English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

তারা আবেগের বশে দেশীয় খাছলতের আলামত রেখে যান দূতাবাসে!

  • তামীম রায়হান   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:০৮

দূতাবাসের আঙিনায় ফেলে রাখা আবর্জ না

পরশু দুপুরে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ দূতাবাসে। বেলা তখন দেড়টা। দূতাবাসে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজনের সংখ্যা কমে এসেছে। কিন্তু এতক্ষণ যে অনেক বাংলাদেশি এই দূতাবাসে নানা কাজে এসেছিলেন, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। তারা কাজ সেরে চলে গেছেন, কিন্তু নিজেদের স্মৃতিচিহ্ন রেখে গেছেন।

দেশে-বিদেশে বাঙালির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ময়লা-আবর্জনা ছাড়া আর কী হতে পারে, সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ জটিল। দূতাবাসের এই আঙিনায় এসে অনেকে হয়তো আবেগতাড়িত হয়ে ভাবেন, তিনি যেন বাংলাদেশেই চলে এসেছেন, আর সেই আবেগের বশে দেশীয় খাছলতের আলামত রেখে যান এখানে। অথচ, কয়েক হাত দূরেই খালি পড়ে আছে একাধিক ডাস্টবিন।

ঠিক একইসময়ে দূতাবাসের বাইরে মূল সড়কের আশেপাশে কোনো ময়লা নেই, যদিও সেখানে সকাল থেকে অনেকে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু দূতাবাসের বাইরে পুলিশবক্স আছে দেখে সেখানে কেউ ময়লা ফেলতে সাহস পাননি। অথচ নিজের দেশের দূতাবাস প্রাঙ্গণে ঢুকে অনেক বাংলাদেশি যেন সেই চিরচেনা খাসলতে ফিরে যান। এরা ভুলে যান, প্রতিদিন এখানে অনেক কাতারি নাগরিক এবং অন্য বিদেশিরাও আসেন, তাদের কাছে এই ময়লা-আবর্জনা কেমন বাংলাদেশের বার্তা পৌঁছাবে!

আরো পড়ুনপ্রবাসে বাংলাদেশি নাগরিকের সদাচরণের একটি সুসংবাদ

এরকম প্রবাসীরা, যারা কাতারে থেকেও নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে অভ্যস্ত হননি, এদের জন্য শুধু যে কাতার নোংরা হয়- তা নয়, বরং আমাদের পুরো পরিচয়টিই কলঙ্কিত হয়। এরা যেখানে সেখানে যখন ময়লা ফেলেন, তখন যেন সেই ময়লা আমাদের মানচিত্রকেও মলিন করে। মুখে মুখে বাংলাদেশ আর দেশের জন্য ভালোবাসার কথা বলা সহজ, কিন্তু সেটি কাজে প্রমাণ করতে যে সচেতনতাবোধ লাগে, তা আজো অনেক কাতার প্রবাসী বাংলাদেশির নেই।

অনেকে ভাবেন, বিদেশে এসে আমরা সভ্য হই। আমি বলি, সভ্য না- জেল-জরিমানার ভয়ে সভ্য সাজতে বাধ্য হই। আদতে আমরা সেই পুরনো অভ্যাস কত কষ্ট করে লুকিয়ে চেপে রাখি, সেই বেদনা কে বোঝে!

তামীম রায়হান: গণমাধ্যম গবেষক, মানবাধিকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার

প্রবাসের কান্না...- এর আরো খবর