English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সিরিয়ার ইদলিবে ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সিরিয়ায় ফের রাসায়নিক হামলা হলে আরও কঠিন জবাব দেবে মার্কিন জোট

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:৫৪

বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ইদলিব পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান চালানো হলে, শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ব্যাপক প্রাণহানি এড়ানোর স্বার্থে ইদলিব বিদ্রোহীমুক্ত করতে বিকল্প পথ অবলম্বনের আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

এর মধ্যেই, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, সিরিয়ায় আবারও রাসায়নিক হামলা হলে, আগের চেয়ে আরও কঠিন জবাব দেবে মার্কিন জোট। এদিকে, সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলার মধ্যেই ইদলিবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে তুরস্ক।

বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ইদলিব পুনরুদ্ধারে সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সোমবার জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালাতে দেখা যায় উদ্ধারকারী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস সদস্যদের।

অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রবিবার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের অবস্থানে রাশিয়া এবং সিরীয় বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার পর প্রদেশটির আল হাবিত এলাকায় ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। আশপাশের আরও কয়েকটি ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তেও দেখা যায় ওই ছবিতে।

ইদলিব ছাড়াও, উত্তরাঞ্চলীয় হামা প্রদেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে সরকারি বাহিনী। অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে, সোমবার লাতামনেহ এবং কাফের জেইতা এলাকায় বিদ্রোহীদের অবস্থানে হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ করতে দেখা যায় সিরীয় বাহিনীকে। তবে, এসব হামলায় হতাহত সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

জাতিসংঘ বলেছে, ইদলিবে এই সামরিক অভিযান চলতে থাকলে একবিংশ শতাব্দীর ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে সেখানে। প্রদেশটিতে প্রায় তিরিশ লাখ বাসিন্দা রয়েছে উল্লেখ করে ব্যাপক প্রাণহানি এড়াতে বিকল্প সমাধান বের করারও আহ্বান জানান সংস্থাটির জরুরি সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে প্রাণহানি এড়ানো। আমাদেরকে এমনভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে যেন ইদলিবে কোন ধরনের মানবিক বিপর্যয় না ঘটে। অভিযান শুরু হলে, জীবন রক্ষায় বহু মানুষ ইদলিব ছাড়তে চাইবে, সেসময় তারা যাতে নিরাপদে শহর ছেড়ে চলে যেতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ায় আবারও আসাদ বাহিনী রাসায়নিক হামলার চেষ্টা চালালে, আগের যেকোন সময়ের চেয়ে কঠোর জবাব দেবে মাকির্ন নেতৃত্বাধীন জোট। রাসায়নিক হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর ফ্রান্স প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান বোল্টন।

জন বোল্টন বলেন, রাশিয়াসহ অনেকেই বলছে, আমরা নাকি আল কায়েদা দিয়ে রাসায়নিক হামলা চালিয়ে তার দায় সিরীয় সরকারের ওপর চাপাতে চাচ্ছি। আমার মনে হয় না, গত দুই শতাব্দীতেও এমন ভয়ানক অভিযোগ কেউ তুলেছে। শুধু এটুকুই বলবো, সিরীয় সরকার যদি আবারও রাসায়নিক হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তবে জবাবটাও আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভয়াবহ হবে।

রাশিয়া এবং সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলার মধ্যেই ইদলিবে ত্রাণ সরবরাহ কাযর্কম শুরু করেছে তুরস্ক। সোমবার, ইস্তাম্বুল থেকে অন্তত ২০টি ত্রাণবাহী ট্রাককে ইদলিবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

বিদেশ- এর আরো খবর