English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের টোল নির্ধারণ

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৪৭

ফাইল ফটো

নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরুর আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েতে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনা করে দেখা গেছে, এই হার ভারতে চালু হওয়া এক্সপ্রেসওয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টোল বেশি ধরা হলে ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারাবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি (৬০ শতাংশ) চলাচল করে পণ্যবাহী ট্রাক। টোল বেশি ধরা হলে ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই তা আদায় করে নেবে পণ্যে বাড়তি দাম ধরে। বাসের ক্ষেত্রেও পকেট কাটা হবে যাত্রীদের।

প্রতিবন্ধকতা প্রায় থাকে না বলে এ ধরনের সড়ককাঠামো অনেক সময় বাঁচায়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো এক্সপ্রেসওয়ে হয়নি। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ অর্ধেক হয়েছে, বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের টোল নির্ধারণ করা হয়ে গেলেও দরপত্র এখনো ডাকা হয়নি।

জানা গেছে, ভারতের মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের টোল কিলোমিটার প্রতি ১১ টাকা ২০ পয়সা ও ট্রাক আট টাকা ২০ পয়সা। এলাহাবাদ বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে বাস ও বড় ট্রাকের টোলের হার প্রায় ১১ টাকা। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাাম এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ট্রাকে প্রতি কিলোমিটারে টোল ২১ টাকা, বড় বাসে ১৫ টাকা, মাঝারি ট্রাকে ১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ সওজ অধিদপ্তর বলছে, এটা আপাতত নির্ধারণ করা হয়েছে, চূড়ান্তভাবে তা আরো বাড়তেও পারে।

বুয়েটের অধ্যাপক, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য ড. সামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের দেশে টোল নির্ধারণের বিজ্ঞানসম্মত কোনো ভিত্তি নেই। একেক পরামর্শক একেকভাবে তা নির্ধারণ করেন। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে টোল পাশের দেশের চেয়েও বেশি দেখা যাচ্ছে। এ হার যুক্তিযুক্ত করা উচিত হবে। না হলে ব্যবহারকারীরা আগেই নিরুৎসাহ হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হবে ঢাকার বিমানবন্দর সড়ক থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালি পর্যন্ত। সেটিতেও টোল দিতে হবে।

অতিরিক্ত টোল নির্ধারণ হলে পণ্যের দামও বেড়ে যাবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী বলেন, আমাদের দেশে এ ধরনের মহাসড়ক নেই। তবে হওয়ার আগেই বেশি টোল ধরা হলে পরে তা আরো বেশি নির্ধারণের সুযোগ আছে। এমনিতেই দুই সেতুর টোল বেশি।

সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের সমান্তরালে ছয় লেনের একটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রকল্প দুই বছর আগেই চূড়ান্ত হয়। ২০২২-২৩ সাল থেকে যানবাহন চলতে পারবে ধরে নিয়ে সম্প্রতি টোলের হার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অর্থ বিভাগের পিপিপি ইউনিটের প্রকল্প পর্যালোচনা শাখা থেকে। বড় ট্রাক প্রতি কিলোমিটারে টোল ২১ টাকা, বড় বাস ১৫ টাকা, মাঝারি ট্রাক ১৩ টাকা, ছোট ট্রাক ১০ টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ ও কারের জন্য তিন টাকা, মিনিবাসের জন্য ১২ টাকা, মাইক্রোবাসের জন্য আট টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির টোল নেওয়া হবে তুলনামূলক কম; মোট পথের জন্য ৬৫০ টাকা। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতী সেতুতে টোল দিতে হয় প্রতি বাস ও ট্রাকে ৪০০ টাকা। তবে এক্সপ্রেসওয়েতে বড় বাসে তিন হাজার ২৫৫ টাকা ও ট্রাকে চার হাজার ৫৫৭ টাকা দিতে হবে। এই এক্সপ্রেসওয়েতে সাতটি ইন্টারচেঞ্জ, মেঘনা ও গোমতী নদীর ওপর দুটো সেতু, ২০ লেনের দুটি প্রধান টোল প্লাজা ও ইন্টারচেঞ্জ র্যাম্পে পাঁচটি টোল প্লাজা থাকবে। নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেটের আগে সলিমপুর পর্যন্ত প্রায় ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এটি। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বহন করবে সরকার। তিনটি ভাগে ভাগ করে নির্মাণ করা হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে কুমিল্লা, কুমিল্লা থেকে ফেনী, ফেনী থেকে চট্টগ্রাম অংশ নির্মাণ করা হবে। এ এক্সপ্রেসওয়ের ৩০ শতাংশ হবে উড়াল এবং ৭০ শতাংশ হবে ভূমির সমতলে। এটি হবে প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত বা এক্সেস কন্ট্রোলড মহাসড়ক। ২০১৮ সালে শুরু করে ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে।

দেশে নির্মীয়মাণ প্রথম প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত ৫৫ কিলোমিটার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচলেও টোল দিতে হবে। মহাসড়কটি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত যাবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৫৬ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পদ্মা সেতুর জন্য মাওয়া ও জাজিরায় টোল প্লাজা নির্মাণ করা হয়েছে। সময় বাঁচাতে সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল একসঙ্গে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। টোলের হার চূড়ান্ত করা হয়নি। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ হাজার ৮৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রকল্প কার্যালয় থেকে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৫৬ শতাংশ। এ প্রকল্পে বড় সেতু হবে চারটি, ছোট সেতু ২৫টি, উড়াল সেতু পাঁচটি এবং রেলওয়ে ওভারপাস হবে চারটি। টোল প্লাজা হবে দুটি। স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন থাকবে। সেগুলো দিয়ে বিনা টোলে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্প কর্মকর্তারা আশা করছেন।

সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ভাঙ্গা দুটি প্রকল্পেরই বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। তার মধ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বেশি এগিয়েছে। উভয় মহাসড়কে টোল দিতে হবে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে।

বাণিজ্য- এর আরো খবর