English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পবিত্র কোরআনের আলো: ধারাবাহিক

অমীমাংসিত বিষয় ‘রুহ’

  • কালের কণ্ঠ অনলাইন   
  • ২১ আগস্ট, ২০১৮ ১২:১৫

৮৫. তারা তোমাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলে দাও, রুহ আমার রবের হুকুমঘটিত বিষয়। কিন্তু তোমরা সামান্য জ্ঞানই লাভ করেছ। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৫ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে রুহ বা প্রাণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। রুহ বা আত্মা যৌগিক নাকি মৌলিক পদার্থএ প্রসঙ্গে দার্শনিকদের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকেই মতভেদ চলে আসছে। ইমাম গাজালি, ইমাম রাজি এবং বেশির ভাগ সুফি দার্শনিকের অভিমত হলো, রুহ কোনো যৌগিক পদার্থ নয়; বরং এটি একটি সূক্ষ্ম মৌলিক পদার্থ। কিন্তু বেশির ভাগ আলেমের মতে, রুহ একটি সূক্ষ্ম দেহবিশিষ্ট বস্তু। এ অভিমত অনুযায়ী রুহ যদি সূক্ষ্ম দেহবিশিষ্ট কোনো বস্তু হয়, তাহলে সেটা ফুঁকে দেওয়ার অনুকূল। আর যদি রুহকে সূক্ষ্ম পদার্থ মেনে নেওয়া হয়, তাহলে রুহ ফুৎকার করার অর্থ হলো মানবদেহের সঙ্গে তার সংযোগ স্থাপন করা।

কখন এই সংযোগ স্থাপন করা হয়? মহান আল্লাহ মায়ের গর্ভে মানুষের আকৃতি সৃষ্টি করে তার ভেতর রুহ দান করেন। তখন তার ভাগ্যলিপিতে কিছু বিষয় লিখে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক মানুষ তার মায়ের পেটে ৪০ দিন বীর্যরূপে জমা থাকে। তারপর পরিবর্তিত হয়ে রক্তপিণ্ডের আকার হয়। এরপর পরিবর্তিত হয়ে মাংসপিণ্ড হয়। অতঃপর আল্লাহ তার কাছে ফেরেশতা পাঠিয়ে রুহ ফুঁকে দেন। আর তার প্রতি চারটি নির্দেশ দেওয়া হয়। লিখে দেওয়া হয় তার আয়ু, তার জীবিকা, তার আমল এবং সে দুর্ভাগা, না সৌভাগ্যবান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৩২)

প্রশ্ন হলো, রুহ কি মারা যায়, নাকি শুধু শরীর মারা যায়? এর জবাবে ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর রুহ নামক গ্রন্থে লিখেছেন : সাধারণভাবে বলা হয়, আত্মার মৃত্যু মানে শরীর থেকে তা আলাদা হওয়া ও বের হয়ে যাওয়া। এটাকে মৃত্যু ধরা হলে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে আত্মা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী। আর যদি বলা হয় যে আত্মার মরে যাওয়া মানে তা বিলীন হয়ে যাওয়া, একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাওয়াএই দৃষ্টিকোণে আত্মা মরে না। বরং তা শরীর থেকে বের হওয়ার পর নিয়ামত বা আজাব ভোগের স্থানে অবশিষ্ট থাকে।

মৃত্যুর পর মানুষের আত্মা দুনিয়ায় ফিরে আসে না। হিন্দু ও বৌদ্ধদের ধারণা অনুযায়ী, মানুষ পৃথিবীতে সৎকর্মশীল হলে মৃত্যুর পর তারা সৎ মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে পুনর্জন্ম লাভ করে ফিরে আসে। আর অসৎ মানুষ কুকুর, বিড়াল, শূকর ইত্যাদি পশু ও কীটপতঙ্গের আকৃতিতে পুনর্জন্ম লাভ করে। কারো কারো মতে, অসৎ মানুষ পৃথিবীতে অন্ধ, বধির, খোঁড়া হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কোনো মানুষ মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম লাভ করে আবার দুনিয়ায় আগমন করতে পারে না। কেননা মৃত্যুর পর ঈমানদার সৎকর্মশীল মানুষের রুহ ইল্লিয়্যীন নামক জায়গায় অবস্থান করে। তাতে তারা কিয়ামত পর্যন্ত পরম শান্তিতে অবস্থান করবে। হাশরের দিন বিচারকাজ শেষে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর অবিশ্বাসী ও পাপী লোকদের রুহ সিজ্জিন নামক জায়গায় অবস্থান করে। এটি একটি বন্দিখানা, এতে তারা হাশরের মাঠে বিচারকাজ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অশান্তি ভোগ করতে থাকবে। বিচারকাজ শেষে তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (দেখুন সুরা : মুতাফিফফীন, আয়াত : ৭-১৮)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

ইসলাম ও জীবনযাপন- এর আরো খবর