানোর পদ্ধতির খোঁজখবর নিন। প্রয়োজনে সক্রিয় হোন নিজেও।

বাচ্চাকে বাড়তে দিন ওর সহজাত প্রবণতা অনুযায়ী। যেমন : শিশু হয়তো বাঁ হাতে জোর পায় বেশি। তাকে জোর করে ডান হাতে কিছু করাবেন না।

পড়াশোনার ফাঁকে বাচ্চা তার পছন্দ অনুযায়ী ছবি আঁকুক, নাচুক, গান বা নাটক করুক। যেন সেটা তার ইচ্ছানুযায়ীই হয়। ভুলেও সব বিদ্যার বিশারদ করতে যাবেন না।

অন্য বাচ্চার সঙ্গে নিজের বাচ্চার তুলনা করবেন না। কথায় কথায় বকবেন না, শাস্তি দেবেন না।

সৃজনশীল কাজে প্রেরণা দিন, পুরস্কৃত করুন।

বাচ্চার মগজের ব্যায়াম বাড়ান। নানা বিষয়ে বই পড়ার উত্সাহ দিন।

নিজে না জেনে বাচ্চাকে শেখাতে যাবেন না।

বাচ্চাকে সময়ের সদ্ব্যবহার শেখান, একটু বড় হলে শেখান পড়াশোনার টাইম ম্যানেজমেন্ট।

ভয় দেখিয়ে, মারধর করে ভুলেও শেখাবেন না।

বাচ্চার মধ্যে অবসাদ, ভয়ভীতি, মাত্রা ছাড়া উদ্বেগ বা উত্তেজনা লক্ষ্য করলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

গল্প শুনলে শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ে।

টিভি দেখা থেকে হয়তো বিরত করা যাবে না, তবে বাচ্চাকে বেশি টিভি দেখতে দেবেন না। কী অনুষ্ঠান কতক্ষণ দেখছে অভিভাবকরা সেদিকে অবশ্যই নজর দেবেন। তবে খবরদারি নয়, নজরে রাখার চেষ্টা করুন।

শিশুর প্রযুক্তির ব্যবহার যেন মাত্রা ছাড়া না হয়, সেদিকে নজর রাখুন।

লেখক : প্রাক্তন শিক্ষক

ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

A টু Z- এর আরো খবর