English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

নিরাপদ খাদ্য

নজর এবার পণ্যের প্যাকেটে

  • শওকত আলী    
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৪

নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তায় শুধু মানেই নয়, নজর দেওয়া হচ্ছে এবার পণ্যের প্যাকেটে। একটি পণ্যের প্যাকেট কোনোভাবেই যেন তার ভেতরে থাকা খাবারকে বিষাক্ত বা দূষিত করে তুলতে না পারে এ জন্য প্যাকেটটি কেমন হবে তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ জন্য একটি প্রবিধানমালা তৈরির কাজ করছে। প্রবিধানমালাটির নাম দেওয়া হয়েছে নিরাপদ খাদ্য (খাদ্য স্পর্শক) প্রবিধানমালা, ২০১৮। প্রবিধানমালায় কোন ধরনের প্যাকেট বা মোড়ক ব্যবহার করা যাবে বা যাবে না তার বিস্তারিত নিয়ম-নীতি থাকছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৩ নং আইন) এর ৮৭ ধারার ক্ষমতাবলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইনের ধারা ৩২ এর আলোকে খাদ্যদ্রব্য প্যাকেটজাত করার উপকরণ নিয়ে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা এরই মধ্যে মতামতের জন্য সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রবিধানমালায় খাদ্যের স্পর্শক বলতে সেই সব উপকরণকে বোঝানো হয়েছে, যা খাদ্যের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা আছে, এরই মধ্যে খাদ্যের সংস্পর্শে এসেছে অথবা যা খাদ্যের সংস্পর্শে আসতে পারে।

দেশে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারের রয়েছে নানা ধরনের মোড়ক। প্লাস্টিক হলে সেগুলো যেন ফুড গ্রেডের হয়, ছাপার কালি যেন খাবারের সঙ্গে লেগে না যায় এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় সামনে নিয়েই প্রবিধানটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট তৈরিতে সাধারণত আঠা, সিরামিক, ছিপি, রাবার, কাচ, আয়ন-এক্সচেঞ্জ রজন, ধাতু ও সংকর ধাতু, প্লাস্টিক, ছাপানোর কালি, প্রক্রিয়াজাত সেলুলোজ, সিলিকন, কাপড়, বার্নিশ ও আচ্ছাদন, মোম, কাঠসহ আরো অনেক বস্তু ব্যবহার করা হয়। যেগুলো সরাসরি খাদ্যের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। এগুলো সংস্পর্শে খাদ্যবস্তু কতটা নিরাপদ থাকবে সে লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে প্রবিধানমালাটি।

এ বিষয়ে বিএফএসএর সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, একটা খাবারকে নিরাপদ করতে হলে সবদিকেই সমান দৃষ্টি রাখতে হবে। খাবারের মান নিয়ে কাজের পাশাপাশি এখন আমরা পণ্যের প্যাকেট নিয়েও কাজ করছি। একটা প্যাকেট নিরাপদ না হলে সেই খাবারটিও অনিরাপদ হওয়া খুব স্বাভাবিক। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রবিধানমালাটির কাজ হয়েছে।

প্রবিধানমালায় প্যাকেট বা স্পর্শক ব্যবহারে কিছু আবশ্যকতার কথা বলা হয়েছে। খাদ্য স্পর্শকের অনুমোদিত তালিকার ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউএস এফডিএ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনুমোদিত তালিকার সর্বশেষ তালিকা প্রযোজ্য হবে। এই প্রবিধানমালায় নির্ধারিত আবশ্যক শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে কোন উপকরণ অথবা বস্তু বাজারজাত করা যাবে। কোন বিশেষ উপকরণের বিষয়ে যেকোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। আবার কর্তৃপক্ষই নিশ্চিত করবে যে দেশে উৎপাদিত ও আমদানীকৃত মোড়কজাত পণ্যসামগ্রী আন্তর্জাতিক বিধি বিধান ও শিল্পমানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীর সব উপকরণ ও বস্তু আন্তর্জাতিক মান এবং খাদ্যের সংস্পর্শকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে সত্যায়ন করার সামর্থ্য থাকতে হবে।

সাধারণভাবে ব্যবহৃত মোড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার দেখা যায় প্লাস্টিকের উপকরণ। এ জন্য প্লাস্টিকের উপকরণ ও বস্তুকণা ব্যবহারে আলাদা গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে প্রবিধানে। এতে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক উপকরণ ও বস্তুকণা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে ব্যবহৃত পদার্থ স্বাস্থ্যসম্মত ও কারিগরি মানসম্পন্ন হতে হবে এবং এটি ব্যবহারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও বিশুদ্ধ হতে হবে। উৎপাদনকারীকে উপাদানের সন্নিবেশন সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা সাপেক্ষে উপস্থাপনযোগ্য উপায়ে সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ছাড়া প্যাকেট তৈরির কোনো বস্তুকণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিষেধাজ্ঞা ও শর্তাবলি বিশেষত সুনির্দিষ্ট ও সামগ্রিক ব্যবহার সীমা অনুসরণ করতে হবে। ফের ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপকরণ ও বস্তুকণার ক্ষেত্রে ইউএস এফডিএ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান, বিধি প্রবিধির সর্বশেষ সংস্করণ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

খাদ্য স্পর্শক ব্যবসায়ীরা ঘোষণা করবেন খাদ্য স্পর্শক বস্তু ও বস্তুকণার কাঁচামাল ব্যবসায়ীর পরিচিতি ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা থাকতে হবে, কাঁচামালের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি থাকতে হবে, সত্যায়নের লিখিত ঘোষণার তারিখ, মানদণ্ড অনুসরণের ঘোষণা, ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষয়কারী উপাদান সম্পর্কিত পর্যাপ্ত তথ্যও থাকতে হবে।

এ ছাড়া খাদ্য স্পর্শক বস্তু ও বস্তুকণার উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের যেকোনো স্তরে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। স্পর্শক তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল দেশি ও আন্তর্জাতিক বা শিল্পমানের অনুযায়ী ব্যবহার হয়েছে কি না তা যাচাই করবেন। এগুলো শুধু দেশে উৎপাদিত খাদ্যের ক্ষেত্রেই নয়, আমদানি করা খাদ্যের ক্ষেত্রেও পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে। কর্তৃপক্ষ অথবা অন্য কোনো খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক কোনো প্রকার নোটিশ প্রদান করা হলে এই প্রবিধানের বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য স্পর্শক ব্যবসায়ীকে যথাযথভাবে সর্বসাধারণের প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাণিজ্য- এর আরো খবর