English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পঞ্চগড়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • পঞ্চগড় প্রতিনিধি   
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫৮

নর্দান ইলেকটিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি শর্ত পূরণ না করেই শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন একজন গ্রাহক।

পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকার সালাহ উদ্দিন নামের ওই গ্রাহক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে অভিযোগটি করেন। এ ছাড়া তিনি একই অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সাবেক পিডিবি ও বর্তমান নর্দান ইলেকটিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির পঞ্চগড় নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির যোগদান করার পর থেকে এ পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী সরকারি শর্ত পূরণ না করেই মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লিখিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, তেঁতুলিয়া উপজেলার কালান্দিগছ এলাকার ফাবিহা টি কোম্পানি, একই উপজেলার শালবাহান এলাকার চৌধুরীগছ এলাকার নার্গিস হাস্কিং মিল, শালবাহান এলাকার জবেদা অটোরাইস মিল, তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকার ইমপেরিয়াল টি কোম্পানির কারখানা, একই উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আফতাব হ্যাচারি, ব্রিডার-৫, নর্দান লিমিটেড, একই উপজেলার ভজনপুর বামনপাড়া এলাকায় গ্রীন এনার্জি চা ফ্যাক্টরি, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বোর্ড বাজার এলাকায় স্যালিলান টি কোম্পানির কারখানা, একই এলাকার মনসুর সমিল (করাতকল), অমরখানা ইউনিয়নের ঠুটাপাখুরী এলাকায় মলি চা কারখানা, হ্যালিপ্যাড এলাকায় মৈত্রি চা কারখানা, তার পাশেই নর্থ বেঙ্গল টি কারখানা, পঞ্চগড় জেলা শহরের জালাসীপাড়া এলাকায় জিকো অটোরাইস মিল, পঞ্চগড় শিংপাড়া এলাকায় নিটল টাটা মিনি ওয়ার্কশপ, দেওয়ানহাট এলাকায় জমভিটা এলাকার একটি মৎস খামার।

এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি শর্ত পূরণ না করেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সরকারি ট্রান্সফরমার ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এর আগেও ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার ফাটা তাদের সংযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তবে এ বিষয়ে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

অভিযোগকারী সালাহ উদ্দিন বলেন, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির কোনো কাজ টাকা ছাড়া করেন না। আমরা সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। ১৪ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরকারি শর্ত পূরণ না করেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার বিরাট অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ না করায় তারা একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে। তাই আমি প্রধানমন্ত্রী বরাবরঅভিযোগ করেছি।

নেসকো পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে অভিযোগ করেছে সে মিথ্যে বলেছে। মূলত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানেই সরকারি নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা- এর আরো খবর