English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মাল্টা চাষে সাফল্য

  • আসাদুজ্জামান দারা ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে ফিরে   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পাহাড়ি এলাকা ফটিকছড়ি অঞ্চলে উষ্ণ জলবায়ু, মাটি উর্বর হওয়ায় ফলনও ভালো হয়। তাই ওই জনপদে মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন।

চাষি মকবুল বলেন, মাল্টা বারি-১ উচ্চ ফলনশীল ও নিয়মিত ফলদানকারী ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। পাকা ফল দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতে অনেক সুস্বাদু। ফাগুন মাসের মাঝামাঝি থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে মাল্টা গাছে ফুল আসা শুরু হয় এবং কার্তিক মাসে ফলন আহরণের উপযোগী হয়ে ওঠে।

ফলনের প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেকটি গাছে ৭০ থেকে ৮০টি ফল ধরে এবং পূর্ণাঙ্গ বয়সে ১৫০ থেকে ২০০টি ফল ধরে-যা স্থানীয় বাংলাবাজারে এগুলো বিক্রি করেন তিনি। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলার বাংলাবাজার

সংলগ্ন স্থানে মাস্টার আবুল গফুরের ছেলে মকবুল হোসেন তাঁর নিজের ১০০ শতক জায়গায় ৩ বছর আগে তার এক বন্ধুর পরামর্শে খাগড়াছড়ি ও সিলেট থেকে দুই প্রজাতির মাল্টা বারি-১ ও পাকিস্তানি ২৩০টি চারা রোপণ করেন।

পাশাপাশি একই জায়গায় অর্ধশতাধিক জারা লেবুর চারা, ১৫০টি পেঁপের চারা ও ২০টি ড্রাগন ফলের চারা লাগান। গাছ লাগানোর আগে গর্ত করে প্রতিটিতে ২০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম পটাস, ৪০০ গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম চুন ও ১৫ থেকে ২০ কেজি মাটি মিশ্রিত করে নেন। চারা রোপণের পর প্রতি ৮ থেকে ১০ দিন পর গাছের গোড়া নিড়ানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।

গাছে ফল ধরার পর পোকা দমনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সপ্তাহে একবার কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও বছরে তিনবার সার হিসেবে ইউরিয়া, টিএসপি, জৈব, এমওপি এবং মাটির ক্ষরতা রোধ করার জন্য ডলসন ওষুধ ব্যবহার করেন।

মাল্টা চাষ নিয়ে ব্যবসায়ী মো. মকবুল জানান, ৩ বছর আগে তার এক বন্ধুর পরামর্শে নিজের ১০০ শতক জায়গায় খাগড়াছড়ি ও সিলেট থেকে লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে দুই প্রজাতির মাল্টা, পেঁপে, ড্রাগন ফল ও লেবুর চারা রোপণ করেন।

তিনি গত বছর এই বাগান থেকে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৭টা করে মাল্টা পান। ১৩০ টাকা দরে ৫৫০ কেজি মাল্টা মোট ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন।

চলতি বছর তাঁর সব গাছেই মাল্টা ও কমলা ধরেছে। এখনও খাওয়ার পুরোপুরি উপযোগী হয়নি। তবে এবছর মাল্টা, কমলা ও পেঁপেসহ অন্যান্য ফল ২ লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করার আশা প্রকাশ করেন।

মাল্টা চাষ এবং বিক্রি করে মকবুল তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে অনেক সুখেই আছেন বলেও জানান।

দ্বিতীয় রাজধানী- এর আরো খবর