English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

'আপনে কি আওয়ামী লীগার নাকি চাটুকার?'

  • এহছান লেনিন   
  • ৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৫৩

ফেইসবুকে আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু সংখ্যকপ্রকৃত নেতা, অসংখ্য পাতি এবং সেলফি নেতা, ভাইজান নেতা, অনলাইন নেতা ছাড়াও নানা ধরনের নানা মাত্রার নেতা যুক্ত আছেন! মনে কষ্ট নিয়েন না। দল ভাঙ্গাইয়া তো অনেকে অনেক খাইছেন, কামাইছেন, আবার কেউ কেউ হুদাই লাফাইছেন। তাও জিজ্ঞেস করি- ভাইরে কন তো দেখি গত ১০ বছরে দলের জন্য আপনি কী অবদান রাখছেন?

দেশের জন্য যা করার তা তো সরকার করতাছে, দলের জন্য আফনেরা করছেনটা কী? খালি তো দেখলাম অমুক ভাইয়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা (অবশ্যই নামের সামনে ইয়া বিশাল বিশেষণ), তমুক ভাইয়ের সঙ্গে সেলফি (দলের কতটা অন্দরমহলে আপনার পদচারণা তা বোঝানোর জন্য), গণভবন বা বঙ্গভবনে ইফতার পার্টি, ক্ষমতাবানদের আশেপাশে ঘুড়োঘুড়ি।

অনেকেরে দেখছি, সরকারি চাকরি হয় না মন খারাপ কইরা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়- সরকার রাজাকারের ছানাপোনারে চাকরি দেয়, আমাগোরে দেয় না! অনেকেরে দেখছি টেন্ডার না পাইয়া মন খারাপ কইরা কইতে- সরকারের কাছে আমাগো মূল্য হারাইয়া গেছে! আবার এমন অনেকের দেখছি তদবির বাণিজ্য করতে না পাইরা দলের নাড়িভুড়ি লইয়া টান দিতে!

দলের জন্য স্বার্থহীনভাবে কিছু একটা করছেন এমন একটা উদাহরণ দেন তো দেখি। আমি নিশ্চিত শতকরা ৯০ ভাগ একটা উদাহরণও দিতে পারবনা। উত্তরটাও দিতে হইবসেই মানুষগুলারে, যারা কিনা শেখ হাসিনার একটা বাক্য শুনতে রোদে পুইড়া, বৃষ্টিতে ভিজ্জা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধৈর্য ধইরা বইসা থাকে। আবার শেখ হাসিনারে এক পলক দেখলে সব পাওয়া হাসি দিয়া এতক্ষণের কষ্ট ভুইল্লা যায়।

উত্তর দিতে হয় তাদের, যারা কিনা ক্ষণিকের আওয়ামী লীগারগো লাথিগুতা খাইয়াও দলের দুঃসময়ে পাশে থাকে। রিকশা চালাইয়া টাকা জমাইয়া স্কুল বানায়। আবার সেই স্কুলের নাম দেয় শেখ হাসিনার নামে, উত্তর দিতে হয় তাদের। উত্তর দিতে হয় যারা কিনা শেষ সম্বল বঙ্গবন্ধুর নামে লেইখ্যা দিয়া যায়। কই কোনোদিন তো তাগোরে কেউ গণভবনে ডাকে নাই, বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতের দাওয়াত পায় নাই।

উত্তর দিতে হয় তাগোরে যারা সর্বোচ্চ ডিগ্রি লইয়া গ্রামে পইরা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি কইরাও থানার রাজনীতিতে ভাত পায় না। উত্তর দিতে হয় তাগোরে, যারা মরলেও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, বাঁচলেও সৈনিক।

আরে মিয়া চাটুকারের দল, এরা কিছু পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ করে না। কিছু না পারলেও সম্মানটা কিন্তু তাদের প্রাপ্য।

লেখক : ফিনল্যান্ডপ্রবাসী সাংবাদিক,এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইউনিভার্সিটি অব অউলু

পরবাস- এর আরো খবর