English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

শ্রীবরদীর হাড়িয়াকোনা যেন বিছানো সবুজের গালিচা

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ২৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:১৭

গ্রামের নাম হাড়িয়াকোনা। শেরপুর জেলার শ্রীবরর্দী উপজেলার গারো পাহাড়ের সবুজে ঘেরা আদিবাসী গারো সম্প্রদায় অধ্যুষিত এ গ্রামে প্রায় এক হাজার মানুষের বসবাস। উঁচু নিচু পাহাড়ের পথ ধরে চলতে চলতে ক্ষণে ক্ষণে চোখে পড়বে পাহাড়ের চূড়ায় আদিবাসীদের টং ঘর। এ গ্রামের সিংহ ভাগ মানুষ কৃষি কাজ আর দিন মুজুরের উপর নির্ভরশীল। ফলে পাহাড়ের চূড়া এবং ঢালের দুধার জুড়ে শুধু চোখে পড়ে করলা, ঝিঙ্গা, ধুন্ধল, বেগুন, চিচিংগা, লাউ, আদা, হলুদ, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, কাসাভাসহ বিভিন্ন সবজির বাগান। এ যেন পাহাড় জুড়ে সবুজের গালিচা বিছানো হয়েছে। এর এই মন ভোলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেকোন প্রকৃতিপ্রেমীকে বিমোহিত করবে। উচু-নিচু পাহাড় বেষ্টিত উত্তর হাড়িয়াকোনা, মধ্য হাড়িয়াকোনা, দক্ষিণ হাড়িয়াকোনা এবং কুমার ঘাটিসহ ৪ পাড়া নিয়ে গঠিত হাড়িয়াকোনা। চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত এ গ্রামের উত্তরে ভারতের পুরাকাশিয়ার রামখং পাড়া এবং পশ্চিম পাশে রয়েছে জামালপুরের বক্সীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের দিঘলাকোনা গ্রাম। গ্রামের মাঝখান দিয়ে পাহাড়ের গা ঘেষে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ছড়া বয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও উন্নত হয়নি। পাহাড়ের ওই বয়ে যাওয়া ছড়ার ঠান্ডা পানির উপর দিয়ে হেঁটে চলার মজাই আলাদা। মনে হবে ছড়ায় ঝাঁপিয়ে গোছল করতে পারলে যেন শরীরে প্রশান্তি আসবে। হাড়িয়োকোনা গ্রামে কোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এ গ্রামের শিশুদের ভরসা স্থানীয় খ্রীস্টান মিশনের ক্যাথলিক এবং ব্যাপটিকস গোত্রের প্রতিষ্ঠিত ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পৃথক দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের নিজ উদ্দ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হাড়িয়াকোনা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয় এ গ্রামের একমাত্র সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। তাই এ গ্রামে অতি জরুরিভাবে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা হলেই পাল্টে যাবে গ্রামের চিত্র। সেই সাথে জেলার বিভিন্ন কৃষিখাত বিশেষ করে সবজি উৎপাদনে সমৃদ্ধি বাড়বে। এছাড়া এ গ্রামের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে গড়ে উঠতে পারে সম্ভামনাময় পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয় সমাজ কর্মী ও লেখক প্রাঞ্জল এম সাংমা জানান, অপার সম্ভাবনা থাকার পরও আমাদের গ্রামে আজো বিদুৎ ও রাস্তা-ঘাটের কোন উন্নয়ন হয়নি। শুধু তাই নয় এ গ্রামে কেবল মাত্র ইপিআই এর টিকা দান কার্যক্রম ছাড়া সরকারী আর কোন পরিসেবা আমাদের গ্রামে স্পর্শ করেনি। ফলে এ গ্রামে উৎপাদিত নানা সবজি বাজারজাত করতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লোকদেরকে চলাফেরা করতে হয় নানা ঝুঁকি নিয়ে। ফলে এ ডিজিটাল যুগেও আমরা এনালগে পড়ে আছি। যেভাবে যাবেন : শেরপুর জেলা সদর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৪৪ কিলোমিটার। এরমধ্যে শেরপুর জেলা সদর থেকে শ্রীবর্দী উপজেলা সদরের দুরত্ব ২২ কিলো এবং উপজেলা সদর থেকে সোজা উত্তরে কর্ণঝোড়া বাজারের দুরত্ব ১৫ কিলো। এরপর আরো ২ কিলো উত্তরে পাহাড়ি বাজার মেঘাদল বা (স্থানীয় নাম) শয়তান বাজার। এ মেঘাদল বাজার পর্যন্ত রাস্তা পাকা হলেও মেঘাদলের উত্তরে আরো ৫ কিলো কাঁচা রাস্তা গিয়ে ঠেকেছে হাড়িয়াকোনা গ্রামে। সরাসরি ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর জেলা শহরে আসতে হবে। পরে শহর থেকে খোয়ারপাড় হয়ে শ্রীবরদী উপজেলা সদরে এবং সেখান থেকে সোজা উত্তরে কর্ণঝোড়া বাজার হয়ে হাড়িয়াকোনা গ্রাম।আর যদি কেউ বাসে আসতে চান তবে মহাখালি বাস স্ট্যান্ড থেকে শেরপুর এবপর হাড়িয়াকোনা যাওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সিএনজি অথবা ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে যেতে পারবেন ওই গ্রামে। তবে বর্ষায় বা বৃষ্টির দিন থাকলে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে আসতে হবে।

চলো, ঘুরে আসি- এর আরো খবর