|
|
বিনা বিচারে ১১ বছর বন্দি যুবক হারুন জামিন পেলেন'নামাজ পড়ে কালের কণ্ঠের জন্য দোয়া করব'
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বিনা বিচারে ১১ বছর বন্দি যুবক হারুনকে গতকাল মঙ্গলবার জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গতকাল হারুনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান। ২৮ মে কালের কণ্ঠে 'বিনা বিচারে ১১ বছর বন্দি যুবকের আকুতি, ভিখারিনী মাকে একবার দেখার সুযোগ দিন' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হলে হারুনকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে এগিয়ে আসেন অনেকে।
হারুনের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট এলিনা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা আদালতে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের কপি এবং মামলার অন্যান্য কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। আদালত পর্যালোচনা কোয়াশমেন্টপূর্বক হারুনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। পরে এ মামলা থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় মো. হারুনকে পুরোপুরি মুক্ত করা হবে।' শুনানিতে তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট রেজিনা মাহমুদ। জামিনের আদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পেঁৗছার পরপরই হারুনকে মুক্তি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের খুলশী থানা পুলিশের হাতে জননিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় ২০০১ সালের ৫ মার্চ কিশোর বয়সে গ্রেপ্তার হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন হারুন। ২০০২ সালের ২৩ জানুয়ারির পর হাজিরা না থাকায় হারুনকে আর আদালতে হাজির করা হয়নি। সেই থেকে বিনা বিচারে বন্দি ছিলেন হারুন। তাঁকে মুক্ত করতে কারা কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের কাছে একটি পত্র লেখে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
কালের কণ্ঠে সংবাদটি প্রকাশের পরপরই প্রথমে এগিয়ে আসেন প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শরিফুল ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ ফারুকী এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর) প্রকৌশলী বনজ কুমার মজুমদার। অন্য একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী হারুন মুক্ত হলে তাঁকে ব্যবসা কিংবা রিকশা কেনার জন্য টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এলিনা খান বলেন, 'আমরা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হারুনের জামিনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এটাই বড় আনন্দের কথা। আমাদেরকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উচ্চ আদালত থেকে নকল তুলে দিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা দিয়েছেন ব্যাংকার এস এ ফারুকী।'
বন্দি ছেলের জামিনের খবর শুনে অন্যের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রংপুর থেকে হারুনের মা জুলেখা বেগম (৬৫) গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মোর ছেলেরে দেহি না প্রায় ১৪ বছর। এহন ছেলেরে বুকে ফিরে পামু, মরার আগে ছেলেটার দেহুম।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার ছেলেকে মুক্ত করতে যাঁরা উদ্যোগ নিয়েছেন, সবার জন্য আমি আজীবন আল্লাহর কাছে দোয়া করব।'
হারুনের জামিন পাওয়ার খবর শুনে খুশি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগীর মিয়াও। তিনি বলেন, 'আমি অভিভূত, খুশিতে উদ্বেলিত। বিনা বিচারে বন্দি থাকা একজন হাজতিকে উচ্চ আদালতের আদেশে মুক্তি দেব_এটাই বড় আনন্দের বিষয়।'
গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদক চট্টগ্রাম কারাগারে গেলে জেল সুপার হারুনকে ডেকে এনে তাঁকে জামিন পাওয়ার খবর দেন। খবর শুনে বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী হারুন হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। কোনো রকমে কান্না থামিয়ে তিনি বলেন, 'জেল সুপার স্যার কালের কণ্ঠ পত্রিকায় আমাকে নিয়ে খবর বের হওয়ার খবর জানানোর পর আমার মুক্তি পাওয়ার আশা বড় হয়ে উঠেছিল। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কালের কণ্ঠ এবং আর যাঁরা আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন সবার জন্য সব সময় দোয়া করব।'
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামহারুনের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট এলিনা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা আদালতে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের কপি এবং মামলার অন্যান্য কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। আদালত পর্যালোচনা কোয়াশমেন্টপূর্বক হারুনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। পরে এ মামলা থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় মো. হারুনকে পুরোপুরি মুক্ত করা হবে।' শুনানিতে তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট রেজিনা মাহমুদ। জামিনের আদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পেঁৗছার পরপরই হারুনকে মুক্তি দেবে কারা কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের খুলশী থানা পুলিশের হাতে জননিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় ২০০১ সালের ৫ মার্চ কিশোর বয়সে গ্রেপ্তার হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন হারুন। ২০০২ সালের ২৩ জানুয়ারির পর হাজিরা না থাকায় হারুনকে আর আদালতে হাজির করা হয়নি। সেই থেকে বিনা বিচারে বন্দি ছিলেন হারুন। তাঁকে মুক্ত করতে কারা কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের কাছে একটি পত্র লেখে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
কালের কণ্ঠে সংবাদটি প্রকাশের পরপরই প্রথমে এগিয়ে আসেন প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শরিফুল ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ ফারুকী এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর) প্রকৌশলী বনজ কুমার মজুমদার। অন্য একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী হারুন মুক্ত হলে তাঁকে ব্যবসা কিংবা রিকশা কেনার জন্য টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এলিনা খান বলেন, 'আমরা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হারুনের জামিনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এটাই বড় আনন্দের কথা। আমাদেরকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উচ্চ আদালত থেকে নকল তুলে দিয়ে আর্থিকভাবে সহযোগিতা দিয়েছেন ব্যাংকার এস এ ফারুকী।'
বন্দি ছেলের জামিনের খবর শুনে অন্যের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রংপুর থেকে হারুনের মা জুলেখা বেগম (৬৫) গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মোর ছেলেরে দেহি না প্রায় ১৪ বছর। এহন ছেলেরে বুকে ফিরে পামু, মরার আগে ছেলেটার দেহুম।' কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, 'আমার ছেলেকে মুক্ত করতে যাঁরা উদ্যোগ নিয়েছেন, সবার জন্য আমি আজীবন আল্লাহর কাছে দোয়া করব।'
হারুনের জামিন পাওয়ার খবর শুনে খুশি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ছগীর মিয়াও। তিনি বলেন, 'আমি অভিভূত, খুশিতে উদ্বেলিত। বিনা বিচারে বন্দি থাকা একজন হাজতিকে উচ্চ আদালতের আদেশে মুক্তি দেব_এটাই বড় আনন্দের বিষয়।'
গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদক চট্টগ্রাম কারাগারে গেলে জেল সুপার হারুনকে ডেকে এনে তাঁকে জামিন পাওয়ার খবর দেন। খবর শুনে বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী হারুন হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। কোনো রকমে কান্না থামিয়ে তিনি বলেন, 'জেল সুপার স্যার কালের কণ্ঠ পত্রিকায় আমাকে নিয়ে খবর বের হওয়ার খবর জানানোর পর আমার মুক্তি পাওয়ার আশা বড় হয়ে উঠেছিল। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কালের কণ্ঠ এবং আর যাঁরা আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন সবার জন্য সব সময় দোয়া করব।'
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com








