English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

তিনটা টিউশনি খোয়া গেছে গ্যাসের চুলা বন্ধ করতে গিয়ে!

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৩:৫৩

অনেকের বাড়িতে চব্বিশ ঘণ্টা এভাবে চুলা জ্বলতে থাকে...

ছাত্রাবস্থায় আমি তিনটা টিউশনি হারাইছি শুধুমাত্র গ্যাসের চুলা চব্বিশ ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখার বিষয়টা নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে। জাহাঙ্গীরনগরের ডেইরি গেটে টিউশনি করতাম। যে রুমে পড়াতাম, তার সোজা কিচেনে গ্যাসের চুলা দেখা যেত। প্রতিদিন দেখতাম গ্যাসের চুলা টিমটিম করে জ্বলছে। দুই তিনদিন একই ঘটনা দেখার পরে স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কতদিন ধরে জ্বলছে? আমার ছাত্র যা উত্তর দিল তা শুনে আমার অজ্ঞান হবার মতো অবস্থা। এইটা নাকি সে কোনদিন নেভানো দেখে নাই।

আমার স্টুডেন্টের বাবা-মা দুজনেই শিক্ষিত, চাকরি করেন। একদিন সুযোগ বুঝে বেতন নেবার সময় আন্টিকে বললাম যেন গ্যাসের চুলাটি নিভিয়ে রাখেন। আন্টি বলল দেশলাই কিনতে ভুলে যান, তাই জ্বালিয়ে রাখেন। পরদিন টিউশনিতে গিয়ে আমি আন্টিকে একটা দেশলাই দিলাম। আন্টি দেশলাইটা হাসি মুখে নিলেন ঠিকই কিন্তু গ্যাসের চুলাটা আমি বন্ধ দেখলাম না এরপরের দিনও। আমি আবারো আন্টিকে বললাম চুলাটা জ্বালিয়ে না রাখার জন্য। কিন্তু এবার তিনি আমার ছাত্রের মাধ্যমে আমাকে জানিয়ে দিলেন আগামী মাস থেকে আমার আর দরকার নেই।

এরপরে আমবাগানে আরেকটা টিউশনি শুরু করলাম। সেখানেও একই অবস্থা। এখানে আবার চুলার মধ্যে কাপড় শুকায়। বড়ই সৌন্দর্য। আমি আন্টিকে বললাম গ্যাস নষ্ট না করার জন্য। সেই সাথে আগামিতে গ্যাসের সংকট হতে পারে বলে একটা বিশাল জ্ঞানও দিলাম। মনে হল আন্টি খুব আগ্রহ নিয়ে আমার কথা শুনছে। কিন্ত হায়, মাসের শেষে টাকা নিতে গিয়ে যখন বুঝলাম আমি এই টিউশনিটাও হারাইছি তখন মনে হল আন্টি কতটা মনোযোগী ছিল।

এরপর বন্ধু লিমনের মাধ্যমে মোহাম্মদপুরে টাউনহলের পাশে আরেকটা বাসায় টিউশনি শুরু করলাম। এখানে নিজের কৌতুহল বসত কিচেনে উঁকি দিয়ে দেখি একই অবস্থা। ছাত্রীরে বললাম, এটা সারাদিন জ্বালায় রাখো কেন? সে বলল তার আব্বুর নাকি ম্যাচ কেনার কথা মনে থাকে না, তাই তার আম্মু এটা জ্বালায় রাখে। খুব ভালো কথা, আমি একটা লাইটার কিনে দিলাম পরদিন। কিন্তু তারপরও এই গ্যাস সারাদিন জ্বলে। এবার আন্টিকে রিকোয়েস্ট করলাম গ্যাস না জ্বালিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু শিক্ষিত মানুষ তো, তাই আমার কথা শুনলেন না। উল্টো আমার টিউশনটা খেয়ে দিলেন। পরে লিমনের কাছে জেনেছিলাম ওরা নাকি লিমনকে বলেছিল আমি ছাত্রীর সামনে সিগারেট খাই, সঙ্গে লাইটার রাখি।

প্রায় প্রায় পত্রিকায় নিউজ দেখি, নগরে তীব্র গ্যাস-সংকট, অমুক গ্যাসক্ষেত্র ঘেরাও, এবার রোজায় তীব্র গ্যাস সংকট। এসব নিউজের জন্য দায়ী কে জানেন? আপনারা। আপনারা শহরের শিক্ষিত গৃহিনীরা। সেই সাথে দায়ী তাদের বলদ স্বামীরা যারা একটা দেশলাই কিনে আনতে ব্যর্থ।

আমি উত্তরবঙ্গের ছেলে। আমরা গ্যাসের একটা ছোট্ট সিলিন্ডার কিনি প্রায় ২০০০ টাকা দিয়ে। এটা দিয়ে একমাসও পুরো পরিবারের রান্না করা যায় না। আর আপনারা শহরের শিক্ষিত মানুষরা আনলিমিটেড গ্যাস পেয়ে সেটার অপচয় করেন। একটা দেশলাই কাঠির অভাবে ইচ্ছামত সারাদিন জ্বালিয়ে রাখেন। রোদ না পেলে কাপড় শুকান। আপনারা কেমন শিক্ষিত তা আমি জানি। কদিন পর গ্যাস না পেলে সবার আগে সরকারকে আর তার মন্ত্রীদের দুষবেন। একবারো মনে করবেন না আপনি নিজেই দিনের পর দিন কত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অপচয় করেছেন। সবকিছু সরকার পারবে না। আপনার কিচেনের খবর সরকার নেবে না। আপনার নিজেরও কিছু দায়িত্ব আছে। শহরের গৃহিনীরা এই দায়িত্বটা নিলেই হয়ে যাবে। তাই শহরের গৃহিনীদের করজোরে মিনতি করি, প্লিজ কাজ শেষে আপনার গ্যাসের চুলাটি বন্ধ করে রাখুন।

আপেল মাহমুদের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

(এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়)

পাঠকের কথা- এর আরো খবর