English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

অজগর সাপ উদ্ধার নিয়ে দুটি কথা ...

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ২৬ মার্চ, ২০১৮ ১০:০৫

গত শুক্রবার দিন সকালে ৯টায় আমাদের পাশের গ্রাম সাতবাড়িয়া বাজারে বসে আছি। মাঠে দেখলাম শতাধিক মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাইকের শব্দ উচ্চ আকারে চলছে। এক ছোট ভাই এসে বললো, ভাইয়া ওখানে অনেক সাপ বাক্সবন্দি করে নিয়ে এসেছে।

আমি এগিয়ে গেলাম লোকের ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। হকার মাইক দিয়ে খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলছে। ছোট ছোট বাচ্চা আছে। মাইক দিয়ে হকার বেল্লাল এমনভাবে বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে হুক্কার দিল আমি নিজেও ভয় পেলাম। সাথে সাথে আমি প্রতিবাদ করলাম ভাই এই বাচ্চাদের কেন ভয় দেখালেন।

আমার প্রতিবাদ দেখে হকার বেল্লাল সংকুচিত হলেন। আমি বললাম কাঠের বক্সের মধ্য কি, খোলেন আমি দেখবো।এদিকে তাদের আসর পুরোদমো চলছে। হকার বেল্লাল আমার হাত ধরে বাহিরে নিয়ে খেলেন আর অনুরোধ করতে লাগলেন ভাই আমি আগে ওষুধ বিক্রি করি আমি আপনার সাথে পরে কথা বলি।

আমি সামনে গিয়ে অন্য ভাইকে বক্স খুলতে বললাম। বাক্স খোলা মাত্র আমার রাগ উঠে গেলো। সাথে সাথে বললাম এই সাপ পেলেন কোথায়? তিনি জানান ৩ বছর আগে টেকনাফ থেকে কিনেছে। আমি তাকে বন্যপ্রাণী আইন বোঝালাম কিন্ত তিনি কোনোভাবেইসাপ ছেড়ে দেওয়া বা প্রশাসনের হাতে দেওয়া রাজি হলেন না। আমি বেশি জোর করতে পারছি না। কারণআমার এলাকায় এসেছে। অবশেষ সবাই মুরুব্বি অনুরোধ করলো মামুনএলাকায় এসেছে তাই কিছু বলিও না।

আমি সবার সামনে বলে দিলাম এই সাপ এনায়েতপুর হকারের বাড়ি থেকে আমরাউদ্ধার করবো। সবার যার যার মত চলে গেলেন আমি আমার কাজে চলে গেলাম।

হকার বেল্লাল ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন দিতে লাগলেন আমার সাথে দেখার করার জন্য। তখন বুঝতে পারলাম যে সে আমাকে টাকা দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি তাকে বললাম আমি বিকালে এনায়েতপুর আপনার ওখানে আসবো।

বিকাল ৪.৩০ দিকে আমি এনায়েতপুর এর উদেশ্য একাই রওনা দিলাম। ওখানে যাওয়ার সময় মারাত্মক ঝুকি মনে হলো। ইতিমধ্যে স্থানীয় সাংবাদিক রফিক মোল্লা ও সাংবাদিক মোক্তার হাসান ও এমদাদুল ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললাম জরুরি কাজ আসে আমি এনায়েতপুর আসছি। কিন্ত কি কাজ এটা কাউকে বললাম না।

বাংলাদেশে জীব বৈচিত্র্য ফেডারেশন এর উপদেষ্টা ও বোডানিক্যাল মিরপুর এর পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিম স্যার ও বন্যপ্রাণী বিভাগের জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলে বিস্তারিত জানিয়ে রাখলাম।

কিভাবে উদ্ধার সহ বিস্তারিত আলোচনা করে রাখলাম।

পাশাপাশি বেলকুচি ইউএনও ওলিউজ্জামান স্যারে কে মোবাইলে কথা বলে বিস্তারিত জানালাম, স্যার এনায়েতপুর থানায় বলে দিলেন। এরপর আমি এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসকে মোবাইল ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানালাম।

বিকাল ৫টায় ২৪ মিনিট সাংবাদিক মোক্তার হাসানের দোকানে পৌঁছিলাম। হকারসহ সবাই উপস্থিত হলো। তারা কোন ভাবে অজগর সাপ দিতে রাজি না। তাদের কে বন্যপ্রাণী আইন বুঝাতে বুঝাতে রফিক ভাই, এমদাদুল ভাই সহ তখন সবাই উপস্থিত। ১ ঘণ্টা বোঝানোর পর হকার বেল্লাল অজগর সাপ দিতে পারি হয়।

অবশেষ সন্ধায় ৭ টার দিকে সাপের বক্স হাজির করেন। সবাই মিলে নিয়ে যাওয়া হলো থানায়। রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসের উপস্থিতে অজগর টিকে সবার সামনে বের করে আনি।

আমি নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে ১ হাজার টাকা বেল্লালের হাতে তুলে দেয় কারন তাকে দেখে অনেক মায়া লেখেছিল।

৭.২২ মিনিট ওসি তাদের গাড়ি দেয় অজগর সাপের বক্স, আমি এমদাদুল ভাই ও আব্দুল্লাহ ভাই পুলিশের গাড়িতে বেলকুচি রওনা দেয়।

অন্য দিকে সাংবাদিক রফিক মোল্লা ও সাংবাদিক মোক্তার হাসান ভাইকে এনায়েতপুর আমাদের মোটর বাইক এর কাছে রেখে যাই।

আমরা ৮ দিকে বেলকুচি উপজেলায় পৌঁছালাম। আমাদের যাওয়া কথা সে জন্য ইউ এন ও ওলিউজ্জামান স্যার অফিস খোলা রেখে অফিসেই ছিলেন।

ওলিউজ্জামান স্যার বেলকুচি চৌহালী বন কর্মকতা শহিদুল ইসলাম কে জানিয়েছেন আসার জন্য। শাহিদুল ভাই চৌহালী থেকে রাতেই রওনা দেন যমুনা সেতু দিয়ে বেলকুচির উদেশ্য ।

এখানে সাংবাদিক জহুরুল ভাইকে ফোন দিয়ে আমাদের কাছে নিয়ে আছি। রাত ৯. ৪০ মিনিটে ইউ এন ও স্যারের বাংলাতো বসে সবাই আলোচনায় করি এবং খাবার খাই।

রাত ১০ টা বন কর্মকতা শহিদুল ভাই হাজির হলেন। লিখিত ভাবে তার কাছে অজগর সাপটি তুলে দেই দিয়ে ইউ এন ও সহ সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পুলিশের গাড়িতে রাত ১১ টায় এনায়েতপুর উদেশ্য রওনা দিলাম।

এনায়েতপুর এসে রফিক ভাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইক নিয়ে বাড়ির উদেশ্য রওনা হই।

শত কষ্ট হলে আনন্দিত কারন যখন কোন সফলতা পাই।

মামুন বিশ্বাসের ফেসবুক থেকে

পাঠকের কথা- এর আরো খবর