English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পরাজয়ে ডরে না বীর... তবু ভালোবাসি ফুটবল জার্মানির

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১ জুলাই, ২০১৮ ১৭:০৫

হলুদ জার্সি গায়ে কোরিয়ান গোলকিপার জো ছিল জার্মান ভাগ্যের হত্যাকারী!

আরও বেড়ে গেলো জার্মানির প্রতি শ্রদ্ধা। ছোটবেলায় ইতিহাস বইয়ে পড়েছিলাম, জার্মান মেয়েরা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ ক্ষতবিহীন ছেলেদের বিয়ে করতে দ্বিধা বোধ করতো। প্রেয়সীকে পাবার জন্য ছেলেরা তাই সেলফ ইনফ্লিক্টিং ইনজুরি করতো। সেই লিগ্যাসি ওরা এখনো ধরে রেখেছে কিনা জানিনা। তবে জার্মানরা তাদের ফুটবল লিগ্যাসি ধরে রেখেছে।

সেদিন লাইভ খেলা দেখার সময় মানসিক চাপে পরাজয়ের প্রতিটি মিনিটের মাঝে যে গৌরবের প্রতিফলনগুলো সেকেন্ডে সেকেন্ডে ছিল তা উপলব্ধি করতে পারিনি। আজ রিপ্লে দেখে শান্ত মেজাজে আবিষ্কার করেছি তাদের বিশালত্ব। কেন জার্মানি একটি অতুলনীয় টিম- তা খেলার বিশ্লেষণ ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে কয়েকটি পয়েন্টে নজর বুলিয়ে নেই, আসুন-

# কোরিয়া এক ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ড্র করে সম্মান রক্ষা। এই জয়ে তারা নিজেরাই অপ্রস্তুত।

#অন্যদিকে, জার্মানদের জন্য ছিল বাঁচা মরার লড়াই। কী পরিমাণ চাপ ছিল তাদের যে শেষমেশ নয়ার সুইসাইডাল মিশনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহুতি দেয়। যে খেলায় গোলপোস্টের কিপার নেই সে কিপার মৃত।

নিচের ছবিগুলো দেখুন। সেদিন খেলা নিষ্প্রভ মনে হয়েছিল। আসলে বাঁচা-মরার খেলায় সমর্থকদের মাথায়ও স্বাভাবিক সেন্স কাজ করছিল না। কতগুলো আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণ চাপিয়েছে তা অন্তত ডজনেরও বেশী ছিল। হলুদ জার্সি গায়ে কোরিয়ান গোলকিপার জো ছিল জার্মান ভাগ্যের হত্যাকারী। ম্যাচটা যেন ছিল জো বনাম জার্মান ফুটবল দলের। একের পর এক আক্রমণের ব্যর্থ পরিসমাপ্তি হয়েছে জো-এর গ্লাভসে। অসাধারণ এক গোলকিপিং দেখেছি এই বিশ্বকাপে। জো ইজ এ সুপার গোলকিপার।

আবার আসি নয়ার প্রসঙ্গে। এক গোলে হারা ও দুই গোলে হারা দুটোই হারা। অনেকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে পারেন নয়ারের কৃতকর্মের জন্য। আমি দেখছি A pure German Attitude with pride. সে কিন্তু শুধু গোলকিপিং-ই করে নাই, পুরো টিমকে উজ্জীবিত করার জন্য নিজের ক্যারিয়ার রেকর্ডের ক্ষতি করে এক সুইসাইডাল মিশনে নেমেছিল। এতো মহৎ সাহসী ও নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ ইতিহাসে আরও কেউ নিয়েছিল কিনা জান নেই।

প্রথম থেকেই উপর্যুপরি আক্রমণ সত্ত্বেও জাৰ্মানির গোল আসছিলোনা। এক এক করে পঁচাশি মিনিট শেষ অথচ জার্মান খেলোয়াড়দের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হচ্ছিলো খেলা সবে শুরু। লাস্ট মোমেন্টেও জার্মানরা অনেক শাণিত আক্রমণ রচেছে কিন্তু ওই যে হলুদ জার্সি জো, যার কাঁধে স্বয়ং ভাগ্যদেবী বসে ছিল ইনভিজিবল জার্সি পরে, সেই হলো জার্মান দুর্ভাগ্যের রচয়িতা। প্রতিটি শাণিত আক্রমণ গোলপোস্টে লাগছিল, বার ঘেঁসে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, গ্লাভসে পড়ছিলো। কিছুই করার ছিল না। অথচ প্রত্যেকটি প্লেয়ারকে দেখেছি নার্ভ কন্ট্রোল করতে। কোনো ফাউল করে নাই, চিৎকার চেঁচামেচি নেই। আত্মবিশ্বাসের জাহাজ নিয়ে নেমেছিল টিমটি। শুধু ভাগ্যদেবী সাথে ছিল না।

বারবার কোরিয়ান গোলরক্ষকের কাছে পরাভূত হয়েছে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানির সব আক্রমণ

জোয়াকিম কে নিয়ে অনেক ট্রল করলেও নব্বুই মিনিটের পরেও ওর যে আচরণ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেছি- অবিশ্বাস্য। পুরো খেলায় এবং অন্তিম মুহূর্তগুলোতে সস্তা টিম কোচদের মতো প্লেয়ারদের গালিগালাজ করেনি, সাইডলাইনে দাপাদাপি করে নাই। এমনকি যে অফসাইডটি রিভিউ হচ্ছিলো তার বিরুদ্ধেও রেফারির উদ্দেশে টুঁ শব্দও করে নাই। খেলা শেষে বাঁশীর শব্দ যখন বিষের বাঁশীর মতো আমার কানে আসছিল, জোয়াকিমের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিলো একটা টেনশনের জয় পেয়েছে এবং সেকেন্ড রাউন্ডে উঠে গেছে। এটাই নার্ভ অব স্টিল- জার্মান ফুটবল টিম।

বন্ধুরা, এই অদম্য জাতি দুইটা বিশ্ব যুদ্ধ হেরে, অগণিত বিশ্বকাপ হেরে, আবার সর্বাধিক কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড বানিয়ে ক্রমাগত বিশ্বমণ্ডলে মাথা উঁচু করে চলছে। দারুন সব খেলা ও নাটকীয় কাজ করে আমাদের মন জয় করেছে। বিশ্বকাপ তো একটাই, আর দল তো বত্রিশটা। তাই এবার হারা মানেই সব শেষ নয়। এবারের বিশ্বকাপে শুরুতেই কারিশমা ও স্কিলের চেয়ে যে দলগুলো ১২ নম্বর ইনভিজিবল জার্সি পরা ভাগ্যদেবী নিয়ে খেলছে তারাই ভালো দলগুলোর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষমেশ তাদের ঘরেই কাপটা না যায়- এমনটাই ভাবছি। [এইচ এম সোহেলের ফেসবুক পোস্ট থেকে]

(এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)

পাঠকের কথা- এর আরো খবর