English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীরা কেন রোড অ্যাক্সিডেন্ট আর হার্ট অ্যাটাকে মরলো?

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১১ জুলাই, ২০১৮ ২০:৫৫

মেট্রোরেলের প্রতীকি চিত্র

আপনি যার সাথে হ্যান্ডশেক করছেন, গ্লোবাল ইকোনোমিক ডোমিনেন্সের জন্য সেই কিন্তু আপনার পেছন থেকে ড্যাগার (ছুরি) বসাবে। আপনি মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে রক্তক্ষরণে মারা যাবেন। এভাবেই সাদ্দাম, গাদ্দাফি, ফয়সাল ও আরোঅনেক অনেককে তাদের বন্ধুরাই হত্যা করেছে।

পদ্মা সেতুর স্বপ্ন ছোটবেলা থেকেই দেখতাম। দৌলতদিয়া আর আরিচা ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো মনে-মগজে জ্বালা দেয়। বিশ্বদাতা বিশ্বব্যাংক কৌশলে যখন বিশ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু থেকে সরে দাঁড়ালো, অন্যান্য দাতাদের অন্য প্রকল্প থেকেও সরে দাঁড়ানোর জন্য উৎসাহিত করলো। তবে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু জাপানের জাইকা কি করেছে জানেন? সরে যাওয়া তো দূরের কথা, ত্রাতা হিসেবে বাইশ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে এগিয়ে আসলো, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের চেয়েও বেশি এবং টাকার অংকে বাংলাদেশে এ যাবতকালে যে কোনো দাতা সংস্থা কর্তৃক গৃহীত সর্ববৃহৎ প্রকল্প। আমাদের বা বিশ্ব মিডিয়া এই খবরটা কিন্তু ভাইরাল করে নাই, যদিও ফালতু ইস্যু নিয়ে অনেক করে থাকে।

জানেন কি কেন মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের প্লেনটা মাঝ আকাশ থেকে উধাও? জানেন তো চাইনিজরা সস্তা উদ্ভাবনের গুরু। চাইনিজ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণ বিষয়ক একদল সাইন্টিস্ট তাতে ছিলেন যারা নতুন সস্তা উদ্ভাবন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের পথে ছিলেন। পশ্চিমাদের ব্যবসা বন্ধ হতো। হামাসের রকেট ইঞ্জিনিয়ার মালয়েশিয়ায় খুন, ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীরা কেন সবাই রোড অ্যাক্সিডেন্ট আর হার্ট অ্যাটাকে মরলো? আফ্রিকান ইউরেনিয়াম, হীরা, সোনা ও তেল খনিগুলো দখলে রাখার জন্য নিয়মিত গৃহযুদ্ধ লাগানো হয়।

হলি আর্টিজানে নিহত জাপানি নাগরিকরা আমাদের মেট্রোরেল প্রকল্পের সহায়ক ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মকর্তা ছিলেন। সম্ভবতঃ মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও ছিল শিগগিরই। মেট্রোরেল প্রকল্প এবং গুলশান হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে না নেই- তা গবেষণার বিষয়। কিন্তু এভাবেই তো ফলসফ্ল্যাগ ঘটনা ঘটিয়ে একটা দেশকে তার বিপক্ষ শক্তি সাপ্রেস করে চলেছে, ইকোনোমিক সুপ্রিমেসি জারি রাখে, একটি জাতিকে পরনির্ভর হতে বাধ্য করে।

গুলশান হামলা আমাদের মিনি ৯/১১। গুলশান হামলার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অরক্ষিত পরিস্থিতির উম্মোচন হয়। বিশ্ব হর্তাকর্তারা যখন তাদের ইনভেস্টমেন্ট ও কার্যক্রম সীমিত করে বাংলাদেশকে একঘরে করতে চাচ্ছিলো এবং এ নিয়ে আমরা যখন কিংকর্তব্য বিমূঢ় , ঠিক তখন সেই জাপান ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ালো... আমরা তোমাদের সাথে আছি। জানেন কি- স্বাধীণতার পর থেকেই জাপানিরা বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ দাতাদেশ? ওরা আমাদের ভালোবাসেন কারণ জাপানি সম্রাট একই রকম দেখতে বলে আমাদের পতাকাকে সবুজ জাপান বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সে জন্যই হয়তো জাপানি একজন অফিসার আমার বাম আস্তিনে লাগানো বাংলাদেশি পতাকাটি অনুরোধ করে চেয়ে নিয়েছিল। বাংলাদেশকে ভালোবাসার কৌশলগত ও নৈতিক কারণটি কমেন্টে বিস্তারিত দেখুন।

জাপানে ভিকটিমদের ফিউনারেলে পৌঁছার আগে মনে মনে অস্বস্তিতে ছিলেন আমাদের রাষ্ট্রদূত। নিহতদের স্বজনদের আক্রোশে পড়ার সম্ভাবনাটি ফেলনা নয়। না, প্রথম সারির ডিপ্লোমেটিক প্রটোকল হিসেবে বিনম্র ডেলিগেশনের মর্যাদা পেলেন তিনি। দূতাবাসে একটা ভারী খাম খুলতে গিয়ে আবারও ভয় পাচ্ছিলেন তিনি, অপমামজনক কোনো বার্তাপত্র নয় তো? না, গুলশান হামলায় নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের সহায়তায় নাম না-জানা এক জাপানি নাগরিকের মিলিয়ন ইয়েন এর অনুদান।

তাই সবকিছু বিবেচনায়, একজন বাংলাদেশি হিসেবে (Susam Asraful Mohammad-এর) ফেসবুক পোস্টের এবং একটি পত্রিকার এই প্রস্তাবে মন থেকে সমর্থন রইলো...

অকালে জীবন দেওয়া ওই সাতজন ও গুরুতর আহত একজন জাপানির নামে কি আমরা মেট্রোরেলের আটটি স্টেশনের নামকরণ করে তাদের প্রতি আমাদের ঋণ-দায় কমাতে পারি না? বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারিনা? আপনি একমত হলে শেয়ার করুন।

[এইচ এম সোহেল-এরফেসবুক পোস্ট থেকে]

পাঠকের কথা- এর আরো খবর