English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

মাঝপথে বিকলের আশঙ্কা

ঈদ যাত্রায় ৮০ বছরের পুরনো চার জাহাজ

  • আজিম হোসেন, বরিশাল   
  • ২৬ আগস্ট, ২০১৭ ১০:১০

বরিশাল-ঢাকা রুটে ঈদ যাত্রায় নামানো হচ্ছে ৮০ বছরের পুরনো চারটি জাহাজ। পিএস অস্ট্রিচ নামের একটি জাহাজ ৮২ বছর ধরে যাত্রীসেবা দিচ্ছে। এবার ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে যাত্রীসেবা দিতে তালিকায় রাখা হয়েছে জাহাজটির নাম। ছয় দিনের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ৫০০ যাত্রী পরিবহন করবে। শুধু পিএস অস্ট্রিচ নয়, এবারের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে পিএস টার্ন, পিএস লেপচা ও পিএস মাহসুদ নামের আরো তিনটি জাহাজ থাকবে, যা প্রায় ৮০ বছরের পুরনো। এসব জাহাজে যাত্রীসেবাই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে বিআইডাব্লিউটিসির প্রকৌশল বিভাগ।

বিআইডাব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল হক বলেন, একটি জাহাজের স্বাভাবিক ক্ষমতা ৩০ বছর পর্যন্ত থাকে। তবে আমাদের পুরনো চারটি জাহাজের বয়স ৮০ বছর পেরিয়ে গেছে। নিয়ম অনুসারে ওই জাহাজগুলো এখন যাত্রীসেবা দিতে অক্ষম। তবে জাহাজগুলো নিয়মিত সংস্কার করে যাত্রীসেবা দেওয়া হয়। এখন ওই জাহাজগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ।

বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিআইডাব্লিউটিসি আগামী ৩০ আগস্ট থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরু করবে, চলবে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ওই সার্ভিসে যাত্রী পরিহন করবে মোট ছয়টি জাহাজ। যার মধ্যে রয়েছে এমভি মধুমতি, এমভি বাঙালি, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস টার্ন, পিএস লেপচা ও পিএস মাহসুদ।

এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালি জাহাজ দুটি নতুন হলেও বাকি চারটি জাহাজ ৮০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো, যার জন্য এ চারটি জাহাজ দিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে যাত্রী ও বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালি জাহাজের যাত্রীধারণক্ষমতা ৮৫০ জন করে। তবে এ জাহাজ দুটি নতুন হওয়ায় এর দ্বিগুণ যাত্রী নিলেও কোনো শঙ্কা নেই। তবে পিএস টার্ন জাহাজের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৫৫০ জন, পিএস লেপচার যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬০০ জন, পিএস মাহসুদের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন ও পিএস অস্ট্রিচের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৯০০ জন। তবে এ হিসাব জাহাজগুলো নতুন অবস্থায় থাকা সময়ের। ৮০ বছর পর এই যাত্রী ধারণক্ষমতা কত হবে তা বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষও জানে না।

বরিশাল বিআইডাব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, বিআইডাব্লিউটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে পুরনো জাহাজ চারটি থাকবে। এগুলো পুরনো হলেও এর শক্তি বেসরকারি নৌযানের চেয়ে বেশি। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে জাহাজগুলো ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে রাখা হয়েছে।

তবে জাহাজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্ভে অনুসারে ৩০ বছর পরে এ জাহাজগুলো ব্যান করার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে তা হয় না। সংস্কার করেই চালানো হচ্ছে। তাই ওই জাহাজগুলো নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অনুসন্ধান- এর আরো খবর