English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

শিগগিরই বৃহত্তর ঐক্য হবে : ফখরুল

পরিবেশ তৈরি হলেই নির্বাচন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:২০

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু ত্যাগ স্বীকার না করলে বৃহত্তর ঐক্য কখনোই হবে না। আমরা বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গোটা দেশ এটাই চায়।

গতকাল শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময়সভায় ফখরুল বলেন, গ্রেটার ইউনিটির জন্য ছাড় দিয়ে আমাদের আজকে একটা না একটা জায়গায় আসতে হবে। অন্য যাঁরা আছেন তাঁরাও বোঝেন এটা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। আমরা বিশ্বাস করি, অতি দ্রুত জাতীয় ঐক্য ইনশাআল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমগ্র জাতি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে মুক্ত করবার জন্যে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার জন্যে এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্যে আন্দোলন করবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আপনাদের মাঝে একটা ভুল ধারণা কাজ করছে, সেটি হলো অনেকে বলে থাকেন খালেদা জিয়াকে ছাড়া আলোচনার কথা। এটা আপনাদের ভুল ধারণা। খালেদা জিয়ার মুক্তি বাদ দিয়ে কোনো আলোচনা নয়। সবাই তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন করছে। বি চৌধুরী নিজেই বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময়সভাটির উদ্বোধন করেছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০ দলীয় জোটের নেতা কাজী জাফর আহমদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, নির্বাচন তখনই হবে যখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। অর্থাৎ দেশনেত্রী বাইরে থাকবেন। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে যোগ্য মানুষ দিয়ে পুনর্গঠিত করতে হবে এবং নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এই আলোচনাসভার আয়োজন করে। কাজী জাফরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু স্মৃতিও তুলে ধরেন একসময়ের বাম ঘরানার নেতা মির্জা ফখরুল।

নয়াপল্টনে মতবিনিময়সভায় রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে দলের নির্বাহী কমিটির সভায় বলেছিলেন, আমি হয়তো কারাগারে চলে যাব। কিন্তু আপনারা সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটা ঐক্য গড়ে তুলুন। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই দানবকে পরাজিত করুন। সভায় ফখরুল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায়, থানা-ওয়ার্ডসহ সারা দেশে যে মামলা হচ্ছে সেগুলোর একই রকম কথা। মনে হয় যেন ফরমেট তৈরি করে দিয়েছে, সেই ফরমেটে এফআইআরগুলো তৈরি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার টিকতে পারে না। কারণ তারা জনগণ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। আমি আপনাদের জোরের সঙ্গে বলতে পারি, এদের পতন আসন্ন বলেই আজকে এরা পাগল হয়ে গেছে, রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে।

সভায় রিজভী আরো বলেন, দেশনেত্রীর মামলার বিচারের আদালত দ্রুততার সঙ্গে স্থানান্তর করে কারাগারে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও মানবতাবিরোধী। এভাবে একটা কারাগারের মধ্যে কখনোই বিচার হতে পারে না। ছোট একটা ঘরের মধ্যে ক্যামেরা ট্রায়াল করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, জিয়াউর রহমান এ ধরনের বিচার করেছিলেন। না, জিয়াউর রহমান সাহেব সেই ধরনের বিচার করেনি। বিচারটা হয়েছিল মার্শাল লর অধীনে।

সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় সভায় বিএনপির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের আজিজুল হক লেবু কাজী, এম এ বারী, আবদুল হালিম মিঞা প্রমুখ।

প্রেস ক্লাবের আলোচনাসভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীমের পরিচালনায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম এম আলম, আহসান হাবিব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস, রুহুল আমীন, সেলিম মাস্টার, প্রয়াত নেতা কাজী জাফর আহমদের মেয়ে কাজী জয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, বিএনপির ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল আলোচনায় অংশ নেন।

রাজনীতি- এর আরো খবর