English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

উনারা আইন জানেন না: আইনমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক   
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫২

বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আজ রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করা হয়।

আগামীকাল সোমবার এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

এদিকে কারাভ্যন্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাতে খালেদা জিয়ার বিচার করা না হয় সেজন্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেনসুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নেতৃবৃন্দ। আজ দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আবেদন দিয়েছেন সমিতি নেতারা।

তবে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে কারাগারের মধ্যে আদালত বসানো হয়েছে-বিএনপি আইনজীবীদের এমন দাবির বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি সাংবাদিকদের বলেন, উনারা আইন জানেন না।

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণসহ সারাদেশে আদালত এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাদের সাক্ষাৎ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারের জন্য কারাগারের ভেতরে একটি কক্ষে বিশেষ আদালত বসানোর প্রেক্ষাপটে আজ দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে আজ বেলা একটা ২০ মিনিটে একদল আইনজীবী প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় প্রবেশ করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট মীর নাসিরউদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, সমিতির বর্তমান সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা ও ড. গোলাম রহমান ভুইয়া প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

তারা সমিতির পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ না করেই কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এতে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায় উপেক্ষা করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগ নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই কারাগারের ভেতর থেকে আদালত সরাতে বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতি হস্তক্ষেপ কাম্য। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যেন পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেজন্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চান এ আইনজীবীরা।

পরে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান বিচারপতি ধৈর্য সহকারে বক্তব্য শুনেছেন। তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন, বিষয়টি দেখবো। এ অবস্থায় আমরা আশা করি প্রধান বিচারপতি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এরকম আদালত স্থানান্তর করতে হলে বা কোনো পদক্ষেপ নিতে হলে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে বিষয়টি আইনজীবীদের অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট আদালতের একটি জুডিশিয়াল আদেশ দিতে হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা করেনি আদালত।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে যাবার কিছুক্ষণ পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় বেলা সোয়া দুইটা থেকে সোয়া তিনটা পর্যন্ত একঘণ্টা ছিলেন আইনমন্ত্রী। পরে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ঈদের পর এটা ছিল সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকার।

কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপন নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ করেছেন-এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপনার কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন যে আইন মন্ত্রণালয় বেআইনিভাবে কারাগারের ভেতর আদালত স্থাপন করে গেজেট জারি করেছে। এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা যদি বলে থাকে তবে বলবো, উনারা আইন জানেন না।

মানববন্ধন

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, মীর নাজির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল, মহসীন মিয়া, খোরশেদ মিয়া আলম, কামরুল ইসলাম সজল, শরীফ ইউ আহমেদ প্রমুখ আইনজীবী।

আইন-আদালত- এর আরো খবর