English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

জেনে নিন কিভাবে কম খরচে সুখী হবেন

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৯

শরীর ও মনের সুখ-শান্তির জন্য কেউ কেউ বহু টাকা খরচ করে ইয়োগা ক্লাস, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, ব্যয়বহুল স্পা অথবা স্বপ্নের দেশে লম্বা অবকাশ-যাপন। কিন্তু এর কোনটাই কার্যকর নাও হতে পারে। আবারনিত্যদিনের এমন কিছু সাদাসিধে ব্যাপার আছে যা হয়তো একজন মানুষের জীবনকে সুখী, স্বস্তিকর এবং সুন্দর করে তুলতে পারে। এমন কিছু ব্যাপারনিয়ে নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

ঘরকে সবুজময় করে তোলা সাধারণত ঘরের ভেতর গাছপালা থাকলে স্ট্রেস কমিয়ে দেয় এবং সুখকে বাড়িয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে মৌলিক যে বিষয়টি সবাই জানেন সেটা হচ্ছে গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে। যা আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি। কিন্তু এটা হয়তো জানেন না সেটা হচ্ছে কিছু কিছু গাছ বায়ুকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। কারণ তারা বায়ু থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিককে টেনে নেয়।

শরীরের পানির মাত্রা ঠিক রাখা শরীর ও মনের সু্স্থতার জন্য দারুণ কিছু করতে চাইলে দিনে বেলায় প্রচুর পানি পান করেত হবে। কারণ মানুষের শরীরের প্রধান উপাদান পানি।

জানা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারীর শরীরে ৫৫ শতাংশ এবং পুরুষের শরীরে ৬০ শতাংশ কার্যক্ষমতার জন্য পানি প্রয়োজন। সে কারণে শরীরে পর্যাপ্ত জলীয় থাকলে সুস্বাস্থ্য, শক্তির মাত্রা বাড়া এবং মনোযোগের শক্তি বাড়ে।

নিজের কক্ষের নতুন সাজ-সজ্জা আমরা আমাদের ঘর-বাড়ি কিভাবে সাজাই, সেটা আমাদের মন-মানষিকতার ওপর নির্ভর করে। তবে বলা যেতে পারে ঘরের সাজ-সজ্জা মন-মানষিকতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

যদি আপনি নিজের ঘর-বাড়িতে নতুন রূপ দিতে চান তাহলে শোবার ঘর থেকে শুরু করুন। মুক্ত বাতাসের জন্য জানালা খুলে দিন, যতটা সম্ভব দিনের আলো ঘরে ঢোকার ব্যবস্থা রাখুন।

পরিষ্কার রাখুন কাপবার্ডের সবকিছু এবং বিছানার তলা পরিচ্ছন্ন রাখুন।

যদি আপনি ঘরের চেহারাকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে চান তাহলে অনুসরণ করতে পারেন চীনের প্রাচীন ফেং শুই পদ্ধতিকে। সেজন্য বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটিও করতে পারেন।

ফেং শুইতে চি নামের সর্বজনীন শক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বলা হয়, মানবশরীরের অভ্যন্তর ও বাইরে এই শক্তিই সমস্ত কাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

তবে ফেং শুই এর এই সূত্র মানেন বা না মানেন এটি অনুসরণ করে অন্তত দারুণ রুম লে-আউট পাওয়া যেতে পারে।

বাড়িতে তুলির আঁচড় বাড়ির দেয়ালের রং মানুষের মুড বা মন-মেজাজের ওপর দারুণভাবে প্রভাব রাখে।

সবুজ রং প্রকৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। এই রং ঘরের ভেতর ভারসাম্য, সমন্বয় এবং শিথিলতা এনে দিতে পারে।

এ ছাড়াও নীল রং একটি নান্দনিক গুণ সম্পন্ন রং। এটি প্রশান্তির এক অনুভূতি তৈরি করে এবং বিশ্রাম এনে দেয়। এ কারণে এই রং শোবার ঘরের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ।

তবে লাল রং এড়িয়ে যাওয়া উচিত কারণ তা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসকে দ্রুত করে যা হার্ট-রেট এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

পাখিদের গান শুনলে হয়তো কুউ-কুউ- শোনায়, কিন্তু লন্ডনের বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পাখিদের গান বা কিচির-মিচির শব্দ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

স্বেচ্ছাসেবকদের একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাদের(পাখি) মুড রেকর্ড করে রাখতে বলা হয়েছিল এবং তাতে দেখা যায় যে পাখীর গান, গাছপালা এবং আকাশ তাদের যে মানসিক প্রশান্তি এনে দিয়েছিল তার রেশ কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ছিল।

যদি আপনার পক্ষে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে পড়া সম্ভব না হয় এবং প্রকৃতির মাঝে ডুব দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে উপায়?

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সে ব্যবস্থাও অসম্ভব নয়। পাখির কিছু গান বা শব্দ ডাউন-লোড করে ফোনে সেভ করে নিয়ে হেড-ফোন দিয়ে শুনুন। আর চোখ বন্ধ করে ভাবুন প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পোষা বিড়াল গবেষণা বলছে, বিড়াল পোষার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

চার হাজারের বেশি আমেরিকান নাগরিকের ওপর ১০ বছর ধরে চালানো গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্ট্রোক ইন্সটিটিউট ইন মিনেপলিস এর গবেষকরা দেখেছেন, বিড়াল পুষেছেন এমন ব্যক্তিদের অন্যদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে কিংবা স্ট্রোকে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ কম ছিল।

হাসতে থাকুন নির্মল হাসি আমাদের পেশীগুলোকে আলগা করে, রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে, নাইট্রিক অক্সাইড বের করে দেয়। যার ফলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

হাসি স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং শরীরের এন্ডোরফিন শিথিল করে। যার ফলে আমাদের শরীর আরাম পায় এবং এটা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।

হাসি সত্যিকারভাবেই শ্রেষ্ঠ ওষুধ হতেও পারে।

এ ছাড়াও যেসব বন্ধুরা আনন্দ দেয় তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, কমেডি দেখা ইত্যাদি হতে পারে সুন্দর সময় কাটানোর উৎস। আর ততটা সামাজিক না হলে ভিডিও দেখা যেতে পারে।

কাজের ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দৃষ্টিভঙ্গি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ যেমন- সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং আইসল্যান্ড। এসব দেশ বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর অন্যতম।

কাজের ক্ষেত্রে সুখী এবং উন্নতির জন্য বেশকিছু কৌশল অনুসরণ করে থাকে সেখানকার মানুষেরা। যেমন- সুইডেনে একটি রীতি প্রচলিত আছে, যা ফিকা নামে পরিচিত। যার ফলে প্রতিদিন কফি ও কেক খাওয়ার জন্য বিরতি নিতে হয় যখন সহকর্মীরা একত্রে হন।

তারা হয়তো কফির পাত্র নিয়ে বসে এবং সাথে থাকে কিছু ঘরে বানানো খাবার। কর্মক্ষেত্রে ফিকা এক ধরনের অবশ্য পালনীয় রীতি।

পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থতা এবং ভাল থাকার জন্য খাবার এবং ব্যায়ামের মতো মানসিক এবং শারীরিক বিশ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। স্ট্রেস হরমোন লেভেল বেড়ে যায়, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা দেখা যায়।

ভাল ঘুমের জন্য পরিশ্রম দরকার। শোবার ঘরকে পরিষ্কার এবং নীরব রাখা দরকার। এ ছাড়াও রাতে দেরি করে খাওয়াও বন্ধ করতে হবে।

এমনকি সব ধরনের ডিভাইসের আলো যাতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ ফোন বা ট্যাবলেট দিয়ে বেরনো সামান্য নীল আলোও আপনার ঘুম কেড়ে নিতে পারে।

দিনের শেষভাগে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় বাদ দিতে হবে-এটাই তার সময়।

বিবিধ- এর আরো খবর