ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০১১, ২৩ আষাঢ় ১৪১৮, ৪ শাবান ১৪৩২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : ফোকাস বাংলা
¦
« পূর্ববর্তী সংবাদ
আগামীর বাংলাদেশ হবে আধুনিক ও
ডিজিটাল : প্রধানমন্ত্রী
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১১ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এটুআই প্রোগ্রাম যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। মেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮০টি প্রতিষ্ঠান এবং ছয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদর্শন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার মেলার দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারী কমপক্ষে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১১ এর পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া মেলায় তথ্যপ্রযুক্তির ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মার্চ মাসে ঢাকায় প্রথম মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম খান এবং ঢাকা বিভাগের কমিশনার মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা সরকারি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। এ লক্ষ্যে সব সরকারি দপ্তরকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে ই-জিপি সিস্টেম ও ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার ইতিমধ্যে আইসিটি অ্যাক্ট-২০০৯ প্রণয়ন করেছে। অনুমোদন করা হয়েছে আইসিটি পলিসি ২০০৯। এর আওতায় সারা দেশে জেলা তথ্য বাতায়ন এবং ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণ ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্সসহ কম্পিউটারের সব ধরনের কাজ করতে পারছে। ইতিমধ্যেই ই-তথ্য কোষ চালু করা হয়েছে। এই তথ্যকোষে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও মানবাধিকার, নাগরিক সেবাসহ জীবন-জীবিকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। যে কেউ এখান থেকে প্রয়োজনমতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। প্রাপ্যতা সাপেক্ষে ঢাকার বাইরে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের সব উপজেলাকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮২-তে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লের সঙ্গে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। সাতটি বিভাগের ৫৬টি জেলায় ও ৫৭টি উপজেলাকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এ অর্থবছরে শেষ হবে। এক হাজার ইউনিয়নকে অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় আনার কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার জন্য ওয়াইম্যাঙ্ প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজ চলছে। তিনি বলেন, 'আমরা সরকারি কাজে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। সব সরকারি দপ্তরকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ই-জিপি সিস্টেম ও ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।' তিনি জানান, মাঠ প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সাতটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম চালুর কাজ এগিয়ে চলছে।
২০১২ সালের মধ্যে ই-কমার্স চালু করা হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার অদূরে হাইটেক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট স্থাপনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমাদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রয়েছে দক্ষ মানবসম্পদের সীমাবদ্ধতা। তাই বলে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপশাসন দূর করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, একটি জনমুখী সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা। জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।'
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, রেলওয়ের টিকিটসহ অনেক ধরনের সাধারণ সেবা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ফরম, সরকারি গেজেট, সরকারের বিশেষ ঘোষণা, ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট ও ভিসাসংক্রান্ত তথ্য, চাকরিসংক্রান্ত তথ্য, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সরকারি সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেবার অন্যতম সুবিধা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। জনগণের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তা করতে বদ্ধপরিকর। আর এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র : বাসস।
« পূর্ববর্তী সংবাদ
খবর -এর আরো সংবাদ
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৬২০২৭
পুরোনো সংখ্যা
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
free counters
Latest News Portal Food Recipe in Bangladesh jobs in Bangladesh