|
|
« পূর্ববর্তী সংবাদ |
ঝরে পড়া রোধ ও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এরই একটি বিদ্যালয়ে মিনি পার্ক স্থাপন ও বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক পাকা করা। উপজেলার ৬০টি স্কুলে ২০১০ সালে নির্মাণ করা হয়েছে মিনি পার্ক। ৮০টি বিদ্যালয়ের সামনের সংযোগ সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা পরিষদ। ২৫টি বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
আহা কী আনন্দ!
৯৫ নম্বর হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রবিবার সকাল ৮টা। দোলনায় দুলছে রফিকুল, রায়হান ও সুজন নামের ১৩ থেকে ১৪ বছরের তিন কিশোর। বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র আরিফ, সফিক, তুহিন ও ফিরোজ দোলনায় ওঠার অপেক্ষায়। ক্লাস শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। কিন্তু দোলনায় দোলার মজা নিতে ওরা আগেভাগেই বিদ্যালয়ে হাজির।
বিনোদনের খুব বেশি ব্যবস্থা না থাকলেও স্নোপার, দোলনা পেয়েই ছেলেমেয়েরা খুশি। ৫০টি স্কুলে বর্তমানে চলছে মিনি পার্ক স্থাপনের কাজ। এক মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে জানান উদ্যোক্তা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান।
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল শুরুর এক-দেড় ঘণ্টা আগেই শিক্ষার্থীরা স্কুলে চলে আসে। এ ছাড়া টিফিনের অবসরে কিংবা ছুটির পর এক-দেড় ঘণ্টা খেলনা নিয়ে চলে ওদের দুরন্তপনা।
মদনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে উপস্থিতি আগের বছরগুলোয় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সব শিক্ষার্থীই নিয়মিত স্কুলে আসে।
বিখ্যাতদের নামে শ্রেণীকক্ষ
কোমলমতি শিশু-কিশোরদের সঙ্গে দেশের বীরশ্রেষ্ঠ, বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও মনীষীদের পরিচয় করিয়ে দিতে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলোর নাম তাঁদের নামানুসারে রাখা হয়েছে। উপজেলার ২৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তাঁদের ছবি। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, বেগম সুফিয়া কামাল, বেগম রোকেয়াসহ বরেণ্য সব ব্যক্তির নামে শ্রেণীকক্ষগুলোর নাম রাখা হয়েছে।
মাঠ এখন খেলার উপযোগী
উত্তর দাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি ব্যবহার করা যেত কেবল শুধু শুকনো মৌসুমে। বর্ষায় থাকত হাঁটুজল। বিলবিলাস, নাজিরপুর বোর্ড, নুরিয়া ও মদনপুরা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখন খেলাধুলার উপযোগী। কর্মসৃজন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ ভরাট করার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন ১২ মাসই খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে। নাজিরপুর বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রফিক জানায়, 'বর্ষার সময় আমরা মাঠে খেলতে পারতাম না, এখন সব সময় খেলাধুলা করতে পারি।'
মজিবুর রহমান জানান, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। ৮৮টি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করা হয়েছে। বাকিগুলোর ২০১২ সালের মধ্যে শেষ হবে।
মজা পুকুর খনন, মাছ ও সবজি চাষ
উপজেলার ৩৬টি বিদ্যালয়ে মজা পুকুর খনন করা হয়েছে। আরো ৬৩ পুকুর খননের কাজ ২০১২ সালের মধ্যে শেষ হবে। ইতিমধ্যে ১০টি পুকুরে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় মাছ চাষ শুরু হয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পতিত জমিতে সবজি চাষের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আয়ের টাকায় কিনে দেওয়া হবে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ। স্কুলের উন্নয়ন কাজেও ব্যয় করা হবে এ অর্থ।
এক মলাটে বিদ্যালয়ের তথ্য
বাউফল উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সার্বিক তথ্য নিয়ে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশ করা হয় 'তথ্য কণিকা'। ৪৭২ পৃষ্ঠার বইটিতে স্থান পেয়েছে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো, আসবাবপত্রের সংখ্যা, স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদ, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, শিক্ষকদের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল ফোন নম্বর, চাকরিতে যোগদানের তারিখ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে যোগদানের তারিখ। মজিবুর রহমান জানান, তথ্য কণিকায় সার্বিক তথ্য দেখে উপজেলার বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
ক্রীড়া-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার লক্ষ্যে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খানের উদ্যোগে গত বছর গঠন করা হয় বাউফল উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘ। ইতিমধ্যে উপজেলাজুড়ে এ সংগঠনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।
রাতেও চলে পাঠদান
উপজেলা পরিষদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় চলছে ভালো ফল করার প্রতিযোগিতা। তাই কেবল দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেখাপড়া সীমাবদ্ধ নেই, রাতেও চলে পাঠদান। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে রাতে চলে পাঠদান।
রাতের ক্লাসেও শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি। যে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে শিক্ষার্থীরা হারিকেন, মোমবাতি, কেরোসিনের ল্যাম্প কিংবা চার্জার নিয়ে উপস্থিত হয় বিদ্যাপীঠে। উপজেলার ৮৬ নম্বর স্বনির্ভর, নুরাইনপুর, দাশপাড়া মডেল, পূর্ব খাজুরবাড়িয়া, বগা ও আয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্ধ্যার পর একটানা তিন ঘণ্টা চলে পাঠদান।
বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ২০১০ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বাউফল উপজেলায় পাসের হার শতভাগ। এ ধারা অব্যহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন স্বপ্নদ্রষ্টা মজিবুর রহমান।
« পূর্ববর্তী সংবাদ |
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com








