English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

রাজনৈতিক দলগুলোর শেখা উচিত এই স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কাছে!

  • ইরাম মাহফুজা   
  • ১ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫০

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আজকের ছবি -কালের কণ্ঠ

আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখেছি, যুদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে আন্দোলন দেখেছি, হেফাজতের নোংরা রাজনীতিও দেখেছি। আর এখন মা হয়ে আজ ছাত্রদের আন্দোলন দেখলাম। আজ আমার মেয়ে ইনায়াকে বেলা সাড়ে ১১টায় মোহাম্মদপুরে ওর স্কুলে নামিয়ে অফিসে ফেরত আসলাম।

দুপুর ১টা ০৫মিনিটে স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলল ইনায়ার জ্বর আপনি এসে ওকে নিয়ে যান!

হাতের সব কাজ ফেলে ম্যাডামকে বলে ছুটলাম স্কুলে। রাস্তা ফাঁকা, আন্দোলন শুরু হয়েছে জানতাম না। মেয়েকে স্কুল থেকে তুলে সিএনজি নিলাম বাসার উদ্দেশ্যে। আসাদগেট থেকে জ্যাম! সিএনজি গেল থানার সামনে ঘুরে; আমাকে আসাদগেট পেট্রল পাম্পে নামিয়ে দিল।

বিনীত অনুরোধ করলাম- মামা একটু ঘুরে হলেও নিয়ে যাও! আমার বাচ্চাটা অসুস্থ- টাকা বাড়িয়ে দিব!

না সে যেতে পারবে না।

বললাম ঠিক আছে আমি একটু ফোনে কথা বলেই নেমে যাচ্ছি। পুলিশি কণ্ঠে সে বলল, তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নামেন! আপনার জন্য ১৮ লক্ষ টাকার গাড়ি ভাঙ্গব নাকি?

ওদিকে মেয়ের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। বাচ্চাটা আমার নেতিয়ে পড়ছিল। তাকে কোলে নিয়ে হেঁটে আসাদগেটে গিয়ে একটা রিকশা নিলাম। সব গাড়ি আড়ং থেকে ঘুড়িয়ে দিচ্ছিল ছাত্ররা। যানবাহনের ভীড় ঠেলে সামনে যেতে পারছিলাম না। খুব অসহায় লাগছিল নিজেকে। মেয়ে গরমে-রোদে-জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। রিকশাওয়ালা মামাকে বললাম, সামনে যাও, অনুরোধ করি ওদের, যদি একটু যেতে দেয়।

আন্দোলনরত ছাত্রদেরকে বললাম, আমার বাচ্চাটা অসুস্থ। একটু যেতে দাও। দুপাশ থেকে দুজন ছাত্র দৌড়ে দৌড়ে আমার রিকশা নিয়ে এগিয়ে দিল ২৭ নম্বর মোড় পর্যন্ত। এসময়ে চারপাশ থেকে কয়েকজন ছাত্র রিকশা আটকাতে আসে রাস্তা বন্ধ বলে। তখন আমাদেরকে এগিয়ে দেয়া ছাত্রদ্বয় বলে- বাবু আছে যেতে দাও। তখন নতুন দলটি আবার আমার রিকশা এগিয়ে নিয়ে যায়। সোবহানবাগ থেকে ধানমন্ডি ৭ নম্বর পর্যন্ত একাই আসি।

মাঝে মেয়ে বমি করে আরও দুর্বল হয়ে পরে। ধানমন্ডি ৬ নম্বর থেকে আবার আন্দোলন এলাকা শুরু। একটা গাড়ি কোনভাবেই সাইড দিচ্ছিল না। আমাকে কাঁদতে দেখে একটি ছেলেকে রিকশাওয়ালা বলল, মামা একটু জামটা ছাড়ায় দেন। ছেলেটি অভিমান ভরা গলায় বলল, জ্যাম লাগাবা তোমরা আর... ছাড়াতে পারব না! তবে এটা বলেই ছেলেটি কিন্তু তার কয়েকজন বন্ধুসহ আবার আমার রিকশা এগিয়ে দেয় হ্যাপি আর্কেড মানে আইডিয়াল কলেজ পর্যন্ত।

তারপর একটু জ্যাম ঠেলে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বাসায় ফিরি অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে। নিঃসন্দেহে বলতে পারি এটা যদি আজ কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন হতো সাহায্য তো দূরের কথা, সহিহ সালামতে বাসায় ফিরতে পারতাম কিনা সন্দেহ।

রাজনৈতিক দলগুলোর শেখা উচিত এই স্কুল পড়ুয়া ছাএদের কাছ থেকে- কীভাবে জনগণে জান-মালের ক্ষতি না করেও আন্দোলন করতে হয়। মনে হচ্ছে আল্লাহপাক এই ছেলেগুলোকে পাঠিয়েছে আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। অনেক অনেক দুআ করি আল্লাহ যেন এই ছাত্রগুলোকে সুস্বাস্থ্য দান করেন। অনেক অনেক বড় হও তোমরা, অনেক অনেক দুআ!

ইরাম মাহফুজা, বেসরকারি চাকরিজীবী

নাগরিক মন্তব্য- এর আরো খবর