English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

জোকস : দ্য টাফেস্ট স্পাই!

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫০

সিআইএর দুর্দান্ত স্পাই টম এক সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে ধরেছে। লোকটাকে খুব কঠিন পাত্র মনে হচ্ছে। পদোন্নতির আশায় টম তাকে বস জেমসের কাছে নিয়ে গেল

টম : কঠিন এক গুপ্তচর ধরেছি, বস!

জেমস : কিছু বের করতে পেরেছো?

টম: না, বস। হার্ড বয়েল্ড মাল মনে হচ্ছে। মুখের কপাট খুলছে না কিছুতেই!

জেমস : বলছো কী! নিয়ো এসো দেখি- ব্যাটা কিভাবে মুখ না খোলে...আমার টেকনিক অ্যাপ্লাই করলে বাপ বাপ ডেকে সব উগড়ে দেবে...

এক ঘণ্টা পর- জেমস: তোমার কথাই ঠিক, টম! এই গুপ্তচর খুবই টাফ।

টম: জ্বী স্যার, আমি আগেই বলেছিলাম।

জেমস : এক ঘণ্টা লোহার গরম রুমে আটকায়া রাখছি। ভাবলাম সেদ্ধ হয়ে যাবে...

টম: আউটপুট কী, স্যার?

জেমস : নো রেজাল্ট! ব্যাটা মিচকা শয়তানের মতো হাসি দিতাছে। দেইখা মনে অয়- সি বিচে হাওয়া খাইতেছে! এখন আমার বসের কাছে নিতে হবে একে।

আধা ঘণ্টা পর জেমসের বস রবার্টের কাছে নেওয়া হলো আটক ব্যক্তিকে।

রবার্ট কাহিনী সংক্ষেপ শুনেই চোখ বন্ধে করে নির্দেশ দিলেন- অরে ধুমাইয়া কেমিক্যাল মিশানো পানিতে চুবাও। ওয়াটার ট্রিটমেন্টের বাপ এই পদ্ধতি।

কিন্তু এই কঠিন পদ্ধতির আউটপুট দেখে বাকরুদ্ধ রবার্ট। কারণ, পানি থেকে উঠানোর পর ওই বিষাক্ত পানি এক গ্লাস চেয়ে খেয়েছে অজ্ঞাত দেশের গুপ্তচর বেটা! আরও কিছু কঠিন টেকনিক অ্যাপ্লাই শেষে হতাশ রবার্ট দৌড়াতে দৌড়াতে তার বস হেনরির কাছে গেল অপরাধীকে নিয়ে।

রবার্ট : বস, দিস ইজ দ্য টাফেস্ট স্পাই আই হ্যাভ এভার সিন... অমানবিক ধৈর্য এর, স্যার!

হেনরি : কেন?

রবার্ট: মাথার কাছে একই প্রশ্ন কয়েক হাজার বার করলাম।

হেনরি : দেন? ফলাফল কী?

রবার্ট : কিছুই না, স্যার। মুখ পুরা শাটার গেটের মতো বন্ধ। আন্ধাধুরা পিটাইলাম। পায়ে চাপ দিলাম স্পাইকওয়ালা বুট দিয়া। আঙুলেও চাপ দিলাম বেকায়দা করে। সারা রাত জঙ্গলে মসকিউটোর আখড়ায় ফেলে রাখছি। নো স্লিপ, নো বাথ। অ্যাট দা সেইম টাইম- নো আউটপুট! স্যার... বলতে বলতে হতাশায় কেঁদে ফেলে রবার্ট।

হেনরি ঊচ্চপদের কর্মকর্তা। যা বোঝার বুঝলেন। তিনি সরাসরি সিআইএ চিফের কাছে ছুটলেন সবাইকে নিয়ে।

চিফ অবশ্য ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন জটিল এই কেসটার বিষয়ে। তবে তিনি ঠাণ্ডা মাথার লোক।

সিআইএ চিফ: অ্যানিথিং ভেরি রং হেনরি! ইজ ইট সো ইমার্জেন্সি ইস্যু! তোমাদের এত বিধ্বস্ত লাগছে কেন? সঙ্গের লোকটা... সৌদি আরবে কি গণতন্ত্র... রাশিয়া কি তাইলে পরমাণু বোমা...

হেনরি : ওইসব কিচ্ছু না, স্যার। এই হালার পুতে মানুষ না জানোয়ার? ধৈর্য হারানো কণ্ঠে বলে হেনরি।

সিআইএ চিফ : অত লেকচার না মাইরা ঘটনা খুইলা কও? তোমাগোর লেকচারপ্রীতির কারণে রাশানরা আমাদের নির্বাচনে...

হেনরি: এই বেটা কঠিন এক গুপ্তচর স্যার, বাপের জন্মে ইমুন নমুনা দেখি নাই!

সিআইএ চিফ: কে? সঙ্গের এই লোকটা? এই একটা টিঙটিঙা লোক তোমাদের নাজেহাল করে ফেলেছে? তা-ও আমাগোর হেডকোয়ার্টারে বইস্যা?

হেনরি : স্যার, ও একাই এক হাজার। টর্চারের সব রকমের টেকনিক অ্যাপ্লাই করলাম, নো রেজাল্ট। এরপর মেন্টাল টর্চার করলাম। বললাম, তোমার বাবা মারা গেছে। তোমার পরিবার গায়েব। ব্লাফ দিলাম অনেক। অনেক গুজবের কাহিনী শুনালাম। কিন্তুক সব শুনে মুচকি মুচকি হাসে!!! স্যার কোন মাটিতে তৈরি, গড নোজ...

সিআইএ চিফ : বুঝেছি। টর্চারে কাজ হবে না। তাকে আমার চেয়ারের কাছে নিয়ে এসো।

এবার কোনো ধরনের টর্চার ছাড়া সরাসরি প্রশ্ন শুরু করলেন সিআইএ চিফ : ইউ আর ঠু ইম্প্রেসিভ! কীভাবে এমন টাফ গাই বনলে? কীভাবে নিজেকে ট্রেইন করেছো, ম্যান?

গুপ্তচর: লোল, হাই গাইস! আই এম ফ্রম বাংলাদেশ।

সিআইএ চিফ : সো হোয়াট!!! আসল কথা বলো- আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।

গুপ্তচর: ওকে, তোমাদের আর কষ্ট দেব না। শোন, একঘণ্টা গরমে ঘামা আমার কাছে পানিভাত, আমরা ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় লোকাল বাসে নাক ডেকে ঘুমানো জাতি।

সিআইএ চিফ : কিন্তু বিষাক্ত কেমিক্যাল রেসিসটেন্স কিভাবে হল তোমার? এটা তো আমাদের কল্পনারও অতীত!

গুপ্তচর: আমরা ছোটবেলা থেকেই ফরমালিন খেয়ে-হেগে অভ্যস্ত। আমরা হেন কোন জিনিষ নাই যাতে কেমিক্যাল মিশাই না। চুন, ইটের গুঁড়া সব খেয়ে অভ্যস্ত। দুধ থেকে মদ সব কিছু আমরা ভেজালিফাই করি। ভেজাল মেশাতে আর তা হজমে আমাদের মতো ওস্তাদ পৃথিবী তো পরের কথা, গ্যালাক্সিতেও নাই। প্লাস্টিকের চাল, নকল ডিম সব হজম হয় আমাদের পেটে পড়লে। আমরা মনে হয় ফরমালিনেও ভেজাল মিশাবো কিছুদিন পর।

সিআইএ চিফ : আর অপরিসীম ধৈর্য? এটা কোথা থেকে পেলে!?

গুপ্তচর : ধৈর্য ব্রেক করার জন্য একই প্রশ্ন করা? আমরা উত্তরা থেকে কলাবাগান পৌঁছাই সাড়ে তিন ঘণ্টার জ্যামে, এই সময়ে কন্ডাক্টর বিশবার একই প্রশ্ন কইরা ঘুম ভাঙায়- ভাড়া দিছেন? আমরা মাইন্ড করি না। বুইড়্যারা ঝিমাইতে ঝিমাইতে আর তরুণরা মেসেঞ্জার-ভাইবারে চ্যাট করতে করতে আবার ঘুমায় পড়ে....

সিআইএ চিফ : শারীরিক যন্ত্রণা

গুপ্তচর : আমি তুরাগ এবং ছয় নম্বর বাসের নিয়মিত যাত্রী। নিয়মিত বুট-হাইহিলের গুঁতা, কনুইয়ের গুঁতা ইভেন বাসের হাতল ধরতে গিয়া উষ্টা খাইয়া রাস্তায় প্রায় অন্য গাড়ির চাক্কার নিচে পড়া ডাইল-ভাত। দুই তিন ঘণ্টা জ্যামে বাসে দাঁড়ায় থাকা ওয়ান টুর মামলা। মাঝে মধ্যে পায়ের উপর দিয়া রিকশা-সিএনজি যায়, টেরও পাই না...

সিআইএ চিফ : বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ?

গুপ্তচর : আমার রান্নাঘরে গেলে বুঝবা তেলাপোকা কাকে বলে। ফরমালিন খেয়ে খেয়ে পোকা-মাকড়ের কামড় এখন আমরা টের-ই পাই না। আর মশার ভিতরে ফেলে রেখে আমাকে আবেগতাড়িত করে ফেলেছো তোমরা। আমার তখন দেশের কথা মনে পড়ে গেছিল, এইটাই যা একটু ঝামেলার লেগেছে আমার কাছে... ওহ দেশ আমার, লাভ ইউ...

তোমাদের এক এজেন্ট বারবার নৃশংসতার হুমকি দিতেছিলো আমাকে। কিন্তু সে জানে না, সকালে আমাদের চোখের সামনে মানুষ মরে, বিকালে আমরা সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখি।

সিআইএ চিফ : মিথ্যে ব্লাফ দিলাম যে আমরা? ওই যে পরিবারের খবর- বাবার মৃত্যু...

গুপ্তচর : জন্ম থেকে গুজব শুনতে শুনতে কোনটা ব্লাফ আর কোনটা রিয়েল বুঝে গেছি। আমরা চাঁদে সাঈদিকে দেখি। ব্রিজ বানাতে আমাদের মানুষ বলি দেয়ার গুজব চালু আছে। সো, এইগুলা ব্যাপার না।

সিআইএ চিফ : হু আর ইউ রিয়েললি!? প্লিজ, ডোন্ট হাইড! তোমার রহস্য উদঘাটন না করতে পারলে আমি আফসোসে-ই মরে যাবো, ডিয়ার...

গুপ্তচর : আমি সাধারণ বাংলাদেশি। যাকে তোমরা গুপ্তচর ভেবে ভুল করেছো...

সিআইএ চিফ হন্তদন্ত হয়ে ড্রয়ার খুলে একটি কাগজ বের করে দেন।

ফিল আপ দিস ফর্ম, ভেরি কুইকলি।

কিসের ফর্ম এটা?

তোমারে আজ থিকা সিআইএর ট্রেইনার হিসাবে নিয়োগ দিতে চাই। ইমুন লোকের খোঁজেই তো আমরা ছিলাম... আই স্যালিউট ইউ, বস! (সংগৃহীত)

জোকস- এর আরো খবর