English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কথাসাহিত্যিক মাহবুব-উল আলমের ১২০ তম জন্মবার্ষিকী আজ

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১ মে, ২০১৮ ১৫:৪৫

আজ বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক মাহবুব-উল আলমের ১২০ তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৯৮ সালের ১মে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফতেয়াবাদ মিডল ইংলিশ স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে তৎকালীন দেশসেরা কলেজ চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়ালেখা চলছিল ভালোই। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে মনোযোগ চলে গেলো যুদ্ধের ময়দানে। যাকে বলা হতো পল্টন। ১৯১৭ সালে ঊনিশের সে তারুণ্য তাঁকে নিয়ে গেলো সেখানেই। যুদ্ধ করতে করতে চলে গেলেন মেসোপটোমিয়া। ১৯১৯-এ সেখান থেকে ফিরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-দৌঁড়ে সহপাঠিদের থেকে পিছিয়ে পড়া অত্যন্ত মেধাবী মাহবুব-উল আলমের শিক্ষাজীবনে আর ফেরা হলো না।

সোজা কর্মজীবনেই ঢুকে গেলেন। প্রজাতন্ত্রের সাব-রেজিস্টার থেকে কর্মপরিক্রমায় হলেন ডিস্ট্রিক্ট সাব-রেজিস্টার। তারপর ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্টার এবং সবশেষে ইন্সপেক্টর অব রেজিস্ট্রেশন।

মাত্র উনিশ বছর বয়সে প্রথম মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় রচিত পল্টনজীবনের স্মৃতি (১৯৪০), বর্মার হাঙ্গামা (১৯৪০), সাড়া জাগানো আত্মজৈবনিক উপন্যাস মোমেনের জবানবন্দী এবং পঞ্চ অন্ন (১৯৪৬), সমকালীনতা উত্তীর্ণ আধুনিক শিল্পকর্মরূপে স্বীকৃত ও সমাদৃত উপন্যাসিকা মফিজন, হাস্য-রসাত্মক গল্প সংকলন গোঁফ সন্দেশ (১৯৫৩) সহ ৩৪টিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তাঁর মোমেনের জবানবন্দী গ্রন্থটি ইংরেজী ও উর্দুতে অনুদিত হয় তখনই। ইংরেজীতে অনুবাদ করেন অন্নদাশঙ্কর রায়ের স্ত্রী শ্রীমতি লীলা রায় Confessions of a Believer নামে (১৯৪৬)। অসাধারণ জীবনদৃষ্টিসম্পন্ন এই বইটি তৎকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায়ও অন্তর্ভূক্ত হয়।

৩৪ বছরের চাকরি ছেড়ে ১৯৫৩ সালে মাহবুব-উল আলম জমানা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন। এটিই চট্টগ্রামের প্রাচীনতম সাপ্তাহিক পত্রিকা। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে তা দৈনিক জমানায় রূপান্তর ও প্রতিষ্ঠিত করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যে শুধু নিজেকে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত করেন তাই নয়, সম্পাদকীয় বিষয় নির্বাচন ও রচনারীতিতে স্বাতন্ত্র্যের জন্য সাংবাদিকতায়ও রীতিমতো পথিকৃতের মর্যাদা লাভ করেন। এরই মধ্যে রচনা করেন তিনটি ভ্রমণ কাহিনী ইন্দোনেশিয়া (১৯৫৯), তুর্কী (১৯৬০) ও সৌদী আরব (১৯৬০)। এ ছাড়াও তাঁর (মৃত্যু ৭ই আগষ্ট ১৯৮১) মরণোত্তর প্রকাশিত হাস্য-রসাত্মক গল্পসংকলন প্রধান অতিথি ও তাজা শিংগী মাছের ঝোল, রঙবেরঙ, পল্টনে এবং সাত সতেরো সে সময়ে পাঠক মহলে যথেষ্ট সাড়া জাগায়। অন্নদাশঙ্কর রায়ের সাথে দীর্ঘদিনের পত্রালাপের প্রেক্ষিতে বাংলা সাহিত্য ঋদ্ধ হয় আরো দুটো পত্র-সাহিত্য গ্রন্থ পেয়ে- আলাপ ও আলাপ: নবপর্যায়। কথাসাহিত্য চর্চার পাশাপাশি অত্যন্ত মননশীল ও শ্রমসাধ্য ইতিহাস রচনায় নিজেকে ব্রতী রেখেছেন এমন নজির বাংলা সাহিত্যে খুব একটা চোখে পড়ে না আমাদের। অথচ কী বিস্ময়করভাবে দেখি অভূতপূর্ব প্রকরণ, প্রক্রিয়া ও উপকরণ মিশিয়ে তিন খণ্ডে চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক সমৃদ্ধ জগতের উপহার তুলে ধরেন পাঠকের হাতে- পুরানা আমল, নবাবী আমল ও কোম্পানী আমল নামে। আরো বিস্ময় অপেক্ষা করে জীবদ্দশায় সর্বশেষ যে দুঃসাধ্য কাজটি করে গেলেন তিনি, তা দেখে ! সাত বছরের একাগ্র সাধনা ও একক প্রচেষ্টায় সর্বাধিক তথ্যসমৃদ্ধ চার খণ্ডে রচিত ১২০০ পৃষ্ঠার বাঙ্গালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত, যার অসামান্য শিরোনাম- রক্ত আগুন অশ্রুজল: স্বাধীনতা।

সমকালীন বাস্তবতায় কী সাহিত্যে কী সাংবাদিকতা প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

সাহিত্য- এর আরো খবর