English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামায় জেটি পাচ্ছে বড় শিল্প গ্রুপ

  • আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৩০

বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম উদ্যোগে সময় ও খরচ কমবে

কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা সদরঘাটের পাঁচটি লাইটার বা ছোট জেটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামভিত্তিক শীর্ষ শিল্প গ্রুপকে। বিদেশ থেকে আনা পণ্য বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে এক দফা নামানোর পর বাকি পণ্য এসব জেটিতে এনে খালাস করবে এসব শিল্প গ্রুপ। বন্দরের ইতিহাসে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের জেটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ এটিই প্রথম। এটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপেরও (পিপিপি) বড় উদাহরণ।

ব্যবহারকারীরা বলছেন, বিদেশ থেকে নিজেদের জাহাজে পণ্য এনে নিজেদের জেটিতে খালাস করার সুযোগ পাওয়ায় শিল্প গ্রুপগুলোর পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কমবে। পণ্যবাহী জাহাজকে বহির্নোঙরে বাড়তি সময় বসে থাকতে হবে না; কম সময়ে বেশি পণ্য খালাস করতে পারবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পাঁচটি লাইটার জেটির মধ্যে দুটি জেটি পরিচালনা শুরু করেছে কেএসআরএম গ্রুপ ও কনফিডেন্স সিমেন্ট। একটি জেটিতে বিএসএম গ্রুপের দর কম থাকায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্য দুটি জেটিতে বিএসআরএমসহ একাধিক শিল্প গ্রুপ আবেদন করেছে। গতকাল শনিবার সেগুলোর দরপত্র ডাকা হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, শিল্প গ্রুপকে জেটি বরাদ্দ দেওয়া ব্যবসাবান্ধব চট্টগ্রাম বন্দর করার একটি বড় উদাহরণ। বড় শিল্প গ্রুপগুলোর পণ্য আমদানির পরিমাণ এত বেশি যে তাদের জন্য পৃথক জেটির প্রয়োজন। সেটি আমরা অনেক আগে থেকেই অনুভব করেছি। এখন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জেটি বরাদ্দ দেওয়ায় সেই বিপুল পণ্য ওঠানামার চাপ বন্দরের ওপর আসবে না। তারাও দ্রুত পণ্য খালাস করতে পারবে।

তিনি বলেন, এই পাঁচটি জেটি ছাড়াও কর্ণফুলী নদীর তীরে পর্যায়ক্রমে আরো ১৫টি লাইটার জেটি নির্মাণ করছি। এর মধ্যে লালদিয়ায় ইনকনট্রেড ডিপোর পাশে পাঁচটি লাইটার জেটির নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়া চান্দগাঁওয়ের হামিদচরে পাঁচটি ও সীতাকুণ্ড এলাকায় পাঁচটি। এসব জেটিও বড় শিল্প গ্রুপকে একই প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, পাঁচটি জেটির মধ্যে ৪ নম্বর জেটিটি বছরে পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকা বন্দরের তহবিলে দিয়ে পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেএসআরএম গ্রুপ। এই জেটিতে লোহা ও ইস্পাত শিল্পের পণ্য খালাস করা হবে। আর ৫ নম্বর জেটি বছরে চার কোটি ৬১ লাখ টাকা দিয়ে পরিচালনার কাজ পেয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। এই জেটিতে শুধু সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল খালাস করা হবে।

কেএসআরএম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং) ক্যাপ্টেন দিদারুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের নিজেদের ১৮টি মাদার ভেসেল আছে। আবার নিজেদের লাইটার জাহাজও আছে। ফলে জেটিতে পণ্য খালাসে আমাদের খরচ অনেক সাশ্রয় হবে। আর সঠিক সময়ে পণ্য আসা নিশ্চিত হওয়ায় আমাদের কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারব। তিনি বলেন, অন্য প্রতিযোগীর তুলনায় আমরা হিসাব কষে ডাবল দর দিয়েছি বন্দরকে। ফলে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, বন্দরের আয়ও বেড়েছে।

১ নম্বর জেটি পরিচালনার দরপত্র জমা দিয়েছে ভোগ্য পণ্য আমদানির শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তিন কোটি ১০ লাখ টাকা দেওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি অনুমোদন করেনি। এই জেটিতে শুধু খাদ্যশস্য খালাস করা হবে।

বন্দরের এই উদ্যোগ শুভ উল্লেখ করে বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, এর ফলে বহির্নোঙরে জাহাজকে বসে থাকতে হবে না, সাপ্লাই-চেইন সঠিক থাকবে। আমদানি পণ্য নষ্ট হবে না, দ্রুত খালাস নিশ্চিত হবে। কিন্তু ইস্পাতশিল্পের জন্য যে দর দেওয়া হয়েছে খাদপণ্যের জন্য সেই দর জুতসই নয় বলে তিনি ভিন্ন মত দেন। কারণ ইস্পাত পণ্য দিন-রাতে ও বৃষ্টিতে খালাস করা গেলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।

৩ নম্বর জেটি পরিচালনার জন্যও দরপত্র জমা দিয়েছিল কেএসআরএম গ্রুপ; কিন্তু একটি শিল্প গ্রুপকে একাধিক জেটি পরিচালনার সুযোগ দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাকি থাকা ২ ও ৩ নম্বর জেটি পরিচালনার দরপত্র ডাকা হয়েছে শনিবার। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলোও চূড়ান্ত করা হবে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলেছেন, ৫ নম্বর জেটি ৭৫ মিটার দীর্ঘ হওয়ায় সেখানে দর আনুপাতিক হিসেবে দর কম রাখা হয়েছে। বাকি সব জেটি ১০০ মিটার দীর্ঘ হওয়ায় প্রতিবছরের জন্য পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকার কাছাকাছি থাকলেই শুধু বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রত্যেককে আগামী ১০ বছরের জন্য জেটি বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতিবছর উক্ত টাকা জমা দিয়ে তারা কার্যক্রম চালাবে।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটে ২০১৩ সাল থেকে এসব লাইটার জেটি নির্মিত হয়। বিভিন্ন জটিলতায় আগে কর্মরত বন্দর চেয়ারম্যানরা কেউই এসব জেটি চালু করতে পারেননি। বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ যোগদানের পর আমদানি পণ্য খালাসে গতি আনতে নতুন পাঁচটি লাইটার জেটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল, বহির্নোঙরে জাহাজের জট কমিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস এবং বন্দরের জেটির ওপর চাপ কমানো।

বাণিজ্য- এর আরো খবর