English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

ইছামতির ভাঙন, ঝুঁকিতে সড়ক-সেতু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:২৮

মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলেই নদীতে তলিয়ে যাবে উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পাঁচ ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পারুয়া ডিসি সড়ক। এ ছাড়া সড়কে নির্মিত লাঠিছড়া সেতুও ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন : জিগারুল ইসলাম জিগার, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর এলাকায় ইছামতীর নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

চলতি মৌসুমে এই স্থানে ভাঙনে বিলীন হয়েছে শতাধিক পরিবার। নদীর ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, ১০টি মসজিদসহ ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আর মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলে বিলীন হবে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারুয়া ডিসি সড়ক এবং এই সড়কে নির্মিত লাঠিছড়া সেতু। রাক্ষুসে ইছামতীর ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে বাঁচতে ব্লক স্থাপনের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। পারুয়া ডিসি সড়কের সৈয়দনগর এলাকার নদীপাড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন এলাকার প্রায় কয়েক হাজার জনসাধারণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর এলাকা দিয়ে ইছামতী নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই এলাকার লাঠিছড়া এলাকা থেকে পারুয়া রাবারড্যাম পর্যন্ত নদীর দেড় কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙনে চলতি মৌসুমে ভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে পারুয়া ডিসি সড়ক।

এই এলাকা দিয়ে আর মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলেই নদীতে তলিয়ে যাবে উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ৫ ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পারুয়া ডিসি সড়কটি। এছাড়া এই এলাকা দিয়ে সড়কে নির্মিত লাঠিছড়া সেতুটিও ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনে এলাকার মানুষ কষ্টে আছে। ভাঙন রোধে গত বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদের সুপারিশ সম্বলিত একটি আবেদন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা কাদেরীয়া তৈয়্যবীয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নুরুন্নবী আলকাদেরী বলেন, ইছামতীর ভাঙন এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি ফুলে এই এলাকা প্লাবিত হয় এবং প্রায় সারা বছর ধরে নদীতে ভাঙন লেগেই থাকে।

নদী থেকে প্রায় কয়েক শ ফুট দূরত্বে থাকলেও বর্তমানে একেবারে নদীর পাড়েই ভাঙনের কবলে পড়েছে এই এলাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সৈয়দনগর কাদেরীয়া তৈয়্যবীয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদরাসা, এতিমখানা, হেফজখানা, কদেরীয়া তৈয়বীয়া একাডেমি, প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তালুকদার বাড়ি সড়ক, ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কান্তর আলী সিকদার সড়কসহ এই এলাকার প্রায় ১০টি মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

মাদরাসাটির পরিচালনা পরিষদ সভাপতি কাজী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনে আর মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলেই পারুয়া ডিসি সড়ক ও লাঠিছড়া সেতু ইছামতীতে তলিয়ে যাবে।

এতে ৫ ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগে চরম দুর্ভোগে পড়বে। এছাড়াও এই এলাকার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভাঙলে অনিশ্চয়তায় পড়বে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারুয়া ডিসি সড়কসহ এলাকা রক্ষায় আমরা ইতোমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা ইতোমধ্যেই এই ব্যাপারে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আশাকরি চলতি অর্থবছরেই ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন- এর আরো খবর