English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেল মা-মেয়ে

দুর্দশার কথা জেনে এগিয়ে এলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি বিধবা হাজেরা বেগমের ভাঙা

  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

ঘর মেরামতের উদ্যোগ নেন। ১৯ আগস্ট সকালে টিন, নগদ টাকা ও মিস্ত্রি নিয়ে ইউএনও রুহুল আমীন পৌঁছে যান হাজেরার ঘরে। শুরু হয়ে যায় ঘরের সংস্কারকাজ। গত সপ্তাহে

ঘরের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন : জিগারুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের শৈলজা এলাকার বিধবা হাজেরা বেগম (৩৭)। তাঁর স্বামী ইউসুফ আলী মারা গেছেন প্রায় দুই বছর আগে। এর পর একমাত্র মেয়েকে নিয়েই তাঁর অভাবের সংসার। দিনে এনে দিনে খায় অবস্থা। বিভিন্ন মেসে রান্না করে যা পান তা দিয়ে মা-মেয়ে কোনো রকমে খেয়ে পরে জীবনটা বাঁচিয়ে রেখেছেন। মেয়ের পড়ালেখার খরচও জোগাড় করতে হয় হাজেরাকে।

সরকারি পাহাড়ি জমিতে স্বামীর রেখে যাওয়া ঝুপড়ি ঘরটির নড়বড়ে অবস্থা। এবারের বর্ষার বৃষ্টিতে দুই কক্ষের ঘরের মেঝের অধিকাংশজুড়ে পড়েছে বৃষ্টির পানি। এমনও রাত গেছে বৃষ্টির পানির কারণে না ঘুমিয়ে বসেই রাত পার করেছেন মা-মেয়ে। গেল কোরবানির ঈদের আগে ভাঙা ঘরটি মেরামত করে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিশ্চিত করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বিধবা হাজেরা।

কয়েকজনের কাছে হাত পেতেও নিরাশ হয়েছেন। বিধবা হাজেরার এমন দুর্দশার কথা জেনে এগিয়ে এলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি হাজেরার ভাঙা ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নেন। ১৯ আগস্ট সকালে টিন, নগদ টাকা ও মিস্ত্রি নিয়ে ইউএনও রুহুল আমীন পৌঁছে যান হাজেরার ঘরে। শুরু হয়ে যায় ঘরের সংস্কারকাজ। গত সপ্তাহে ঘরের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

কাপ্তাই সড়কের পাশে শৈলজা এলাকায় ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে বসবাসরত হাজেরা বেগম জানান, কোনো রকমে কষ্ট করে তাঁরা বসবাস করতেন এই ভাঙা ঘরে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া পানির স্রোত কখন যে ঘরটিই ভেঙে নিয়ে যাবে সবসময় এমন অজানা ভয় লেগে থাকতো। বলেন, মেসে রান্না করে যা পেতাম তা দিয়ে ঘর মেরামত করা তো দূরের কথা খাবার জোগানো কঠিন। ইউএনওর এমন উদ্যোগে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, হাজেরাদের মতো আরো অনেকে আছেন আমাদের সমাজে যাঁরা সামান্য সহযোগিতা পেলে একটু ভালো থাকবেন। পিছিয়ে পড়া একজন মানুষকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় থেকে তাঁর ঘরটি মেরামতে করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন ইতোমধ্যে আরো কয়েকজন গৃহহীন মানুষের ঘর মেরামতসহ নানা সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় রাজধানী- এর আরো খবর