English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী

  • মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ   
  • ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৪৪

জান্নাতের প্রেমিকদের কাছে জান্নাতের মূল্য অনেক বেশি। জান্নাতের জন্য তাঁরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কেন তাঁরা জান্নাতের জন্য এমনটি করবেন না? অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন, জান্নাতের সবচেয়ে নিম্নস্তরের লোকও সুখী থাকবে। সামান্য লোকও বাদশা হয়ে বসবাস করবে। সহিহ মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, সর্বশেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে পুলসিরাতে একটু হাঁটবে আবার পড়ে যাবে। জাহান্নাম তাকে আঘাত করবে। এভাবে সে পুলসিরাত পুরোটা অতিক্রম করবে। তখন সে বলবে, ওই সত্তা কত মহান, যিনি আমাকে এ বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাকে যা দিয়েছেন, আগে-পরের আর কাউকে তা দেননি। অতঃপর সে বিশাল এক গাছের সামনে আসবে। সে বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে এই গাছের কাছে নিয়ে যান। যাতে আমি এর ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি। এখান থেকে পানি পান করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমের সন্তান, আমি তোমাকে এটা দিলে তুমি আবার অন্য কিছু চাইবে? তখন সে বলবে, হে রব, না। এমন হবে না। আল্লাহর সঙ্গে সে অঙ্গীকার করবে যে এর পর থেকে সে আর কোনো কিছু চাইবে না। আল্লাহ তাআলাও তার অপারগতা গ্রহণ করবেন। তিনি দেখবেন এ বান্দার ধৈর্যচ্যুতি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে গাছের কাছে নিয়ে যাবেন। সে গাছের ছায়ায় দাঁড়াবে। পানি পান করবে। কিছুক্ষণ পর আগের চেয়ে আরো সুন্দর একটি গাছ দেখবে। সে বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে এই গাছের কাছে নিয়ে যান। যাতে আমি এর ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি। এখান থেকে পানি পান করতে পারি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমের সন্তান, তুমি কি আমার সঙ্গে ওয়াদা করোনি যে এর পর থেকে আমার কাছে আর কিছু চাইবে না? অতঃপর বলবেন, তোমাকে এ গাছের কাছে নিয়ে গেলে আর অন্য কিছু চাইবে? সে বলবে, না। অতঃপর আল্লাহর সঙ্গে সে অঙ্গীকার করবে, এর পর থেকে সে আর কোনো কিছু চাইবে না। আল্লাহ তাআলা এ বান্দার ধৈর্যচ্যুতি দেখে তার অপারগতা গ্রহণ করবেন। কিছুক্ষণ পর জান্নাতের দরজার কাছে আগের দুটি গাছের চেয়ে আরো সুন্দর একটি গাছ দেখবে। সে বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে এই গাছের কাছে নিয়ে যান। যাতে আমি এর ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি। এখান থেকে পানি পান করতে পারি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমের সন্তান, তুমি কি আমার সঙ্গে ওয়াদা করোনি, এর পর থেকে আমার কাছে আর কিছু চাইবে না? সে বলবে, হ্যাঁ, হে রব! এটাই শেষ। এরপর আর কোনো কিছু চাইব না। তখন আল্লাহর সঙ্গে সে অঙ্গীকার করবে, এর পর থেকে সে আর কোনো কিছু চাইবে না। আল্লাহ তাআলা এ বান্দার ধৈর্যচ্যুতি দেখে তার অপারগতা গ্রহণ করবেন। জান্নাতের কাছে আসার পর সে জান্নাতবাসীর আওয়াজ শুনতে পাবে। সে বলবে, হে রব, আমাকে এখানে ঢুকিয়ে দিন। তখন তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে, এখানে আমি কিভাবে থাকব? মানুষ তো সব স্থান দখল করে আছে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদমের সন্তান, তোমাকে কী দিলে তুমি সন্তুষ্ট হবে? দুনিয়ার কোনো বাদশার মতো হলে তুমি সন্তুষ্ট হবে? সে বলবে, হ্যাঁ, হে রব, আমি সন্তুষ্ট হব। তখন তিনি বলবেন, তোমাকে এর চেয়ে বেশি, এর চেয়ে বেশি, এর চেয়ে বেশি, এর চেয়ে বেশি দিলাম। পঞ্চমবারে সে বলে উঠবে, হে রব, আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলবেন, এগুলোর সঙ্গে তোমাকে আরো দশ গুণ বাড়িয়ে দিলাম। তোমার চোখ ও মনের সব কামনা-বাসনা পূরণ করো। আল্লাহ তাআলা তাকে আরো বলবেন, তুমি কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা করো। আল্লাহ তাআলা তাকে বলে দেবেনএটা চাও, এটা চাও। যখন তার আশা-আকাঙ্ক্ষার সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে তার প্রাসাদে প্রবেশের অনুমতি দেবেন।

লেখক : রিসার্চ ফেলো, সেন্টার ফর ইসলামিক থট, বাংলাদেশ

ইসলাম ও জীবনযাপন- এর আরো খবর