English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

৫০০ চালক নেবে বিআরটিসি

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:১৭

অস্থায়ী ভিত্তিতে ৫০০ জন বাস ও ট্রাকচালক নিয়োগ দেবে দেশের একমাত্র সরকারি পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন

বাস ও ট্রাকচালক চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। নিয়োগ পাওয়ার পর বাধ্যতামূলকভাবে ১০ বছর চাকরি করতে হবে। একজন বাস বা ট্রাকচালক জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডে ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা স্কেলে বেতন এবং সরকারি বিধি অনুসারে অন্যান্য সুবিধা পাবেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়েছে ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিনে।

আবেদনের যোগ্যতা অষ্টম বা সমমানের পাস হলেই আবেদন করা যাবে বাস ও ট্রাকচালক (অপারেটর সি-গ্রেড) পদে। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। আবেদনকারীর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ি চালনায় কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যানবাহনের প্রাথমিক মেরামত, রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সম্পর্কে জানাশোনা থাকতে হবে। থাকতে হবে পরিযানবিধি ও মহাসড়ক সম্পর্কে জ্ঞান।

আবেদন যেভাবে আবেদন লিখতে হবে সাদা কাগজে হাতে বা কম্পিউটারে কম্পোজ করে। আবেদনপত্রে প্রার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা (মোবাইল ও ফোন নম্বর উল্লেখসহ), জন্ম তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর এবং অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সদ্য তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের দুই কপি ফটোকপি, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের দেওয়া চারিত্রিক সনদ ও নাগরিকত্ব সনদ যুক্ত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদ ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সব সনদের ফটোকপি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। এ ছাড়া চেয়ারম্যান, বিআরটিসি পরিবহন ভবন, ২১ রাজউক এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ বরাবর যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডার যুক্ত করতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। ডাক বা কুরিয়ারযোগে আবেদন পাঠানোর ঠিকানা : পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), পরিবহন ভবন, ২১ রাজউক এভিনিউ, ঢাকা-১০০০। খামের ওপর পদের নাম, জেলার নাম এবং কোটা থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক ও নিয়োগ/পদোন্নতি বাছাই কমিটির সদস্যসচিব মো. কামরুল ইসলাম জানান, কালার ভিশন টেস্ট, লিখিত, ড্রাইভিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথমে নেওয়া হবে কালার ভিশন টেস্ট। উত্তীর্ণ হলে একই দিনে নেওয়া হবে ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষায় অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞানসহ গাড়ি চালনার প্রাথমিক নিয়ম-কানুন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে দিতে হবে ড্রাইভিং টেস্ট বা ব্যাবহারিক পরীক্ষা। মোট ৫০ নম্বরের রোড টেস্ট, এল টেস্ট ও র্যাম্প টেস্ট দিতে হবে। সব শেষে নেওয়া হবে ১০ নম্বরের ভাইভা। ভাইভা বোর্ডে সিগন্যাল ও মেকানিক্যাল বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়ে থাকে। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পাঠানো হবে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে। প্রশিক্ষণে পাস করলেই মিলবে নিয়োগপত্র।

পরীক্ষার প্রস্তুতি বিআরটিসি মিরপুর বাস ডিপোর বাসচালক মো. ফয়সাল হোসেন জানান, বিআরটিসির বাস বা ট্রাকচালক হতে চাইলে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিশেষ করে লিখিত ও ড্রাইভিং টেস্ট পরীক্ষার জন্য প্রার্থীর ভালো প্রস্তুতি থাকতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস চাওয়া হয় বিধায় প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার চেয়ে বেশি দেখা হয় গাড়ি চালনার নানা বিষয়। মৌখিক পরীক্ষায় মোটরগাড়ি চালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যাল, মোটরযান বিধিমালা ইত্যাদি বিষয়ের প্রাথমিক দিক সম্পর্কে কতটুকু ধারণা আছে, কর্তৃপক্ষ তা জানতে চায়। বাংলা, ইংরেজি এবং অঙ্ক ছাড়া লিখিত পরীক্ষায় বাকি সব প্রশ্নই করা হয় মোটরযান সম্পর্কিত। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে সিগন্যাল, ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন, গাড়ি চালনার নিয়ম-কানুন বিষয়ে। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য গাড়ির পার্টস, সিগন্যাল, মোটরযানবিধি বিষয়ে ভালো ধারণা রাখতে হবে। সঙ্গে মোটরগাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবহার বিষয়েও ভালো দখল থাকতে হবে। ড্রাইভিং টেস্ট বা ব্যাবহারিক পরীক্ষায় গাড়ি চালনার দক্ষতা দেখা হয়। খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে। মূলত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়, এ পরীক্ষায়ও সেসব বিষয় দেখা হয়। বিআরটিসির ড্রাইভিং ট্রেনিং গাইড বইটি পড়লে প্রস্তুতিতে কাজে দেবে।

হট জবস- এর আরো খবর