English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নাচে গানে সৌন্দর্য্য-সম্প্রীতির প্রচারণা

  • মেহেদী হাসান   
  • ২২ মে, ২০১৮ ১৯:৩১

তাদের কেউ উইগুর মুসলিম সম্প্রদায়ের, কেউ বা হান। কেউ কাজাখ, আর কেউ বা হুই সম্প্রদায়ের। আবার কারও মুখাবয়ব দেখে যদি রাশান মনে করেন তাহলে খুব ভুল হবে না। চীনের শিনজিয়াং রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত আছে আটটি দেশের। ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়া। তাই নৃগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্য শিনজিয়াঙের আরেকটি বৈশিষ্ট্য।

শিনজিয়াঙের আর্ট থিয়েটারে এথনিক ফোক মিউজিক অরকেস্ট্রা এবং নাচ ও গানের দল গড়ে তোলা হয়েছে স্থানীয় সব নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে। তাদের সবাই স্থানীয় কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। প্রতি বছর তাদের মধ্য থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। এতে তারা নিজেকে আরো দক্ষ ও যোগ্য করে তোলার সুযোগ পান। এছাড়া তাদের বিদেশেও পাঠানো হয়। আর পুরো উদ্যোগটিতে অর্থায়ন করছে শিনজিয়াং রাজ্য কর্তৃপক্ষ।

শিনজিয়াঙের এই ফোক মিউজিক দলের গানের সারমর্ম হলোসুন্দর শিনজিয়াং। সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় এই দলটি ৪০টিরও দেশ সফর করে সঙ্গীত পরিবেশন করেছে এবং গানের মাধ্যমেই তুলে ধরেছে শিনজিয়াঙের রূপ-লাবণ্য আর সম্প্রীতির গল্প।

শুধু বিদেশেই নয়, শিনজিয়াঙের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে এই গানের দলটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সঙ্গীত পরিবেশন করে। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এই দলের শিল্পীরা নিজেরা গানের কথা লিখে এবং তাতে সুর দেয়।

নাচের দলটিও দেশে বিদেশে তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে শিনজিয়াঙে সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করে।

শিনজিয়াঙে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে আছেন আদি আয়শা নামে এক ব্যক্তি। প্রথম প্রজন্মের এই উইগুর মুসলিম কারিগর সব সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠী নিয়ে সহবস্থানের পক্ষে কাজ করেছেন। শিনজিয়াঙের কিদওয়ান ডিস্ট্রিক্টে তাঁর একটি ভাস্কর্য আছে।

কিদওয়ান ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা এক সঙ্গে আড্ডা দেয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে ও খাবার খায়। এমনকি তারা সবাই মিলে পণ্য সামগ্রী তৈরি করে বিক্রি করে।

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি, কালের কণ্ঠ

রিপোর্টার্স ডায়েরি- এর আরো খবর