English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

‘লেংটা রাজনীতির দেশ’

  • আহ্সান কবীর   
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:২২

আমি কিছুকাল প্রবাসে ছিলাম। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শহরে গিয়ে বাংলাদেশি পত্রিকার খোঁজে বুভুক্ষের মতো এদিক ওদিক তাকাতাম। ১৯৯৫-৯৬ সালের সময় তখন, ইন্টারনেটের দাপট শুরু হয়নি। সপ্তাহে একদিন পত্রিকা যেত (সম্ভবত মঙ্গলবারের)। পুরনো বাসি দেশি দৈনিক অনেক বেশি দামে কিনে পড়তাম।

একদিন এমনি শহরে গিয়ে পত্রিকা নিলাম- একটি ছবি দেখে খুব বিস্মিত হলাম আমি এবং সঙ্গের লোকজন। যেহেতু বাঙালি- একসঙ্গে থাকলেও মতপথ প্রায় সবার ভিন্ন ভিন্ন ছিল। তবে সবাই একটু ঝটকা খেল বুঝলাম। ছবিটা ছিল ১৫ আগস্টের, জন্মদিনের বিশাল কেক কাটছেন প্রধানমন্ত্রী! শত মতপথে বিভক্ত একটি জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাইকে একতারে বেঁধেছিলেন যে লোকটি- তাঁর হত্যা দিবসও ১৫ আগস্ট।

ঠিক এমন দিনটিতে কেক কেটে আনন্দ প্রকাশের অমন অশ্লীল-অপরিণামদর্শী রাজনৈতিক দুর্বুদ্ধি তাঁকে কে বা কারা দিয়েছিলেন জানি না! এই বাংলাদেশে, এখনো চরম দা-কুমড়ো সম্পর্কের দুই প্রতিবেশীর মধ্যেও যদি দেখা যায় একজনের বাড়িতে বিয়ের উৎসবে পাশের শত্রু-বাড়ির কেউ মারা গেছেন, সেক্ষেত্রে বিয়েবাড়িওয়ালা ভারত-পাকিস্তান টাইপের চরম-শত্রুতার মুখে তালা মেরে উৎসব, গানা-বাজনা সংকুচিত করে ফেলেন, এমনকি রাতের আলেকসজ্জাও বন্ধ রাখেন- সেই বাংলাদেশে এই দৃশ্য! মন চাইছিল এক দৌড়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে বলে যাই, ম্যাডাম! দয়া করে এমনটা করবেন না! এটা আমাদের আরো নিচু করে দেবে! পচিয়ে দেবে পারস্পরিক সৌজন্যবোধের সবগুলো দড়ি, সুতা... উলঙ্গ রাজনীতির পুঁতিগন্ধময় বাতাস বইবে তাহলে দেশজুড়ে...

কারণ, আপনারা তো সাধারণ মানুষ নন, আপনাদের ছোটখাট আচরণ পুরো দেশকে প্রভাবিত করে ভীষণভাবে। ঠোঁট নড়তেই হিলে পড়ে অনেকের স্বপ্নের প্রাসাদ; অঙুলি নির্দেশে জান কোরবান হয়ে যায় গণ্ডায় গণ্ডায় নিষ্ঠাবান কর্মী। এই যে সর্বশেষ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ব্যাকগ্রাউন্ডে যা হলো এবং হচ্ছে এর পেছনে কিন্তু এই ধরনের কেক কেটে কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা দেয়ার মানসিকতা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে (প্রকাশ্যে যে যাই বলি না কেন- তলে তলে এগুলোই সত্য)... এইসব বেহিসাব কাণ্ডকীর্তি যত দ্রুত ত্যাগ করা যায় ততই মঙ্গল- নইলে তো দেশটা লেংটা রাজনীতির দেশ হিসেবে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে...

সাধারণ মানুষের প্রায় কোনো পরামর্শই আপনাদের কানে যায় না- ধরে নেয়া যায় এটাও যাবে না। আর এখন গেলেই বা কি?! লালন হয়তো এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রেই বলেছিলেন- সময় গেলে সাধন হবে না...

তারপরেও উভয় নেত্রীকেই বলছি- আপনাদের আশপাশে আত্মবিদদের অভাব নেই যারা দিনমান স্বার্থের প্যাঁচ কষতে থাকে অন্যের তসবির সুতোয়। তাদের থেকে যতোটা সম্ভব সাবধান থাকুন...

অনলাইন ইনচার্জ, কালের কণ্ঠ

রিপোর্টার্স ডায়েরি- এর আরো খবর