English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ধর্ষণে রোহিঙ্গা নারীর গর্ভে জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু

ধর্ষণে অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুকেও কোলে তুলে নিচ্ছেন রোহিঙ্গা মায়েরা

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ২৬ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:১৫

ছবি অনলাইন

এক রোহিঙ্গা নারীর নাম মেহের। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের গণহারে ধর্ষণ করে তখন ধর্ষিত হন মেহেরও। এরপর তার গর্ভে আসে শিশু। মিয়ানমারের সেনাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে যেসব নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন তাদের মধ্যে মেহের অন্যতম। তারই গর্ভে অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান ইয়াসমিনের জন্ম হয়েছে কিছুদিন আগে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে সিএনএন।

জুনের প্রথমদিকে প্রথম তার প্রসব বেদনা বুঝতে পারেন। তিনি কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান নি। ছালা আর বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘরের কাঁচা মেঝেতেই তিনি একাই প্রসব করেছেন ইয়াসমিনকে। তিনি বলেন, এই প্রসব বেদনা ছিল অসহনীয়। টানা পাঁচ ঘণ্টা জীবনের সঙ্গে লড়াই করে তিনি প্রসব করেছেন ইয়াসমিনকে। মেহেরের আগে থেকেই দুটি সন্তান আছে। তাদের একজনের বয়স ৫ বছর। আরেকজনের ২।

ধর্ষণের শিকার হয়ে মেহের কক্সবাজারে পালিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখানে এসেই তার সব বিপদ কাটেনি। দুমাস পরে তিনি বুঝতে পারেন ধর্ষিত হওয়ার ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। মেহের বলেন, এটা বুঝতে পেরে একজন ওঝার কাছে গিয়েছিলাম। তার কাছে গর্ভপাতের ওষুধ চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে একটি বড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

ধর্ষণের শিকার হয়ে জন্ম নেওয়া ইয়াসমিন বর্তমানে ৩৩ দিন বয়সী। একটি কম্বলে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে তাকে। তার মা মেহের তাকে তুলে নিলেন। বুকের দুধ পান করানো শুরু করলেন। তিনি বললেন, এই শিশুটি আমার বাচ্চা। আমার ভালোবাসা সে। কিন্তু যখনই তার দিকে তাকাই তখনই স্মরণে আসে এক নৃশংস ভয়াবহতা।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর হিসাবমতে, ওই শরণার্থী শিবিরে এখন প্রায় ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী আছেন। প্রতি মাসে সেখানে জন্ম নিচ্ছে তিন হাজার শিশু। এসব শিশুর কতজনের জন্ম ধর্ষণের ফলে তার প্রকৃত হিসাব কেউ বলতে পারেন না। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মার্চে যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাতে দেখা যায় যৌন সহিংসতার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া কমপক্ষে ২৭০০ নারীকে মানবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

এমএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের আগস্টের শেষ থেকে মে মাসের শেষ নাগাদ তারা ৪৪৩ জন ধর্ষিতার দেখা পেয়েছে।

তবে সংকটের প্রথম ৫ মাসে ১০২ জন ধর্ষিতাকে চিকিৎসা দিয়েছে আরেকটি এনজিও হোপ ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক ক্লিনিক। তারা বলেছে, এই সংখ্যা বাস্তবতার তুলনায় অতি নগন্য। ধারণা করা হয়, এমন ধর্ষিতা কয়েক হাজার আছেন।

এমএসএফের ইতালিয়ান ধাত্রী জুলিয়া মেইস্ট্রেলি বলেন, মে মাসে আমরা সন্তান প্রসবের হার কিছুটা বাড়তে দেখেছি। তবে বেশির ভাগ সন্তান প্রসবের ঘটনা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এর কারণ, চার ভাগের তিন ভাগ নারীই তাদের সন্তান প্রসব করছেন নিজের আশ্রয়ে। যেসব নারী ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছেন সন্তান প্রসবের পরে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কখনো তারা ওই সন্তানকে ফেলে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু যখন সন্তানের মুখ দেখেন তখন আর তাকে ফেলে যেতে পারেন না। তাকে সঙ্গে নিয়ে যান। সূত্র : সিএনএন।

রোহিঙ্গা নিধন- এর আরো খবর