English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

হ্যাঁ, আমি পরিবর্তিত হচ্ছি...

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১৭ জুন, ২০১৮ ১৬:২৫

প্রতীকী ছবি

পরিবর্তন :

আমার বন্ধু সেদিন ৫০ বছর বয়সে পা দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নিজের মধ্যে এই বয়েসে পৌঁছে, কিছু পরিবর্তন অনুভব করছো কি?

বন্ধু উত্তর দিল...এত বছর নিজের পিতামাতা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, বন্ধুবান্ধব সবাইকে ভালোবাসা দেবার পর এবার শুধু নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। হ্যাঁ, আমি পরিবর্তিত হচ্ছি।

দীর্ঘদিন পরে বুঝতে পেরেছি যে আমি কোনো মানচিত্র নই যে সমস্ত জগত আমার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। তাই, সবাইকে ঝেড়ে ফেলে আমি বদলে যাচ্ছি।

আজকাল আমি দোকানে, বাজারে গিয়ে দুপয়সা নিয়ে আর ঝগড়া করি না। কারণ আমি বুঝতে শিখেছি, দু-চার পয়সা বেশি খরচ হলে আমি দরিদ্র হয়ে যাব না। বরং যে লোকটি দুপয়সা বেশি রোজগারের আশায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে সে দুপয়সা বেশি পেলে হয়ত তার মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবে। সত্যি, আমি বদলে যাচ্ছি।

আজকাল গাড়ি থেকে নেমে খুচরো টাকা নেবার জন্য অপেক্ষা করে থাকি না। যে লোকটি রোজগার করছে রাতদিন, কটা টাকা বেশি পেলে হয়ত তার মুখে হাসি ফুটবে। সেই হাসিটুকুর আশায় আমি নিজেকে বদলে দিচ্ছি।

বয়স্ক লোকদের বলা একই গল্প বারবার শুনেও বলি না, থাম তো বহুবার শুনেছি। বুঝতে শিখেছি, এই গল্পগুলোর মধ্যে তাদের অতীতের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, যা তাদের নিস্তরঙ্গ জীবনে কিছুটা আনন্দ বয়ে আনে। তাই,আমি আর সেই আগের মত তাদের কথা শুনে বিরক্ত হই না।

লোকের ভুল-ত্রুটি দেখে তাকে শুধরে দেবার জন্য আগের মতন আর প্রাণপণ লড়াই শুরু করি না। কারণ আমি বুঝতে শিখে গেছি, সারা পৃথিবীর লোকদের শোধরানোর দায় আমার নয়। বরং আমার মনের শান্তি আমার কাছে অনেক বেশি দামি।

হ্যাঁ, আমি বদলে গেছি। এখন আমি বিনা কারণেই মানুষকে অভিনন্দন জানাই, তাদের প্রশংসা করি, এতে তারা যে আনন্দ পায়, তাদের সেই আনন্দ পেতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত হই।

আমাকে কেউ অবজ্ঞা করলে আমি আর আগের মতো অপমানিত হই না, দূরে সরে যাই তাদের থেকে। আমি বুঝি, তারা হয়ত আমার মূল্য বুঝতে না পেরে আমায় হেলা করছে, কিন্তু আমি তো জানি আমার কাছে আমি অমূল্য।

আজকাল আবেগের যখন তখন অপ্রত্যাশিত প্রকাশ আমাকে আর লজ্জিত করে না। কারণ আমি শিখে গেছি যে এই আবেগগুলোই আমাকে মানুষ বলে নিজের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়।

এখন আর নিজের ইগোকে আঁকড়ে ধরে থাকি না। বুঝে গেছি, ইগো মানুষকে একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। বরং এটি ছেড়ে দিলে সম্পর্কগুলো সুন্দর হয়ে ওঠে।

প্রতিটি দিনকে জীবনের শেষ দিন মনে করে বাঁচি, তাই দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে জীবনকে উপভোগ করে বাঁচতে শিখে গেছি।

আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করেছি, নিজেকে আনন্দ দেবার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে নেই। আমার আনন্দের জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি নিজেই সম্পূর্ণভাবে আমার সুখ, আমার আনন্দের জন্যে দায়ী। হ্যাঁ, আমি বদলে যাচ্ছি, এই বয়সে পৌঁছে আমি জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে শিখেছি। তাই আমার ভেতরেও পরিবর্তন হয়ে চলেছে।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা...

ফেসবুক থেকে...

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন)

পাঠকের কথা- এর আরো খবর