English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

একটি ‘আক্ষেপকথন’

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১৬ জুন, ২০১৮ ১৮:০৭

রাত না নামলেও ফিনল্যান্ডের ওউলু শহরের সৌন্দর্যে বৈচিত্র্যতার অভাব নেই

আমি যে শহরটাতে থাকি আজকাল সেখানে আর রাত নেই। এখানে সূর্য ডোবে না, তাই ওঠার সুযোগও নেই। দিনরাতকে আমরা নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছি। সত্যি বলছি, বিষয়টা তেমন মন্দ না কিন্তু।

এই পরের বাসে এভাবে সবকিছুই কমবেশি নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিতে হয়। মানিয়ে নিতে হয়। রোজার মাসে দেখেছি মাঝ আকাশের সূর্যটাকে তোয়াক্কা না করেই ইফতার সেরে ফেলছেন কেউ কেউ। আমি অবাক হলেও পরক্ষণেই মানিয়ে নিয়েছি। কে জানে, খোদা-ঈশ্বরকে তুষ্ট করার চেয়ে নিজের তুষ্টিটাই মুখ্য কীনা! মানুষগুলো হয়তো অন্তত নিজেকে রোজদারের কাতারে ভাবার জন্যই নিয়ম করে এভাবে উপোস থাকছেন!

বলতে বলতে একটু অন্য প্রসঙ্গে বলি। এসএসসিতে ধর্ম বিষয়ে আমার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর উঠেছিল। কী লিখেছিলাম তা নিজেও জানি না। তবে এতটুকু বুঝেছি, পরীক্ষার খাতায় আমরা যেভাবে লিখি তা একসঙ্গে করে ছাপিয়ে দিলে তা দিয়ে হয়তো নতুন কোনো গ্রন্থ দাঁড়িয়ে যাবে! এসব ভিন্ন প্রসঙ্গ। বলছিলাম নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেওয়ার কথা। এখানে গতকাল ঈদ ছিল। বাংলাদেশে আজ। কিছুক্ষণ বাদেই ঈদের নামাজের তোড়জোড় শুরু হবে আমার ভূমিতে। সবার পরনে নতুন কাপড়, জামা, জুতো, টুপি। আহা... খানিকটা মিস করছি বৈকি।

আব্বা যতদিন বেঁচে ছিলেন নিয়ম করে এসব বেশ করা হতো। ছোটবেলা সেই কাকডাকা ভোরে তিনি ডেকেডুকে সবাইকে অস্থির করে তুলতেন। আগের রাত থেকে আম্মার রান্নার আয়োজন, সেমাই, পায়েস, ফিরনি, জর্দ্দা। ঘরময় সেই মিষ্টি ঘ্রাণ...আহা। মিষ্টি যাবতীয় খাবার ছিল ঈদের নামাজে যাওয়ার আগের আইটেম। আমরা পাঞ্জাবী পাজামা পরে মিষ্টিমুখ করে নামাজে যেতাম। আমি জানি প্রতিটা মধ্যবিত্ত পরিবারে এই একই চিত্র। জর্দ্দার বিষয়ে আব্বার ছিল বেশ আপত্তি। আম্মাকে প্রায়ই বলতেন, নাজিয়া তুমি এই রং দেওয়া মিষ্টি পোলাওয়ের মধ্যে এমন কী খুঁজে পাইলা? এইটা বাদ দেওয়া যায় না? আবার এটাও ঠিক আব্বাই এসব সবচেয়ে বেশি খেতেন। ভোজনপ্রেমী আমার বাবাটা জীবনে ডায়াবেটিস থাকা সত্ত্বেও কখনও কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করেননি। একদিন দুম করে মরেই গেলেন। কেউ জানুক বা না জানুক সেই দিন থেকে আর কখনো সেভাবে ঈদ উদযাপনে স্বস্তি পাইনি। আজও তাই সেরকম নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া একটি দিন।

আমার দুঃখী দেশের সবাইকে আনন্দের ঈদ শুভেচ্ছা।

প্রবাসী সাংবাদিক এহছান লেনিনেরফেসবুক থেকে...

(এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)

পাঠকের কথা- এর আরো খবর