English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বাসটির সামনের চাকায় রক্ত ছিল!

  • আনিসুর বুলবুল   
  • ২৯ জুলাই, ২০১৮ ২১:০৪

ছবি : লুৎফর রহমান

কিছু একটা তো হয়েছেই! তা না হলে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে মানুষজন হেটে চলছেন কেন? জ্যামও তেমন একটা নেই। ফ্লাইওভার মাঝ বরাবর আসতেই চোখ চড়কগাছ। পুরো রাস্তায় কাচ আর কাচ। আমি তখনও জানি না, এখানে কী হয়েছে! কৌতুহল মন নিয়ে বাইক আস্তে আস্তে টানছি।

হোটেল রেডিসনের উল্টোপাশে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় দেখি দুটো জাবালে নূর বাস আছে দাঁড়িয়ে। দুটো বাসের কাচ ভাঙা ও আগুনে পোড়ানো হয়েছে। একটি দেয়াল ঘেষে দাঁড়ানো। দেখি সামনে বাসের ধাক্কায় উপড়ে যাওয়া একটি গাছ। বাসটির সামনের চাকায় রক্ত লেগে ছিল! পাশেই ছিল কয়েকটি জুতা।

আমি কিছুক্ষণ সেখানটায় দাঁড়াই। আমার বাইক চলতে চায় না। এই ফ্লাইওভার দিয়ে আমি প্রতিদিনই অফিসে আসি। আমাকে প্রতিদিন দুইবার যাতায়াত করতে হয়। একবার আসার সময় আরেকবার যাওয়ার সময়।

কয়েকদিন আগেও এখানে বাসের ধাক্কায় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র মারা যান। আজকেও সেই একই জায়গায় বাস তুলে দেওয়া হয়েছে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর। ঘটনাস্থলেই নিহত হন প্রথম বর্ষের ছাত্রী নাদিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়েছে।

আমার সঙ্গে প্রতিদিন এই শিক্ষার্থীদের দেখা হয়। তারা এখানে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। যেদিন বৃষ্টি থাকে; সেদিনও তাদের দেখি কেউ বৃষ্টিতে ভিজছে; কেউ একটা ছাতা দিয়ে কয়েকজনের মাথা ঢাকার চেষ্টা করছে। উচ্ছ্বল তারুণ্য, কী বন্ধুত্ব!

আজকে আর সেসব দৃশ্যের বদলে চোখে পড়ছে পুরো রাস্তা জুড়ে কাচ আর কাচ। কিছু দূর পর পর পড়ে আছে ভাঙা গাড়ি; পোড়ানো গাড়ি! সহপাঠীদের ওপরে গাড়ি তুলে দেওয়ার ক্ষোভ তারা সামলাতে পারেনি। সামলাতে পারেনি জনতাও।

আর কত ঝড়বে প্রাণ সড়কে? আর কত মায়ের বুক খালি হবে?

নাগরিক মন্তব্য- এর আরো খবর