English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

দীঘিনালার উন্নয়নবঞ্চিত পাঁচ গ্রাম, বাসিন্দাদের কষ্টের শেষ নেই

  • জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পাশাপাশি থাকা গ্রামগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। নেই বিদ্যালয়, পৌঁছেনি বিদ্যুৎ। নেই কোনো সড়ক। ধানক্ষেতের আল দিয়ে চলাচল করতে হয়। বাঁশের সাঁকোতে চলে মাঈনী নদী পারাপার। বর্ষা মৌসুমে ভরসা একমাত্র নৌকা। নদীতে পানি বেশি থাকলে ঝুঁকির কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ থাকে।

এখনো দুর্গম পাহাড়ি অনেক গ্রামে পৌঁছেনি সরকারি সেবা। এসব গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বর্ষায় কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায়। বিদ্যুত না পৌঁছলেও এলাকাবাসীর ভাগ্যে জোটেনি সৌরবিদ্যুৎ।

স্বাধীনতার এত বছর পরও গড়ে ওঠেনি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি এতটুকুন।

দীঘিনালার উত্তর নৌকাছড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোর চিত্র এটি। এসব গ্রাম খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বোয়ালখালী (সদর) ইউনিয়নের অন্তর্গত। গ্রামগুলো হলো উত্তর নৌকাছড়া, যৌথখামার, ভেতর বোয়ালখালী, নীলাপাড়া ও বব্রুবাহন কার্বারিপাড়া।

হাটবাজারসহ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের পার হতে হয় খরস্রোতা মাঈনী নদী। নদীতে সেতু না থাকায় শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকাতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার।

ঝুঁকিতে যাতায়াত করে দূরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হলেও লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ রয়েছে এসব এলাকার ছেলেমেয়েদের। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো।

অবশ্য ইউপি চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা ওরফে কালাধন জানিয়েছেন, নৌকাছড়ার উন্নয়নে সার্বিক চেষ্টা করা হবে।

এলাকার বাসিন্দা প্রীতিসুখ চাকমা (৪৮) বলেন, মাঈনী নদীর ভাঙনের ফলে স্থানীয় সড়কটি কয়েকবার নদীতে বিলীন হয়েছে। পুনরায় সড়ক করার জন্য বারবার নিজের জমি দিয়েছি। আবারও ভেঙেছে। আর আমার থেকে জমি দেওয়াও সম্ভব হবে না।

স্থানীয়রা জানান, পাশাপাশি গ্রামগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। নেই বিদ্যালয়, পৌঁছেনি বিদ্যুৎ। আর গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও নেই কোনো সড়ক। অনেক জায়গায় ধানক্ষেতের আল দিয়ে চলাচল করতে হয়।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের খরস্রোতা মাঈনী নদী পার হয়ে যেতে হয় বড়াদম বিদ্যালয়ে।

এলাকার তরুণ শান্ত চাকমা (২২) বলেন, আমরা যারা লেখাপড়া করি মূলত আমরাই বড় সমস্যায় আছি।

প্রধান সমস্যা হচ্ছে গ্রামে নেই প্রাথমিক কোনো বিদ্যালয়, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মাঈনী নদী পার হয়েই যেতে হয় বড়াদম এলাকায় লেখাপড়ার জন্য। উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। বাঁশের সাঁকোতে মাঈনী নদী পারাপার। বর্ষা মৌসুমে ভরসা একমাত্র নৌকা। নদীতে পানি বেশি থাকলে ঝুঁকির কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ থাকে।

বোয়ালখালী এলাকার রূপান্তর চাকমা (৫২) কাঁধে সওদা নিয়ে ফিরছিলেন।

রূপান্তর বলেন, বড়াদম বাজার থেকে ফিরে মাঈনী নদী পার হওয়ার পর প্রায় ৮ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে নিজের গ্রাম ভেতর বোয়ালখালীতে পৌঁছতে হয়।

বর্ষাকালে পুরো পথ কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকে। বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কাঁধে বহন করে পৌঁছাতে হয় নিজ বাড়িতে। এ সড়কগুলোতে যদি ইটসলিন করা হত তবুও কয়েকটি গ্রামের মানুষের ভোগান্তি দূর হত।

উত্তর নৌকাছড়ার দিনমজুর সতীশ চাকমা (৪৫) জানান, তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। আশপাশে কেউ কোনো সংস্থা থেকে সৌরবিদ্যুৎও (সোলারও) পায়নি।

সংশ্লিষ্ট এলাকার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্যা শ্যামলী তালুকদার জানান, এ এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে অপ্রতুলতার কারণে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে সামনে এসব এলাকায় উন্নয়ন কাজ করার জন্য চেষ্টা করা হবে।

দ্বিতীয় রাজধানী- এর আরো খবর