English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কে বলে এখনকার ছেলেমেয়েরা দায়িত্বহীন, উড়নচণ্ডী?

  • হুরে জান্নাত শিখা   
  • ২ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৪২

এদের প্রত্যেককে চিনি আমি। বিশ বছর ধরে দেখছি। এরা আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রী। এরা ইয়ং এডাল্ট। এরা দেশের সবচেয়ে নিষ্পাপ জনতা, যারা নিজেরা টিফিন ভাগ করে খায়, বন্ধুকে বাঁচাতে নিজের কাঁধে দোষ তুলে নেয়। এরা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালোই বলে। দুর্নীতি, দলবাজী, অন্যের ক্ষতি করা, অপবিত্র চিন্তা এদের মাথায় নেই।

এরা বাসে উঠে সহপাঠির জন্য সিট ছেড়ে দেয়। এরা এখনও মাথায় হাত রাখলে অশ্রুসিক্ত হয়। এরা এখনও ঘরে ফিরে মায়ের গন্ধ নেয়। চা ওয়ালা, বাদাম বিক্রেতা আর সকল শ্রমজীবী মানুষকে সম্মান করে কথা বলে। পথের পাশে বসে শ্রমজীবী মানুষের সাথে মোটা রুটি খায়৷ দেখানোর জন্য নয়।এরা সত্যিই মানুষকে ভালবাসতে জানে, আমাদের প্রজন্মের চেয়ে বোধ করি আরো অনেক বেশিই ভালবাসে।

আজ এদের প্রতিবাদ সভায় গিয়েছিলাম। তুমুল হট্টগোলের ভেতর দুজন এগিয়ে এলো-

: ম্যাডাম আপনি এখানে এসেছেন?

: কী করবো বল? তোমাদের নিয়ে টেনশন হচ্ছে যে বাবা৷

: ম্যাডাম, চিন্তা করবেন না।আমরা খারাপ কিছু করবো না।আমরা ভালো কিছু করবো বলে নেমেছি।আপনি বাসায় চলে যান।আপনার সাথে আসবো?

: আমাকে নিয়ে ভেবো না। তোমাদের যদি কিছু হয়, ভয় করছি আমরা।

: ইনশাল্লাহ ম্যাডাম কিছু হবে না। আমরা কারো ক্ষতি তো করছি না৷ দেশের ভালো করতে চাইছি।আমরা না করলে কে আমাদের ভালো করবে?

সত্যিই তো! কে ওদের ভালো করবে? ওদের দেশটাকে ওদেরই তৈরি করে নিতে হবে।

কে বলে এখনকার ছেলেমেয়েরা দায়িত্বহীন, স্বদেশচেতনাহীন, উড়নচণ্ডী আর ফেসবুক এডিক্ট? যারা বলে তারা জানে না, এ তরুণরা যে কত বেশি সংবেদনশীল আর নিস্বার্থ কর্মী।

রাষ্ট্রকে তোমরা দেখিয়েছো কীভাবে রাস্তা পরিচালনা করতে হয়। এবার ক্লাসে ফিরে এসো। রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালন করতে দাও।

তোমাদের জন্য শুভ কামনা, আমার প্রিয় সন্তানেরা।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক (মনোবিজ্ঞান বিভাগ), বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ ঢাকা।

(লেখকের ফেসবুক থেকে)

নাগরিক মন্তব্য- এর আরো খবর