English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ঈদ ভ্রমণ : ধারেকাছে কম খরচে

  • সৈয়দ আখতারুজ্জামান   
  • ২২ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৫১

নেপাল

হিমালয়কন্যা বলা হয় নেপালকে। নেপাল শুধু পর্যটকদের জন্য স্বর্গসম নয়, সারা পৃথিবীর পর্বতারোহীদের রাজধানী বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট নেপালে। নেপালে বাংলাদেশিদের ভিসা অন-অ্যারাইভাল।

মূল আকর্ষণ : কাঠমাণ্ডু, নাগরকোট, পোখারা।

কাঠমাণ্ডু কাঠমাণ্ডু নেপালের রাজধানী, একই সঙ্গে নেপাল ভ্রমণের গেটওয়ে। কাঠমাণ্ডু হয়েই আপনাকে অন্যান্য শহরে যেতে হবে। প্রায় পাঁচ হাজার ফুট উঁচু এই শহর শীতপ্রধান। কাঠমাণ্ডুতে দেখুন বসন্তপুর দরবার স্কয়ার, শম্ভুনাথ মন্দির, পাঠান দরবার স্কয়ার, ভক্তপুর দরবার স্কয়ার, বুদ্ধনাথ মন্দির ইত্যাদি। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন থামেল। নানা রকম মুখরোচক খাবার আর শপিং করার জন্য থামেল বিখ্যাত। আছে প্রচুর মাঝারি ও সাধারণ মানের হোটেল। কাঠমাণ্ডুতে থাকার হোটেল আছে প্রচুর। এখানে মাল্লা, রয়াল সিঙ্গি, ইয়াক অ্যান্ড ইয়েতির মতো দামি হোটেল থেকে শুরু করে মারশিয়াঙ্গদি, কাঠমাণ্ডু ইকোসহ আরো সাধারণ মানের হোটেলও আছে।

নাগরকোট কাঠমাণ্ডু শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে এই নাগরকোট। নেপালের যেসব স্থান থেকে সবচেয়ে মনোরম সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়, নাগরকোট তার মধ্যে সবচেয়ে সেরা। হিমালয়ের মোট ১৩টি পর্বত রেঞ্জের মধ্যে ৮টিই নাগরকোট থেকে দেখা যায়। সমুদ্রসীমা থেকে ৭ হাজার ফুট উঁচুতে এই শহর। চারপাশের দিগন্তে তুষারাবৃত পর্বতমালা অসাধারণ ভালো লাগায় আপনাকে আবিষ্ট করে রাখবে।

নাগরকোটে ক্লাবহিমালয়ার মতো পাঁচতারা মানের হোটেল থেকে শুরু করে ফোর্ট রিসোর্ট, হোটেল প্যারাডাইস ইন, স্পেস মাউন্টেনসহ নানা মাঝারি ও সাধারণ মানের হোটেলও আছে।

পোখারা পোখারা নেপালের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। আয়তন ৫৫ বর্গকিলোমিটার। আড়াই লাখের কিছু বেশি মানুষের বসবাস এখানে। কাঠমাণ্ডু থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে। পোখারা নেপালের সবচেয়ে বিখ্যাত পর্যটন গন্তব্য। এখানে দেখবেন ডেভিড ফলস, গুপ্তেশ্বর গুহা ও শ্বেতী নদী। এই নদীটি অদ্ভুত। পানির রং সাদা। বিখ্যাত ফেওয়া লেকে করতে পারেন নৌভ্রমণ। আর সূর্যোদয় দেখতে খুব সকালে যেতে হবে সরংকোট।

পোখারায় পাঁচতারা হোটেল ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট, হোটেল ল্যান্ডমার্ক, হোটেল কান্তিপুর, হোটেল থার্ড পোলসহ আরো নানা মাঝারি ও সাধারণ মানের হোটেল আছে।

খরচ : জনপ্রতি কমবেশি ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু।

ভুটান ভুটান পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যার ৬৮ শতাংশই সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পৃথিবীর আর কোনো দেশে অরণ্য আর সবুজ প্রকৃতিকে সরকারিভাবে সংরক্ষণ করার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভুটানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তুলনা ভুটানই। বিনিময়ে হিমালয় যেন নিজেকে উজাড় করে ঢেলে দিয়েছে এখানে। ভুটানে বাংলাদেশিদের ভিসা অন-অ্যারাইভাল।

যেভাবে যাবেন বেশির ভাগ বাংলাদেশি পর্যটক প্লেনে যাতায়াত করেন। সপ্তাহে তিন দিন দ্রুক এয়ারওয়েজের ফ্লাইট আছে। ভারতের ট্রানজিট ভিসা থাকলে চেংরাবান্দা-বুড়িমারী বর্ডার দিয়েও যাতায়াত করতে পারেন।

মূল আকর্ষণ যাঁরা প্লেনে যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে ভুটানের মূল আকর্ষণ রাজধানী শহর থিম্পু, পারো ও পুনাখা। যাঁরা বাই রোডে যাতায়াত করেন, তাঁরা সীমান্ত শহর ফুনসোলিংটাও বেড়িয়ে নেন।

থিম্পু অপরূপ সুন্দর থিম্পুর প্রাকৃতিক দৃশ্য। ভুটানের রাজধানী শহর এটি। থিম্পুর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ফুট। বছরের বেশির ভাগ সময়ের তাপমাত্রা বাংলাদেশের তুলনায় বেশ কম। শীতের সময় তাই শীতের পোশাক তো নেবেনই, অন্যান্য সময়ও হালকা শীতের পোশাক নিয়ে নেবেন। থিম্পু সাজানো ও পরিচ্ছন্ন শহর। সর্বসাকল্যে মাত্র সোয়া লাখ লোকের বাস এই শহরে। থিম্পুতে দেখবেন পাহাড়ি নদী, বৌদ্ধ মন্দির, রাজপ্রাসাদ, ন্যাশনাল মেমোরিয়াল স্তুপা, বিবিএস টাওয়ার, সেন্টেনারি ফার্মার্স মার্কেট, জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ন্যাশনাল পার্ক, টাকিন চিড়িয়াখানা, ফুল আর আপেলের বাগান। থিম্পুর রাস্তাঘাট দেখে মুগ্ধ হবেন।

পারো ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পারোতে অবস্থিত। সুতরাং আপনার ভুটান ভ্রমণ পারো থেকেই শুরু হবে। এয়ারপোর্ট থেকে শহর ১৫ মিনিটের পথ। পারো থেকে থিম্পুর দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটার। ঘণ্টা দুয়েকের যাত্রা। ১৬৪৯ সালে তৈরি রিনপুং জং দেখুন পারোতে। এটি উচ্চতায় সাততলা দালানের সমান। এখানে দেখতে পাবেন গৌতম বুদ্ধের মূর্তি। পাচু নদীর ওপর কাঠের ব্রিজটিও বিখ্যাত। ঘুরে দেখুন মিউজিয়াম। এখানে রাখা আছে পুথি, অস্ত্রশস্ত্র, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক-আশাক, বাসনকোসন, ডাকটিকিট, কীটপতঙ্গআরো কত কী! পারোর কাছেই সলেলা পাস দেখে নিতে ভুলবেন না। সঙ্গে দেখে নিতে পারেন কিলা গোম্ফা।

পুনাখা পুনাখা যেতে পারমিট লাগে। পারমিট জোগাড়ে ঝক্কিঝামেলা তেমন নেই। আবেদন করার পর ঘণ্টা দুইয়ের মধ্যেই পারমিট মিলে যায়। তাই পুনাখা যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে প্রথমেই দিনের শুরুতে পারমিটের জন্য আবেদন করে থিম্পু ঘুরতে বেরিয়ে যান। বিকেলে এসে পারমিট সংগ্রহ করুন। পুনাখা যাওয়ার আর কোনো বাধা থাকল না।

থিম্পু থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে পুনাখা। ভুটানের প্রাচীন রাজধানী পুনাখা যাওয়ার পথে দেখে নিন বিখ্যাত দোচুলা পাস। পুনাখায় পৌঁছে দেখবেন পাথরের ছড়াছড়ি। যেন এক পাথুরে শহর। আছে ঝুলন্ত ব্রিজ আর ব্রিজের নিচ দিয়ে সশব্দে বয়ে গেছে খরস্রোতা নদী।

এক দিন সময় বেশি হাতে থাকলে তাকসাং মনাস্ট্রিতে ট্রেকিং করতে পারেন। খুব যে কঠিন তা নয়, আবার বয়স্কদের জন্য বেশ কঠিনই বটে। তবে মনাস্ট্রি পর্যন্ত যদি পৌঁছতে পারেন, তাহলে এক স্বর্গীয় আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। পুরো পথটা হেঁটেই ট্রেকিং করে উঠতে হয়।

থাকবেন যেখানে থিম্পুতে থাকুন হোটেল নরলিং, টিটি, সিঙ্গে, জেই জ্যাং, তাশি ডেলেক, দ্রুক হোটেলে। পারোতে ভুটান পর্যটনের হোটেল ওলাথাং, জ্যামিলিং, সামদেন চোলিং, টাইগার নেস্ট, জুরমি দোরজি এবং পুনাখায় কুয়েং, রিলাক্স ইন, ওয়েলকাম, ডামচেন রিসোর্ট, মেরি পুয়েনসাম উল্লেখযোগ্য।

ভ্রমণের সেরা সময় ভুটানে বর্ষার দুই মাস বাদে সারা বছরই ভ্রমণ করা যায়। তবে মার্চ থেকে মে, আর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এখনকার ভ্রমণ মৌসুম। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভুটানে নানা রকম উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ সময় পৃথিবীর নানা দেশ থেকে এই উৎসব দেখার জন্য পর্যটকরা ভিড় করে।

খরচ : জনপ্রতি কমবেশি ১৮ হাজার টাকা থেকে শুরু।

ভারত

দার্জিলিং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য শুধু ভারত নয়, পৃথিবী বিখ্যাত এই দার্জিলিং। শুধু দার্জিলিং নয়, দার্জিলিং যাওয়ার পথটাও স্বপ্নময়। আর বেড়াতে যেতে খরচও নাগালের মধ্যেই। কেউ কেউ কলকাতা হয়ে দার্জিলিং বেড়াতে যান। কেউ যান বুড়িমারী সীমান্ত ধরে, শিলিগুড়ি হয়ে।

যা যা দেখবেন দার্জিলিংয়ের নানা দর্শনীয় স্থানকে নানা পয়েন্টে ভাগ করা হয়েছে। যেমনটু পয়েন্ট, থ্রি পয়েন্ট। এভাবে সেভেন পয়েন্ট পর্যন্ত আছে। নানা পর্যটনপ্রতিষ্ঠান পয়েন্ট টু পয়েন্ট ঘুরিয়ে দেখায়। আপনি যদি টু পয়েন্ট দেখতে চান, তাহলে আপনাকে গঙ্গামায়া পার্ক ও রক গার্ডেন দেখানো হবে। সেভেন পয়েন্ট দেখতে চাইলে টাইগার হিল, বাতাসিয়া লুপ, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, তেনজিং রক, লালকুঠি, জাপানি মন্দির দেখানো হবে। কাঞ্চনজংঘায় সূর্যোদয় দেখার জন্য টাইগার হিল পয়েন্ট সবচেয়ে বিখ্যাত। পদ্মজা নাইডু জুয়োলজিক্যাল পার্কের ভেতর থেকেই যেতে হয় হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে। দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত চা বাগানের সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে। হাতে কয়েকটা দিন বেশি থাকলে দার্জিলিং থেকে মিরিক, কালিম্পং, লাভা, লোলেগাঁওএই স্থানগুলোও দেখে নিতে পারবেন।

দার্জিলিং যেভাবে যাবেন ঢাকা থেকে দার্জিলিং যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ বাসযোগে, বুড়িমারী বর্ডার হয়ে। রাতের বাসে যাত্রা করলে পরদিন দুপুর নাগাদ পৌঁছে যাবেন শিলিগুড়ি শহরে। বাসস্ট্যান্ডে, কাছেই আছে টাটাসুমো স্ট্যান্ড। এখান থেকে শেয়ারে বা রিজার্ভ করে রওনা হতে পারেন দার্জিলিং।

কলকাতা হয়েও যেতে পারেন। কলকাতা থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশে ট্রেন ছাড়ে। আছে নানা নামের ট্রেন, যা নানা সময়ে ছাড়ে। চাহিদা বেশি থাকায় অন্তত তিন-চার মাস আগে থেকেই ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করতে হয়ে। নইলে টিকিট পাওয়া নিয়ে বেশ জটিলতা হয়। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি হয়ে একই পথে সোজা দার্জিলিং। অথবা কলকাতা থেকে প্লেনে বাগডোগরা এয়ারপোর্টে নেমে গাড়ি অথবা ট্যাক্সি ভাড়া করে চলে যেতে পারেন দার্জিলিং।

কোথায় থাকবেন দার্জিলিং শহরে থাকার জন্য আছে নানা মানের প্রচুর হোটেল। তারকা মানের হোটেলের মধ্যে আছে দ্য নিউ এলগিন হোটেল, মে ফেয়ার হিল রিসোর্ট, হোটেল মোহিত, হোটেল সিনকেয়ার্স ইত্যাদি। এ ছাড়া হোটেল গারুদা, হোটেল সানফ্লাওয়ার, হোটেল উমা, হোটেল স্বাতী, হোটেল ব্রডওয়ে ইত্যাদি বিভিন্ন মানের হোটেল শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

বেড়ানোর সেরা সময় মার্চ থেকে মে এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর দার্জিলিং বেড়ানোর সেরা সময় হলেও সারা বছরই এই শৈলশহরের ঋতুভেদে নানা রূপ সারা পৃথিবীর দর্শকদের মুগ্ধ করে।

খরচ : জনপ্রতি কমবেশি ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু।

মেঘালয় জয়ন্তিয়া, খাসি আর গারোদের গল্পগাথায় কল্পময় হয়ে আছে মেঘালয়। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলসংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চল ঘেঁষেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। এখানে সবুজের সমারোহে জনপদ অনাবিল হয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত চেরাপুঞ্জি আর মাউসিনরাম এই মেঘালয় রাজ্যেই অবস্থিত। শুধু তা-ই নয়, মেঘালয় যেন প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে পাহাড়ি উপত্যকায়। ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদ আর তাদের শান্ত-কোমল জীবনযাপনও আপনাকে মুগ্ধ করবে।

মেঘালয়ের রাজধানী শিলং। মেঘের ছায়ার ফাঁকে ফাঁকে সূর্যের লুকোচুরি খেলায় এ শহর মেতে থাকে সারাটা বছর। মাঝে মাঝে মুষলধারে বৃষ্টি। আবার একটু পরেই ঝকঝকে আকাশ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতার ঘটনাস্থল এই শহর। প্রথম দেখায় শহরের আয়তন ততটা বড় মনে হয় না। কিন্তু শিলং ভিউ পয়েন্টের উঁচু টাওয়ারে দাঁড়িয়ে যখন পুরো শহরটা দেখবেন, তখন অবাক হবেন। বিশাল পাহাড়ি ভ্যালিজুড়েই বিস্তৃত শিলং শহর। এই শহর শান্ত, নিরিবিলি, পরিপাটি।

কিভাবে যাবেন সিলেটের তামাবিল-ডাউকি বর্ডার থেকে যাওয়া সবচেয়ে সহজ। কিন্তু ভিসা সে অনুযায়ীই হতে হবে। যাঁদের বেনাপোল বর্ডার বা ট্রেনে যাওয়ার ভিসা-অনুমতি আছে, তাঁদের বাধ্য হয়ে কলকাতা হয়ে অনেকটা পথ ঘুরে শিলং আসতে হবে।

সিলেট যাওয়ার অনেক বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। এসি-নন-এসি। সিলেট বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘণ্টা দুইয়ের পথ তামাবিল বর্ডার। বর্ডার কার্যক্রম শেষ করে ওপারে গেলেই ট্যাক্সি আছে। সোজা চেরাপুঞ্জি বা শিলং চলে যেতে পারেন। আর কলকাতা হয়ে এলে ট্রেনে-বাসে দুইভাবেই আসতে পারেন। প্রথমে আসামের রাজধানী গুয়াহাটি, তারপর গুয়াহাটি থেকে তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে শিলং। ট্রেনে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি আসতে আঠারো-বিশ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে।

যা যা দেখবেন শিলং শহরে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি ও স্মৃতি সংগ্রহশালা, ডন বস্কো মিউজিয়াম, বড় বাজার, লেডি হায়দরি পার্ক, ওয়ার্ডস লেক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, পুলিশ বাজার।

মেঘালয়ে আর যা যা দেখার আছে এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম বলে খ্যাত মাওলিনং, প্রাকৃতিক শিকড়ের ব্রিজ, ঝরনা, গুহা, বৃষ্টিবহুল স্থান মাউসিনরাম, মাউফলংয়ের পবিত্র অরণ্য ইত্যাদি।

কেনাকাটা মেঘালয়ের বাঁশ ও বেতের কাজ খুব বিখ্যাত। আছে হাতে বোনা উলের চাদর, কমলালেবুর জেলি। মেঘালয়ের কমলালেবু বিখ্যাত। কিন্তু দাম সে তুলনায় খুব একটা কম নয়। মাশরুম, গৃহসজ্জার উপকরণ, শীতবস্ত্রও কিনতে পারেন।

কোথায় থাকবেন শিলং শহরে পুলিশ বাজারের কাছে প্রচুর উন্নত, মাঝারি ও সাধারণ মানের হোটেল আছে। এর মধ্যে মনসুন, ব্রডওয়ে, পাইন বারোজ, পাইন পোলো গ্রাউন্ড ভালো মানের হোটেল। সাধারণ মানের মধ্যে হোটেল স্বস্তিকা, লোটাস, রাজহংস ইত্যাদি বেশ ভালো।

খরচ : জনপ্রতি কমবেশি ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু।

চলো, ঘুরে আসি- এর আরো খবর