English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নতুন ভবন পাচ্ছে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ

  • ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

জরাজীর্ণ এ ভবন এতদিন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। এটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালের পর থেকে পৌরসভার ভরামুহুরীতে ভাড়া বাসায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সেই ভাড়া বাসাটি একেবারেই জরাজীর্ণ এবং ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি সেই জরাজীর্ণ সেমিপাকা ভবন ভেঙে স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে স্থায়ী কার্যালয় পেতে যাচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল পৌরসভার

ভরামুহুরীর মেঘনাথের ভাড়া বাসায়। তত্কালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে দলীয় কার্যক্রমের সূচনা করেন।

সেই থেকে ভাড়া বাসাটিই হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। পরবর্তীতে সেই ভাড়া বাসা একেবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে ভেতরে বসারও কোনো পরিবেশ ছিল না। বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে ভেতরের মালামাল পর্যন্ত ভিজে যেত। এর পরও সেই ভাড়া অফিসটিতে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ। বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগও দলীয় যে কোনো সভাসহ দাপ্তরিক সকল কর্ম সম্পাদন করে আসছে সেই ভাড়া অফিসে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুর রশীদ দুলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের জরাজীর্ণ বাসাটি ভেঙে নতুন এবং স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করার। অবশেষে নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মনে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু কালের কণ্ঠকে বলেন, সেই ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই আমার রাজনীতির পাঠশালা শুরু হয়। যখন আমি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত হই তখন থেকেই ঠিকানা ছিল ভরামুহুরীস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই কার্যালয় একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী এবং জরাজীর্ণ হয়ে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন থেকেই এই কার্যালয়টি স্থায়ীভাবে নির্মাণের দাবি করে আসছিলাম আমরা। এরই মধ্যে অনেক

সিনিয়র নেতা জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় বড় পদ-পদবি ব্যবহার করে নিজের আখের গোছালেও দলীয় কার্যালয়ের দিকে কারোরই নজর ছিল না।

উপরন্তু জরাজীর্ণ কার্যালয়টি সংস্কারের অজুহাতে বিভিন্ন স্কুলের নামে বরাদ্দ দিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জাহেদুল ইসলাম লিটু আরো বলেন, অবশেষে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি নতুন এবং স্থায়ী ভবনে রূপান্তর করার।

সেই দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও চকরিয়া-পেকুয়ার গণমানুষের নেতা জাফর আলম উদ্যোগ নিয়েছেন দলীয় কার্যালয়টি স্থায়ী ভবনে রূপ দিতে। আর জাফর ভাইয়ের সারথী হয়েছেন বর্তমান পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীসহ দলের আরো কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, নানা কারণে এতদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থায়ী ভবনে রূপ পায়নি। এজন্য অনেকের ব্যর্থতাও রয়েছে। তাই চকরিয়া-পেকুয়ার গণমানুষের নেতা জাফর ভাই, গিয়াস ভাইসহ আমরা উদ্যোগ নিয়েছি দলীয় কার্যালয়টি স্থায়ী ভবনে রূপ দিতে। এ জন্য অতিসম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপনসহ কাজের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী কার্যালয় তথা বহুতল ভবন নির্মাণ করার। কিন্তু কয়েক যুগ ধরে যেসব সিনিয়র নেতা জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা দলীয় কার্যালয়টি স্থায়ী ভবনে রূপ দিতে কোনো কাজই করেননি। উপরন্তু নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। এমনকি দলীয় কার্যালয় সংস্কারের নামে সরকারি টাকা অন্যত্র বরাদ্দ দিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করেছেন। তারা আবার বড় বড় কথাও বলে থাকেন।

জাফর আলম আরো বলেন, আমি পদ-পদবি ব্যবহার করে কারো কাছ থেকে অন্যায়ভাবে একটাকাও রোজগার করিনি। আমার ব্যবসায়িক টাকা বিলিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। এ ভাবে আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখতে চাই নিজেকে।

জাফর আলম আরো বলেন, ইতোপূর্বে পেকুয়াতেও উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে দিয়েছি আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নে।

যেখানে কোনো স্থায়ী কার্যালয় ছিল না। বর্তমানে নতুন ভবনে পরিচালিত হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম।

একইভাবে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। নতুন এই ভবনটি হবে তিন তলা বিশিষ্ট। যেখানে থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিনুর রশীদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরওয়ার আলম, মোক্তার আহমদ চৌধুরী, ছৈয়দ আলম কমিশনার, চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম জাহেদ চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র

বশিরুল আইয়ুব, চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজবাউল হক,

পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমানুল হক, নাগু সওদাগর বাদশা, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা সায়েম, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ। পরে উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মোনাজাত পরিচালনা করেন।

দ্বিতীয় রাজধানী- এর আরো খবর