|
|
« পূর্ববর্তী সংবাদ |
ঊর্ধ্বে ওঠার আহবান ব্লেকের
কূটনৈতিক প্রতিবেদকগ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে রবার্ট ব্লেক বলেন, ব্যাংকটির কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখা নিয়ে এবং গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজে কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এখনো দূর হয়নি।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লেক বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আগামী নির্বাচন কার অধীনে হবে, তা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন জানতে চাইলে ব্লেক ভবিষ্যতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার অংশগ্রহণ উপযোগী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফর্মুলা ঠিক করতে প্রধান দলগুলোর প্রতি আহবান জানান।
বাংলাদেশের দুই নেত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে কি না জানতে চাইলে ব্লেক বলেন, 'এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। আমরা আশা করব, বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সবার অংশগ্রহণমূলক একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের পন্থা খুঁজে বের করবে। আমরা আশা করি, এ দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আলোচনার মাধ্যমে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন এবং অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণ উপযোগী নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করবেন।'
গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্লেক বলেন, 'আমি বাংলাদেশে আমার সব বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ড. ইউনূসের এমন একজন যোগ্য উত্তরসূরি নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছি, যিনি একই সঙ্গে ব্যাংকটির সততা, কার্যকারিতা এবং অংশীদারদের স্বার্থ বজায় রাখতে পারবেন।'
সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট কি না_জানতে চাইলে ব্লেক বলেন, 'সরকার তাদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে। আর আমি আমার সরকারের বক্তব্য তুলে ধরেছি।'
ব্লেক গতকাল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখা পরিদর্শনকালে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে ছিল, আছে, থাকবে।'
সংবাদ সম্মেলনে ব্লেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ ধরনের সম্ভাবনা সম্পর্কিত কোনো তথ্য এখন তাঁর কাছে নেই।
বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যের অভ্যুত্থান চেষ্টার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার উৎখাত চেষ্টার নিন্দা জানায়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে।'
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নাশিদকে উৎখাতের পর নতুন প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগত জানানোর কথা প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকরা বাংলাদেশে এ ধরনের কিছু হলে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব কী হবে জানতে চান। জবাবে ব্লেক বলেন, এটি 'হাইপোথেটিক্যাল' বিষয়।
সংবাদমাধ্যম ও সুশীলসমাজের বিকাশ প্রশ্নে রবার্ট ও'ব্লেক বলেন, 'স্বাধীন সাংবাদিকতার এবং অত্যন্ত সক্রিয় বেসরকারি সংগঠনগুলোর কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমি সরকারে আমার বন্ধুদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই।' তিনি বলেন, 'সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা আমার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এনজিও আইনের যে খসড়া করা হয়েছে তাতে এনজিওর কাজের আওতা কমে যেতে পারে।'
ব্লেক আরো বলেন, 'এনজিওবিষয়ক ব্যুরো ওই আইনের বিষয়ে সুশীলসমাজের মতামত আহবান করেছে এবং এ বিষয়ে মতামত দিতে একজন আমেরিকান বিশেষজ্ঞকে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।'
ব্লেক বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে দুই দেশের জোরালো সহযোগিতা রয়েছে। পিস কোরের সদস্যরা যাতে এ দেশে আবারও এসে কাজ করতে পারে, সে সম্ভাবনা যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাগত জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রূপরেখা বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্লেক বলেন, 'চুক্তিটি স্বাক্ষর করার জন্য আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। দুই দেশের বাণিজ্য খুব দ্রুত উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। কাজেই সমপ্রসারিত বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে একটি কাঠামো তৈরি করার এখনই সবচেয়ে ভালো সময়।'
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্লেক বলেন, 'গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর যে বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে আমরা উল্লেখ করেছি, মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক। এ থেকে বাংলাদেশের উন্নতি করতে আরো কাজ করার সুযোগ রয়েছে।'
ভারত-বাংলাদেশের অমীমাংসিত সমস্যা নিরসনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর বিনিময় ও সহযোগিতার উদ্যোগকে ব্লেক স্বাগত জানান। ভবিষ্যতে নেপাল ও প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও এ ধরনের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি তাগিদ দেন।
সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যা প্রসঙ্গে ব্লেক বলেন, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব এটি সমর্থন করে না। বছরওয়ারি হিসাবে হতাহতের সংখ্যা কমে আসছে।
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের অস্ত্র কেনা প্রসঙ্গে ব্লেক বলেন, সামর্থ্য ও প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
ব্লেক ঢাকায় আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত জানিয়ে বলেন, 'ঢাকায় যেসব গতিশীল পরিবর্তন হচ্ছে, সেগুলো দেখার জন্য আসতে আমার খুবই ভালো লাগে।' 'জনসেবায় সিনেটর কেনেডির উদাহরণ বহু বাংলাদেশিকে অনুপ্রাণিত করেছে'_এ মন্তব্য করে তিনি এ প্রসঙ্গে বস্তির শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিকারী 'জাগো'র প্রতিষ্ঠাতা করভি রাকসান্দ এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট ইজাজ আহমেদের উদাহরণ দেন।
« পূর্ববর্তী সংবাদ |
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com








