English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সিআইপি স্বীকৃতি পেলেন ১৩৬ ব্যবসায়ী

সিইটিপির জন্য চামড়া রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৪৩

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ীদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের রপ্তানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হলেও সাভারে চামড়া শিল্পপল্লীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের প্রকল্প (সিইটিপি) কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, সাত থেকে আট মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি থেকে আজ এ আয় ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের চামড়া ছাড়া সব খাতে রপ্তানি আয়ে ভালো হলে ও সিইটিপির জন্য এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গতকাল সোমবার ২০১৫ সালের জন্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ১৩৬ ব্যবসায়ীকে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ কার্ড তুলে দেন। এতে বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।

রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯৪ জন এবং পদাধিকার বলে ট্রেড ক্যাটাগরিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) ৪২ জন পরিচালককে সিআইপি কার্ড দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। আমরা বিশ্বাস করি ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হলে দেশের উন্নয়ন হবে। তাই সরকার রপ্তানি আয় বাড়াতে রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দেয়। এবারও আসবাবপত্র, ওষুধসহ আরো ৯টি খাতে নতুন করে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

কাঁচা পাট, চামড়া (ক্রাস্ট ও ফিনিশড), চামড়াজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, ওভেন গার্মেন্ট, কৃষিজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, ডিহাইড্রেটেড সল্টেড ও অন্যান্য মাছ, ওভেন ও নিটওয়্যার পোশাক, প্লাস্টিক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির তালিকায় রয়েছে।

বাণিজ্যসচিব বলেন, সিআইপি ব্যবসায়ীদের কার্ড প্রদানে আমাদের কিছুটা দেরি হয়। এবারও ২০১৫ সালের সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আমাদের কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়। বিশেষ এজেন্সির মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স নেওয়া একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

এফবিসিসিআই সভাপতি রপ্তানি আয় বাড়াতে ইপিবিকে শত শত মেলা না করে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় আকারের মেলা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বাইরে খুপরির মধ্যে যেসব মেলা করা হয় এতে দেশের এবং ব্যবসায়ীদের কোনো কাজে লাগে না।

নির্বাচিত সিআইপিদের পক্ষে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালের এম এ মোক্তাদির বলেন, রপ্তানি বাড়াতে আমাদের গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বের সব দেশেই তা হয়। গবেষণার ওপর তাদের শুল্ক মওকুফ করা হয় এবং নগদ সহায়তাও দেওয়া হয়। এটা করা গেলে আমাদের রপ্তানি আয়ও দ্বিগুণ করা সম্ভব।

এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে আমাদের প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাই বিশ্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের মনিটরিং এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রচারণায় জোর দিতে হবে।

সিআইপিদের জন্য ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ করে লেটার অব ইনট্রোডাকশন ইস্যু করবে। সিআইপিরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সিআইপি ব্যক্তিদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

এ ছাড়া নির্বাচিত সিআইপিরা এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। সিআইপি কার্ডের মেয়াদকালীন বাংলাদেশ সচিবালয়ে যাওয়ার জন্য প্রবেশপত্রসংবলিত গাড়ির স্টিকার পাবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান, রেল, সড়ক ও জলযানে আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

বাণিজ্য- এর আরো খবর