English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

কাল শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনানি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক    
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:২১

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের ওপর আগামীকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানি হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার এক আদেশে আদালত শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু কুমার রায়।

গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে শহিদুল আলমের জামিন আবেদন করা হয়। আজ সোমবার এই শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবদেন জানিয়ে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে শুনানি করবেন। তাই সময় দরকার। আদালত সময় মঞ্জুর করে বলেন, যেহেতু ছয় দিন ধরে আবেদনটি রয়েছে তাই এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা যেন লিখিতভাবে দাখিল করা হয়।

গত ৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে ড. শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় ৬ আগস্ট তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১২ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে তার জামিন আবেদন করা হলে ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় শুনানির তারিখ এগিয়ে আনতে গত ১৯ আগস্ট আবেদন করা হলে তা গ্রহণ করেননি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। এরপর শহিদুল আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন করা হয় ২৬ আগস্ট। কিন্তু তা গ্রহণ করেননি আদালত। এ অবস্থায় ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।

এর আগে রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ আগস্ট রিট আবেদন করেন শহিদুল আলমের স্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ। ওই দিনই হাইকোর্ট এক আদেশে শহিদুল আলমকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের আদেশের পর বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, শহিদুল আলমের শারীরিক অবস্থা ভালো। পরবর্তীতে হাইকোর্ট গত ৯ আগস্ট পৃথক এক আদেশে শহিদুল আলমের ওপর মানসিক নির্যাতন হয়েছে কিনা- তা পরীক্ষা করে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন ড. শহিদুল আলম। সেখানে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন। একইসঙ্গে গত ৪ ও ৫ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন-আদালত- এর আরো খবর