English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

আসছে ঈদে দেখা হবে বাবার সাথে

  • মো আবদুল কাদের   
  • ২৭ জুন, ২০১৮ ২২:৩২

আমার একমাত্র মেয়ে নাফিসা আফরিন প্রিমা। ২০১৪ সালে আমি যখন মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেই তখন তার বয়স ছিলো ৪ বছর। জন্মের পর থেকে বাবার সংস্পর্শেই বড় হয়েছে। জীবিকার তাগিদে ৪ বছরের মেয়েকে তার মায়ের কাছে রেখেই আসতে হলো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ এই মালয়েশিয়ায়। কোনও উপায় না পেয়ে চার বছরের ছোট্ট শিশুকে রেখে আসতে যদিও অনেক কষ্ট হয়েছিল কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে মেয়ের ভবিষ্যৎ জিবনের কথা চিন্তা করে বাবার ভালোবাসাকে উপেক্ষিত করে চলে আসতে হয়েছিল সেদিন।

আসার সময় যখনই লাগেজে কাপড় ছোপড় গোছাচ্ছিলাম তখনই মেয়ে প্রশ্ন করে বসেছিল বাবা তুমি কোথায় যাচ্ছ? তার উত্তরে আমি বললাম অফিসের কাজে একটু বাহিরে যাবো, ফিরতে হয়তো দুএকদিন লেগে যেতে পারে তাই এসব কাপড় চোপড় নেয়া। সেদিন মেয়েকে মিথ্যে বলে আসলেও তার বিশ্বাস ছিলো বাবা তার কাছে ফিরে যাবেই যাবে। কিন্তু ভাগ্যের এমন পরিহাস কাজের পারমিট নিয়ে মালয়েশিয়ায় এসেছি ঠিকই কিন্তু ভিসা জটিলতা আর মধ্যস্থতাভোগীদের বেড়াজালে পড়ে জীবনকে এলোমেলো করে দিয়েছে। স্ত্রীকে আসার সময় কথা দিয়েছিলাম প্রতিবছরে একবার করে হলেও বাংলাদেশ এসে তোমাদের দেখে যাবো কিন্তু আজ অবধি তা হয়ে উঠেনি।

ঈদ আসে ঈদ যায় কিন্তু মেয়েটি আর তার বাবাকে কাছে পায় না। একটু একটু করে যখন মেয়েটি বুঝে গেল বাবা-টা তাকে ছেড়ে দূর প্রবাসে চলে গেছে তখন থেকেই বাবার স্মৃতিকে আলিঙ্গন করে থাকতো। বাবার রেখে আসা স্মৃতিগুলোকে আগলিয়ে রেখে এখনও বাবার অপেক্ষায় বসে আছে। বাবার রেখে আসা ছবিগুলোর দিকে চেয়ে চেয়ে কথা বলে এখনো।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দূরে থাকা মানুষগুলোকে কাছে রাখলেও আমার বেলায় তা হয়ে উঠেনি কারণ মেয়েটিকে যখন ভিডিও কলে দেখি তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি। মনকে শক্ত করার উপায় থাকেনা কাজেও তখন মনোযোগ দিতে পারি না। তাই যোগাযোগটাও ছিল সীমিত। মেয়েটির প্রতিটা ফোন কলে প্রশ্ন থাকতো বাবা তুমি কবে আসবা দেশে? তখন উত্তরে বলতাম এইতো সামনেই আসতেছি। এই সামনে মাসের কথা বলে বলে এতোদিন শান্তনা দিয়ে আসলেও এখন আর সেই শান্তনা দিতে পারি না।

কারণ প্রিমার বয়স এখন ৮ পেরিয়ে ৯ বছরে পড়েছে তাই কোন কথাটা সত্য আর কোনটা মিথ্যে সে বুঝে পেলে। এখন আর তাকে মিথ্যে শান্তনা দিয়ে বুঝ দেয়া যায় না।

এইতো ঈদের আগের দিন রাতে যখন মেয়ের সাথে কথা হয় তখন সে আমাকে বলে আমাদের ক্লাসের অনেকের বাবা তো দেশের বাহিরে থাকে। ঈদ আসলে তাঁরা তো দেশে ফেরে কিন্তু তুমি ফিরছনা কেন?

উত্তরে মেয়েকে যখন সদ্য ভিসা পাওয়ার কথা জানালাম এবং আসছে কোরবানি ঈদে দেশে যাবার কথা শুনালাম তখন সে খুশিতে চিৎকার করে উঠলো। এখন যেই তাকে তার বাবা কবে আসবে জানতে চাইলে তার একটাই উত্তর আসছে ঈদে দেখা হবে বাবার সাথে।

মেয়েটি আমার এখন বেজায় খুশি এইজন্য সে হিসেব করে গত চার বছরে যেসব উপহার সামগ্রী পায়নি বাবার কাছ থেকে তার সব কয়টার নাম উল্লেখ করে আমাকে কয়েকদিনের মধ্যে পাঠাবে। এখন আমিও অধীর আগ্রহে বসে আছি মেয়ের পাঠানো লিস্টের জন্য তার সব কয়টা উপহার সামগ্রী কিনেই তবে এবার ফাইনালি দেশে ফিরছি।

মালয়েশিয়া প্রবাসী

প্রবাসের কান্না...- এর আরো খবর