English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মানুষ হাসিয়ে আনন্দ পান খাগড়াছড়ির কায়কোবাদ

এনটিভির রিয়েলিটি শো ‘হা-শো’ এবং ভারতীয় জি বাংলা চ্যানেলের জনপ্রিয় কমেডি অনুষ্ঠান মীরাক্কেলে অভিনয় (কৌতুক) করে যে কজন নাম কুড়িয়েছেন তাঁদের অন্যতম খাগড়াছড়ির মো. কায়কোবাদ। বর্তমানে নাটক, শর্টফিল্মে অভিনয় এবং মডেলিংসহ বিভিন্ন স্থানে স্টেজ শো করে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। লিখেছেন : মোবারক আজাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

২০১৬ সালে এনটিভির রিয়েলিটি শো হা-শো-তে প্রথম অডিশন দিয়েই অভিনয়ের সুযোগ পান কায়কোবাদ। মেধা ও নিরলস প্রচেষ্টায় তখন টপ সেভেন স্থান দখল করে মিডিয়ায় পরিচিতি পেয়ে যান। এরপর একই বছরে সেপ্টেম্বর মাসে অডিশন দেন ভারতীয় জি বাংলা চ্যানেলের কমেডি শো মীরাক্কেলে। হাজার হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম অডিশনে নির্বাচিত হন। অবশেষে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই সেরা দশে স্থান হয় তাঁর।

অনুষ্ঠানটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন মজার মজার কৌতুক পরিবেশন করে দর্শকদের অনেক হাসিয়েছেন তিনি। তাঁর ভক্তরা এখন মিরাক্কেল কায়কোবাদ নামে বেশি চেনেন তাঁকে। প্রতিমাসে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই-চারটা স্টেজ শো-এর ডাক পড়ে তাঁর। অভিনয় ও কৌতুকের হাতেখড়ি শুরু হয় মঞ্চ অভিনয়ের মাধ্যমে। জানালেন, স্কুলে পড়ার সময় তাঁর ইচ্ছা ছিল একটু ভিন্নভাবে মানুষের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করা।

ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় থিয়েটারে কাজ শুরু করেন। খাগড়াছড়ি সদরে থিয়েটার করতেন। নিজেও সৃজন থিয়েটার নামে একটি থিয়েটারে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তখন ভাবতেন কীভাবে মানুষকে হাসানো যায় এবং সহজে মানুষের মনে স্থান দখল করা যায়। এই ভাবনা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হন।

এর পর থেকে বিভিন্ন মহলের লোকজনের সঙ্গে পরিচয়। আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ততা জানতে চাইলে কায়কোবাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, পড়াশোনা নিয়মিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্টেজ শো বেশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন কম্পানি-সংস্থা, সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের স্টেজ শো (কমেডি) করছি। গানে মডেলিংও করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া হাসান রুশো পরিচালিত জলের তলে কার ছায়া নাটকে অভিনেতা সজলের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কায়কোবাদ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞাপনে অভিনেতা ডা. এজাজের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। যা কিছুদিনের মধ্যে প্রচারিত হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে বিজ্ঞাপনটি নিয়মিত সিরিজ আকারে চলতে থাকবে বলে জানা গেছে।

কায়কোবাদের জন্ম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার কাজীপাড়ায়। বাবা মো. কবির হোসেন ব্যবসায়ী। মা মোছাম্মৎ নুরুন্নাহার বেগম গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে কায়কোবাদ পরিবারের বড় সন্তান। এসএসসি পাস করেন মাটিরাঙা পাইলট হাই স্কুল থেকে এবং এইচএসসি পাস করেন খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন।

কমেডিটা কীভাবে রপ্ত করেছেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে যে কটা কঠিন কাজ আছে এ মধ্যে মানুষকে হাসানো একটা কঠিন কাজ। এমনি এমনিতে কেউ মন থেকে হাসতে পারে না। হাসাতে হলে বিনোদন প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে শুধু কৌতুক বললেই যে হাসানো যাবে তা কিন্তু না। তা বিভিন্নভাবে হতে পারে।

যেমন, তেঁতুল বললে মুখে একটু লালা আসছে এবং মিস্টার বিন বলতে একটু হাসি পায়।

জানা গেছে, কায়কোবাদ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেট সোসাইটির খাগড়াছড়ির ট্রেনিং বিভাগের চিফ ছিলেন। খাগড়াছড়ি স্বেচ্ছাসেবী ও যুবক ফোরামের সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক ছিলেন। টিআইবিতে ইয়েস মেম্বার ছিলেন। এখনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির হয়ে কাজ করছেন। ব্লাড ডোনার অ্যাসোসিয়েশন কণিকার সঙ্গে যুক্ত আছেন। এ পর্যন্ত মোট ১২ বার রক্ত দিয়েছেন তিনি।

পুরস্কার বা সম্মাননার বিষয়ে কায়কোবাদ বলেন, মানুষের ভালোবাসা আমার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার। ভালোবাসার জন্য ভক্তরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মেসেঞ্জারে জোকস শোনানোর জন্য নক করেন। যখন ভারতে মীরাক্কেল কমেডি শোতে উইকলি চ্যাম্পিয়ন হই। ওই প্রোগ্রামে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক আমার হাতে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন। মীরাক্কেল যখন শুরু হয় তখন উপস্থাপক বলেন বাংলাদেশ থেকে আসছে কায়কোবাদ, টিভির স্ক্রিনে লেখা থাকে চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। এটা অনেক গর্বের বিষয়। এ পর্যন্ত তিনি টিআইবি, বাংলাদেশ কমেডিয়ান ক্লাব, প্রথম আলো বন্ধুসভা, কক্সবাজার অনুশীলন একাডেমি, খাগড়াছড়ি যুব রেডক্রিসেন্ট ব্রাঞ্চ, চকরিয়া সচেতন নাগরিক কমিটি, এনটিভির হা-শো, মানিকগঞ্জ নিরাভরণ থিয়েটার ও কুমিল্লা বুড়িচং স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্মাননা ও সংবর্ধনাস্মারক পেয়েছেন। এ পর্যন্ত আসতে তিনি খাগড়াছড়িবাসী এবং নাট্যকলা ডিপার্টমেন্ট থেকে পেয়েছেন সর্বোচ্চ সহযোগিতা। এ সহযোগিতার জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাইলে কায়কোবাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, জীবনে চলতে গেলে নিরাপত্তা ও টাকা-পয়সা দরকার। এ জন্য সরকারি চাকরি করতে হলেও কখনো কমেডি ছাড়বো না। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্বে কমেডিটা ছড়িয়ে দিতে চাই।

অভিনয়ের জগতে কায়কোবাদ আইকন হিসেবে নেন প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে। ক্যারিয়ারে অভিনয় করলে কমিক টাইপের ভিলেন হতে চান তিনি।

দ্বিতীয় রাজধানী- এর আরো খবর